কবিতায় বলরুমে নিবেদিতা দে

মেঘমল্লার
বেড়াতে গিয়েছিল মেয়েটি মেঘমল্লার দেশে,তার মা বাবার সাথে।
মেঘালয় মেঘের দেশ
দিকেদিকে মেঘের ঘনঘটা আর মেঘেদের আনাগোনা।
সেখানে মেঘ-বৃষ্টির সখ্যতা জন্ম জন্মান্তরের। মেঘ কখনো বৃষ্টি কে প্রতীক্ষায় রাখে না। তবে অপেক্ষা করতে হয় বৈকি!
প্রকৃতিতে বৃষ্টিই একমাত্র স্বাধীন, সে নিজের ইচ্ছে মতোন আসে যায়। আবারও হারিয়ে যায়।
আপন ধারায় নামে, ভিজিয়ে দিয়ে যায় মহীরুহ তরুলতা মাঠ, ঘাট,পথ ,নদী,নালা আর যা কিছু সব।
টুপটাপ বৃষ্টির ধারা মেয়েটির আজানুকেশ ভিজিয়ে চিবুক, বুক, ওড়না ছুঁয়ে মেঘের দেশ তোলপাড় যেন ক্ষণে ক্ষণে শিব ঠাকুরের ডমরুর ডঙ্কা বাজে তার কায়া জুড়ে!
অষ্টাদশী মেয়েটির মনে,শরীরে জেগেছিল এক অদ্ভুত শিহরণ! বৃষ্টির জল ফোটায় ফোটায় গাছের সবুজ পাতায় টলমল। গাছের ডালে ডালে নতুন কুঁড়ির ছোঁয়া।
গাছের গর্ভে কিশলয়ের জন্ম হলে,অদ্ভুত এক অনুভুতি হয় তার মনে। হঠাৎ সমুদ্রপার থেকে একরাশ মেঘপুঞ্জ দলছুট হয়ে তাকে জড়িয়ে নিল। কিছুই দৃষ্টিগোচর হয় না আর।
একি মেঘমল্লার দেশেও মরীচিকা! নাকি কুহেলি কুয়াশা! দুহাত বাড়িয়ে দেখে হাত তার ভিজে গেছে কবেকার বৃষ্টির স্পদনে, কায়া জুড়ে আজানুকেশ ভিজিয়ে নিয়ে।
সে কী! কেমন করে মেঘমল্লার স্পর্শ করলো তাকে। জাগিয়ে গেল নতুন চেতনা। মেয়েটির জীবনেও শুরু হলো নতুন অধ্যায় নতুন সূচনা!
এরপর কতো রজণী, বছর, শতাব্দী পেরিয়ে গেছে।
মেয়ে টি আজও তোমার প্রতীক্ষায় তোমারই হয়ে অঝোর ধারে ভিজতে থাকে দূরে বহুদূরে মেঘমল্লার দেশে চেরাপুঞ্জিতে বারংবার।