কবিতায় সবর্না চট্টোপাধ্যায়
ফাগুন বসন্ত দিন
হাহাকার দিয়ে গেল সুখের পায়রাগুলো
দানা চাই, জল চাই, ছায়া চাই…
অশ্রুধারার মতো ক্ষীণ
চোখের এপার থেকে ওপার!
তুমি বলেছিলে, ‘ছোট্ট এক পাহাড়ি গ্রামে
তারাদের ঠিক নীচে একটা পৃথিবী আছে।’
আমি তাকে মেঘ দিয়ে সাজাব ভেবেছিলাম।
ভেবেছিলাম ঝরা পাতাদের মতো
ভবঘুরে হয়ে মেখে নেব হাওয়া।
দোতলার বারান্দা থেকে সেই প্রথম
‘ চোখ দুটো যেন জলজ্যান্ত মেঘালয় ‘!
তখন অসুখে জরায় জড়িয়েছি।
চুল উঠে গেছে মাথা থেকে। ঘুম আসে না
নিজেকে কুৎসিত ভেবে। অথচ যে শিশির
মাখব বলে জেগেছি কত ভোর,
ঝরে গেল ঘাসের ডগাতেই।
সে ফাগুন মনে পড়ে প্রতিবার। সে বসন্ত যেন
দগদগে ফোস্কার দাগ। সুখের পায়রাগুলো
উড়ে গেল সব একে একে…
দানা নেই, জল নেই, ছায়া নেই আর!
একযুগ কেটে গেল তবু
তোমার স্তব্ধতার মাঝে জড়ো হয়েছিল শব্দরা
গুমোট হাওয়ায় ছটফট করেছে
একটার পর একটা পুড়ে ছাই হয়েছে সিগারেট আর.
একএকটা কারখানায় বেড়ে গেছে ভূতের আড্ডা।
বন্ধ গেটের বাইরে ছত্রাকার শ্রমিক আন্দোলনে আগুন জ্বলছে তখন…
রঙীন কুশের পুতুল রামরাজ্যে ছাই উড়াচ্ছে আর রাবণ পোড়াব ভেবে মাথার চুল ছিঁড়ে
চলেছি চুপচাপ।
সেসব শব্দরা অজগরের নিঃশ্বাসে কিংবা জিভের ডগায় এসে হিস হিস আওয়াজ তুলেছে কখনো।
আমি সিঁটিয়ে থেকেছি সিঁড়ির অন্ধকারে তোমাকে হারিয়ে ফেলব ভেবে।
স্তনের ভেতর থেকে দুটো শেকড় নেমে গেছে মাটির গভীরে। শুষে নিয়েছে আত্মা !
শুধু একফালি রোদ এসে বারবার কাশ ফুলের মতো প্রলেপ দিয়ে গেছে …
যাকে ছুঁলে মনে হত, ‘এই তো বাবার পাশে
এই তো মায়ের কোলে, এই তো তোমার কাঁধে’
আজ একযুগ কেটে গেল তবু তুমি যেন সেই
মায়ের মুখের সেই চিবানো পানের পাতা!\
লেখারা যখন মরে
লেখারা যখন ভিতরে ভিতরে মরে
রাত জাগো অক্ষরে?
মদের গেলাস উথলে, ছলকে পড়ে —
কে যেন ক্রমশ পিছুডাকে, হাত নাড়ে
ফেলে আসা সব গোছানো বিছানা বালিশ
‘আদালত বোঝে খাতায় কলমে নালিশ’
জ্বর আসে, ব্যথা শিউরে শিউরে ওঠে
শিরদাঁড়া কাঁপে, রক্তের ধারা ছোটে।
সারা রাত জাগি। হয়নি তো তবু নালিশ?
শুধু জেদ দেখো? দেখো না নোনতা বালিশ?
হাসতে হাসতে কোথায় বৃষ্টি ঝরে?
আনমনা একা ঘরে
লেখারা যখন ভেতরে ভেতরে মরে!