সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ৩২)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা :
চতুর্দশ অধ্যায় : গুণত্রয় বিভাগ যোগ : প্রথম পর্ব :
ভগবান অর্জুনকে বললেন যে পুনরায় উনি জ্ঞান তত্ত্বকে বিশ্লেষণ করবেন। জ্ঞান সর্বোত্তম। মুনিগণ এই যোগ সম্পর্কে অবগত হয়ে এই জড় জগৎ থেকে পরম সিদ্ধিলাভ করেছিলেন। এই জ্ঞান আশ্রয় জীব তাঁর পরা প্রকৃতি লাভ করে। সৃষ্টি বা ধ্বংস কোনভাবেই তাঁকে প্রভাবিত করে না।
তিনি আরো বললেন যে এই প্রকৃতি সম্পর্কিত ব্রহ্ম তাঁর যোনীস্বরূপ এবং সেই ব্রহ্মে উনি বীজ প্রদান করে থাকেন। এর ফলে জীবের জন্ম হয়। তাই ব্রাহ্মরূপী যোনী তাঁদের জননী এবং তিনি স্বয়ং বীজ প্রদানকারী পিতা।
অর্জুনকে পরমেশ্বর বললেন এই প্রকৃতি থেকেই ত্রিগুণের জন্ম। সত্ত্ব, রজ ও তম। এই তিনটি গুণ দেহকে আশ্রয় করে জীবকে আবদ্ধ করে। সত্ত্ব নির্মল। প্রকৃত সুখ ও জ্ঞানের প্রতীক। রজগুণ তৃষ্ণা ও আসক্তির প্রতীক। এবং তমগুণ প্রমোদ, আলস্য ও নিদ্রার প্রতীক।
রজ ও তমগুণকে পরাভূত করে সত্ত্বগুণ প্রবল হয়ে ওঠে। তম ও সত্ত্বগুণকে পরাভূত করে রজ প্রবল হয়ে ওঠে। এবং সত্ত্ব ও রজগুণকে পরাভূত করে তমগুণ প্রবল হয়ে ওঠে। তাই জ্ঞানের প্রকাশ ঘটলে সত্ত্বগুণ বর্ধিত হয়। লোভ, কর্মের প্রতি স্পিহা বৃদ্ধি পেলে রজগুণের প্রকাশ ঘটে। এবং তমগুণ বর্ধিত হলে অজ্ঞান অন্ধকার, নিষ্ক্রিয়তা, প্রমোদ ও মোহ উৎপন্ন হয়।
সত্ত্বগুণকে আশ্রয় করে দেহত্যাগ করলে নির্মল উচ্চতর লোকসমূহ প্রাপ্ত হয়। রজগুণকে আশ্রয় করে জীব দেহত্যাগ করলে মনুষ্যকুলে জন্ম হয়। এবং জীব তমগুণকে আশ্রয় করে দেহত্যাগ করলে পশুযোনি প্রাপ্ত হয়।
ক্রমশ..