নাট্য-নাটিকায় দেবাশীষ মণ্ডল – ২

কাল্পনিক কৌতুক নাটক – “কৈলাসে পদ বদল”
১ ম দৃশ্য
(কৈলাস ধামের প্রবেশ পথ)
(যুবক নারায়ণ বলতে বলতে কৈলাসে আসে )
নারায়ণ। চাকরি চাই ,চাকরি দাও। আমার দাবি মানতে হবে, নইলে গদি ছাড়তে হবে। চাকরি চাই চাকরি দাও।এ ,এত দিনের পড়াশুনার চাকরি গুলো কোথায় গেল? মা সরস্বতী জবাব চাই ,জবাব দাও। চাকরি, চাকরি, চাকরি চাই, চাকরি দাও।এ চাকরি আমায় দিতেই হবে,নইলে ————-
(সহসা নারদের প্রবেশ)
নারদ। মোবাইল! মোবাইল।কে গা তু্মি এসেই আন্দোলন শুরু করছো! তুমি জানো, তুমি কোথায় এসেছো !এটা হলো গিয়ে কৈলাস। মোবাইল, মোবাইল।
নারায়ণ।সে লাশ খুঁজুন আমি এখনো জ্যান্ত আছি। তাতেই বা কি লাভ।লাশ হতে তো আর দেরী নাই। আমার চাকরি চাই, চাকরি দাও।না হলে এ আন্দোলন চলছে ,চলবে।
নারদ। আমি চাকরি দেবার কে।আর এ কৈলাসে কোনো পদ খালি নেই। বলতে গেলে সব পদ ওলোট,পালট হয়ে গেছে, ভোটাভুটি হয়ে।ঐ যে মানে নির্বাচন,চুনাব,ইলেকশন হয়েছে মশাই। আপনি তো দেখছি কিছুই খবর রাখেন না ।তা কোথার থেকে আসা হয়েছে আপনার। নিশ্চয়ই মর্ত্য থেকে। আপনার গায়ে কেমন যেন মানুষ মানুষ গন্ধ বেরোচ্ছে।
নারায়ণ।হা আমি মানুষ! তবে আর নেই।
নারদ।কেন দু’মিনিট কৈলাসে এসে নিজেকে দেবতা ভাবছেন নাকি হে?
নারায়ণ।না তা নয়।এই পড়াশুনা করে বেকার রয়েছি তাই নিজেকে আর মানুষ বলে ভাবতেই পারছিনা।জানেন তো মর্তে যার চাকরি নেই তার বেঁচে থাকাটা খুব কষ্টের।
নারদ।কষ্ট!হে ওটা কি জিনিষ। মোবাইল, মোবাইল।এ মোবাইল এ সার্চ করে দেখে নিব না হয়।কিন্তু তোমার চাকরী তো সরস্বতী মা দিতে পারবেন না।এতে তো মায়ের হাত নেই!
নারায়ন।বললেই হলো হাত নেই।মা সরস্বতী হলেন গিয়ে বিদ্যার দেবী।তাই চাকরি দেবার হাতটা তো মা সরস্বতীর থাকবে নাকি!
নারদ। ঐ যে বলুম।ভোট মানে নির্বাচন হয়েছে যে কৈলাসে।তাই মা সরস্বতীর আর ঐ পদ নেই।আমার তো ভাই নারায়ণ, নারায়ণ করা পদ নেই,তাই এখন মোবাইল বাজায়।গান শুনি। সিনেমা দেখি
।ঐ যে নতুন সিনেমা দেখেছ?পুষ্পা ঝুকেগা নেহি শা……।না মানে তোমাকে তো ঝুঁকতে হবে ভাই।কারন ঐ দপ্তর তো এখন কার্তিকের হাতে আছে।যদি আন্দোলন করতে হয় কার্তিকের নামে করো।
নারায়ণ। এ্যা। পড়াশুনার দ্প্তর কার্তিক দেখছে!বলেন কি মশাই।আর কে কি পদ পেয়েছেন যদি বলেন।
নারদ। আমি নারদ, বুঝতে পারছেন নিশ্চয়।যদি বুঝতে না পারেন কিছু যায় বা আসবেনা।কারন
ঝগড়া করা বা ঝগড়া লাগানোর পদ আমার নেই।এখন আমার কাজ সকলের সঙ্গে সুসম্পর্ক বজায় রাখা।
নারায়ণ। আপনারও দেখছি নেতা সুলভ আচরন।তবে বলেছেন যা, কর্মেও কি এক হবে।ভোল বদলাবেন না যেন।
নারদ।না না এটা কৈলাস , বুঝলেন কিনা।মানে এখানে বদলানো মানে খুব মুশকিল। দেবতারা সব এক ঘরে করে দেবেন ।আমার আবার একা থাকা মোটেও ভালো লাগে না।
নারায়ণ।তা না হয় বুঝলাম।আর মা লক্ষ্মী তার পদটাও কি বদলে গেছে নাকি?না মানে মর্তেই তা টের পাচ্ছি কিনা। আর্থিক অনটন তো লেগেই আছে মশাই।
নারদ।টের পেয়েছেন তাহলে। আপনি হলেন শিক্ষিত মানুষ টের তো পাবেনই।তবে শুনুন মা লক্ষী এখন আমাদের সামরিক বিভাগ দেখেন।দেখছেন না মর্তে কেমন যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব।আর আপনি বাপু আন্দোলন করতে এসেছেন আমি বাধা দেব না। আন্দোলন করুন।তবে দেখবেন এর দোষ ওর ঘাড়ে চাপাবেন না যেন না হলে আর মর্তে ফিরে যেতে পারবেন না।
নারায়ণ। কিন্তু আমার চাকরি।ওটা কি পাওয়ার কোন আশা নেই!
নারদ। এসেছেন যখন চেষ্টা করুন পেলেও পেতে পারেন। কার্তিকের দয়া হলে পেয়েও যেতে পারেন।তবে কি জানেন তো আপনার শিক্ষা তো সব মা সরস্বতীর আমলের।এখন তো পদ বদল হয়েছে, জানি না আপনার আবেদন মঞ্জুর হবে কিনা।আচ্ছা এবার চলুন মুল কৈলাসে যাওয়া যাক।ঐ খানে একটু দুরে আমার টোটো আছে আপনাকে নিয়ে যাবে কৈলাসে।
নারায়ণ। এখানেও টোটো চলে।আর আপনার ঢেকি কি আর নেই?
নারদ।দুর মশাই কি যে বলেন। আপনাদের মর্তে যা উন্নয়ন হয়েছে সব কিছুর প্রভাব এই কৈলাসে পড়েছে।এটাই তো উন্নয়নের প্রকৃত উন্নয়ন।মানে মর্তের যা কিছু সব আপনি এখানে পাবেন। আমরা আপনাদের মানে মানুষ বানিয়ে ছি তো উন্নয়ন করার জন্য।
নারায়ণ।হা তাই বুঝি। কিন্তু মানুষ বানিয়ে লাভ কি হয়েছে আপনাদের একটু যদি বলেন তো খুব ভালো হয়।না মানে জানতে পারবো তাহলে।জানতে চাইছি আর কি।
নারদ।জানার কি শেষ আছে।বলবো মশাই বলবো ।তবে এখন নয়।আগে চলুন কৈলাসে গমন করি ।সে খানে দেখবেন কতকিছু জানতে পারবেন।এখন চলুন যাওয়া যাক কৈলাস ধামে।মোবাইল, মোবাইল।
(নারায়ণের হাত ধরে যাবার ভঙ্গিমায় দৃশ্য ছবি হয়)…
ক্রমশ…