ধারাবাহিক ভ্রমণ সিরিজে শতদ্রু ঋক সেন – ৬৭

ফেরা

আবার পরদিন সকালবেলা যাত্রা শুরু। সেই আঁকাবাঁকা পাহাড় বেয়ে রাস্তা। এদিন সকাল থেকেই ঘন কুয়াশায় ঢেকে ছিলো চারদিক, তার মধ্যে ফগ লাইট জ্বেলে আমাদের বাস চললো। বেশ ঠান্ডা, রাস্তায় গাড়ি ঘোড়াও কম। উত্তরকাশী ছাড়িয়ে বাস আরো চললো। সেকি, আমরা থাকবো না এখানে? ডাবলা দা জানালো যে আমরা আরো দশ কিমি দূরে নেটালা বলে একটা জায়গায় থাকবো। নেটালা আসলে জায়গা টা দেখে প্রেমে পড়ে গেলাম। নির্জন, কয়েকটা কাঠের বাড়ি আর হোটেল, নীচে খরস্রোতা গঙ্গা আর তার পাশে শিবানন্দ স্বামীর যোগ আশ্রম। ঘর দেওয়া হলে ঘরে ঢুকে দেখি, রাস্তার ধারেই ব্যালকনি। উঃ সারাদিন তো এখানে বসেই কেটে যাবে। একমনে বসে আছি, সম্বিত ফিরলো কুকের ডাকে। ও ঋকদাদা খাবেন চলুন। বাইরে তখন অঝোরে বৃষ্টি নেমেছে।

খাওয়ার টেবিলে পৌঁছে চমক। এই রকম আবহাওয়ার সাথে সামঞ্জস্য রেখে, খিচুড়ি, পাঁচ মেশালি সব্জি, পাঁপড় আর আচার। ফ্যান্টাস্টিক। মন ভরে খাওয়া দাওয়া করে লেপের তলায় গা এলানো। কখন ঘুমিয়ে পড়েছি, জানিনা।

ঘুম যখন ভাঙলো তখন প্রায় বিকেল। বৃষ্টি থেমে কাঁচা রোদে ঝিলমিল করছে চারদিক। চা আর সিগারেট খেয়ে হোটেলের সামনে অলস পদে পায়চারি। একটা দুটো ছোটো গাড়ির যাওয়া আসা। নাম না জানা পাহাড়ি পাখির ডাক। আর নীচে নদীর গর্জন। স্বর্গ মনে হলো যদি থাকে তো এখানেই।।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।