সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (সাবেক কথা – ৪)

সাবেক কথা
পিঁড়ি
” তপস্যা সমাধান করে এসো। হে নাবিক, আমি তোমার জন্য পেতে রেখেছি পিঁড়ি।”
…পিঁড়ি তো একটি যাতায়াত, এক অমোঘ চুম্বকীয় প্রতাপ। যার উচ্চারণে ক্ষ্যাপা হয়ে ওঠে দিব্যকান্ত পুরুষ অথবা নির্ভীক হয় শালুক পাতায় মোড়া তামাটে রঙের মেয়ে। যেভাবে আকন্দের কষ লাগলে চামড়ায় তীব্র টান পড়ে, অনুবাদ হয় শরীরী বাক্য,যেভাবে পতাকা উড়ে গেলে পড়ে থাকে কয়েকটা, মাত্র কয়েকটা দেশ সেভাবেই আজন্মকাল ভিখিরি সেজে পিঁড়ি অপেক্ষা করে দুয়ারে দরজায় কিম্বা বুকের বাঁদিকে। জনমানুষ ভুল করে। দোষ খোঁজে। গেঁথে দেয় পেরেক। পিঁড়ি নির্বিকার, অযুত ক্ষয় আর ক্ষমা তাঁর সমস্ত অস্তিত্ব জুড়ে।
লোকাচার অথবা উপেক্ষা। সাম্রাজ্য অথবা গাজন, ঐশী-বালক অথবা নক্ষত্র-মেয়ে…কোথায় লুকিয়ে রাখা আছে পিঁড়ির ভবিষ্যৎ? কোন রাস্তায় তাঁর নামে আছে আস্ত একটি ঘর? “মাফ করো প্রভু” আমরা বুঝিনি বোবা হলেই সে নিস্তব্ধী নয়। আমরা মানতে পারিনি সিংহাসনও আদতে একটি পিঁড়ি। অপেক্ষা ছাড়া আর কোনোরকম সংজ্ঞা বৈশিষ্ট্য কিছুই নেই তাঁর। অতএব, এযাবৎ কালের এটুকুই সম্বল, ক্লান্তিহীন দু’টো চোখ। নির্বিকার শান্ত দীর্ঘ নদী।
পিঁড়ির বিশেষণে এমন বাক্য লিখতে গিয়ে লেখকের মস্তিষ্ক কাঁপে ছিঁড়ে যায় যাবতীয় শিরা উপশিরার জাল ,শিকড় গজিয়ে ওঠে হাতের তালুতে, সেসময় কে যেন অলক্ষ্যে দাঁড়িয়ে হাতছানি দেয়, বলে, ” বৈদুর্য্য শেষ হলে এসো। সামান্যতম আক্ষেপ আর অভাব নিয়ে এসো,আমি সেই পথে দাঁড়িয়ে আছি যেখানে তুমি খুলে রেখেছিলে প্রাচীন পোশাক”
৫ ই জ্যৈষ্ঠ
রাত ১ঃ০৫
খড়দহ