হৈচৈ ছড়ায় অঞ্জলি দে নন্দী, মম

ভূতে খায় কলা

ঠাম্মা বলেছে,
এলে অমাবস্যা রাত।
কলা বাগানে ভূত আসে।
অঞ্জু তাই সেরাতে সেখানে বসে আছে।
ভূত যে হয় কেমন, দেখবে সে।
এগিয়ে চলেছে
গভীর হচ্ছে ঘন কালো রাত।
কারা যেন হিঁ হিঁ হিঁ করে হাসে?
হাসি আসছে ক্রমশ কাছে।
ভয়ে ভয়ে ভয়ে ভাবছে, কি দেখবে সে!
নিজের চোখে দেখল অঞ্জু যখন
খুব অবাক হল সে তখন।
দেখছি আমি এ কি রে!
একদল ভূত যে গাছ থেকে
ছিঁড়ে ছিঁড়ে ছিঁড়ে
খাচ্ছে পাকা কলা একে একে একে।
কঙ্কালের দেহ তাদের সবার।
শখ হল অঞ্জুর তাদের বান্ধবী হবার।
বলল সে তখন হেসে হেসে হেসে,
ও ভূতদল!
খাচ্ছিস তো তোরা পাকা ফল।
বল তো এখন আমায়, বল, বল, বল!
হবি তোরা আমার বন্ধু ওরে?
ভূতদল তখন এলো তেড়ে।
বলল তারা সমস্বরে,
তুই কেঁ রে? তুই কেঁ রে?
এঁখন আঁমরা খাঁবো তোরে;
এঁকসঙ্গে সবাঁই মিলে;
কচ কচ কচ করে
চিঁবিয়ে চিঁবিয়ে, খাঁবো তোরে
গপাঙ গপাঙ করে
গিলে গিলে গিলে।
শুনে সে সব কথা,
অঞ্জু পালিয়ে ছুটে এলো
নিজেদের বাড়ীতে তখন।
নিজের শোবার ঘরে ঢুকে
ঢোক ঢোক ঢোক করে জল খেলো।
ওকে ঠাম্মা দেখলো যখন
জিজ্ঞাসা করল সে হাসি মুখে,
“ও অঞ্জু কি হল রে তোর?”
অঞ্জু বলল, ‘ও ঠাম্মা সত্যিই বলেছিলে;
এখন তো অমাবস্যার আঁধার, ঘন ঘোর।
আর কলা বাগানে ভূতদল
এখন খাচ্ছে পাকা কলা, সবাই মিলে।’
ঠাম্মা বলল, “কই এক্ষুনি আমার সঙ্গে চল!
দেখি কেমন আমার কলা যত
খেয়ে সাবার করছে বদমাশ যত,
শয়তান, হাভাতে ভূতদল;
সবক’টাকে তাড়াবো চিরকালের তরে।”
এই বলে ঠাম্মা চলল বাগানে অঞ্জুর হাত ধরে।
সেখানে গিয়ে ঠাম্মা চেপে চেপে চেপে ধরে
ভূতেদের গলা এক এক এক করে।
আর বলে, ঘাড় ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে
আমি এখন মারবো তোদের, একে একে একে।
সব কলা খেয়ে তোরা দিলি ফুরিয়ে।
অঞ্জু তো ভয়ে ওঠে কেঁপে
ঠাম্মার এই কান্ড দেখে।
আরে এ কি রে!
সত্যিই তো রে!
ভূতদল বলছে একই সুরে,
“আমরা চলে যাচ্ছি এখনই বহুদূরে!
ও ঠাম্মা আমাদের তুমি দাও গো ছেড়ে!”
ঠাম্মা তখন ওদের দিল ছেড়ে।
আর ওরা পালালো ছুটে।
অন্ধকার এখন বাগানে, ঘুটঘুটে।
এরপর আমরা দুজনে বাড়িতে ফিরে এলাম।
মনে বড় শান্তি পেলাম।
ঠাম্মা আর আমি যে যার
নিজের বিছানায় শুতে গেলাম।
এরপর থেকে আমাদের বাগানে ভূতদল
কোনরাতে আসে নি আর।
তাই আমরাই খেতাম যত পাকা ফল।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।