গল্পেরা জোনাকি তে রীতা চক্রবর্তী (পর্ব – ২৩)

নীল সবুজের লুকোচুরি
মিঠি কতক্ষণ যে এলবামটা বুকে জড়িয়ে ধরে বসে ছিল সেটা নিজেও জানে না। মাদারের ডাকে ও সম্বিত ফিরে পায়। মনে পড়ে ও একটা বিশেষ ছবি খুঁজতে এসেছিল। আরো মনে পড়ে ডাঃ আনসারি আজ ওর বাড়ির অতিথি!
—-
তুমি এখানে আর আমরা তোমার জন্য অপেক্ষা করে আছি, চল। মিঠি এলবামটা হাতে নিয়েই মাদারের সাথে চলে আসে। হাসি মুখে সেটা ডাঃ আনসারির দিকে এগিয়ে দিয়ে বলে, দেখুন তো এখানে পরিচিত কাউকে খুঁজে পাওয়া যায় কিনা! ডাঃ আনসারিও দু’হাত বাড়িয়ে এলবামটা নিয়ে নেয়। মুখে একটা কৌতুহলী হাসির রেখা ফুটে ওঠে। ছবিগুলো দেখতে দেখতে নানান মন্তব্য আর অভিব্যক্তি ওঁর চেহারায় খেলা করতে থাকে। হঠাৎই একটা ছবির ওপর আঙুল দিয়ে জিজ্ঞেস করে এটা কোথাকার ছবি? মিঠি মনে মনে ঠিক এটাই আশা করে ছিল। হাসি মুখে বলে, “কেন? ফটোটা সুন্দর হয়নি, তাইনা ? আমি জানতাম এরকম মাথা ঢেকে ঢেকে এপ্রোন পরে ফটো তুললে কাউকে কখনও চেনা যায়না। কিন্তু কে কার কথা শোনে! ডাক্তারদের নাকি ওরকম একটা ছবি রাখতে হয়!তাকে কে বোঝাবে যে ছবিতে মুখটাই যদি ভাল করে না বোঝা যায় তবে সেটা ভালোলাগেনা, আর কেউ ওরকম ফটো দেখতেও চায়না। এই ছবিটা যার আগ্রহে তোলা হয়েছিল সে তো কারো কোনো কথা শুনতেই চায়না।”
ডাঃ আনসারি তখন করুন মুখে বলেন, “আমি তোমাকে সেটা বলতে চাইনি। তোমার যদি আমার জানতে চাওয়াটা খারাপ লেগে থাকে প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দিও। আমি তো শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম ওটা কবে, কোথায় তুলেছ!” মিঠি হেসে ফেলে। বলে, এমা, আপনি প্লিজ ওভাবে বলবেন না। আর এই ছবিটা তো ফ্লোরিডার “মিট ইয়োর হার্ট টু দ্য ওয়ার্ল্ড, ফর দ্য ওয়ার্ল্ড” এর ছবি। সেবছর সেরা শতকে আমার নামটা ছিল বলে একটা চান্স পেয়ে গিয়েছিলাম। তাই সেই সোনালী দিনে দেশ বিদেশের সাথীদের সাথে ফ্রেম শেয়ার করা হয়েছিল যাতে দুরে চলে গেলেও কেউ যেন মন থেকে মুছে না যায়। আয়ান মিঠিকে ছবিটার একটা জায়গা দেখিয়ে বলে,”একে হয়ত তুমি চেন। আমি এর ডাক্তারি সম্বন্ধে কিছু বলব না। শুধু ব্যক্তিগতভাবে এর সঙ্গে আমার যে সম্পর্ক আছে সেটা বলছি। এই হল আরিয়ান আনসারি। সম্পর্কে আমরা পিতা পুত্র, তবে সুদুরের অধিবাসী।
আসছি পরের পর্বে