কর্ণফুলির গল্প বলায় স্বপঞ্জয় চৌধুরী – ৩

চন্দ্রক্ষুধা

তিন

ভোর ৬:৩০, সমস্ত গলিতে ঘন কুয়াশা। মুখ থেকে কুয়াশার কুণ্ডুলি ছেড়ে ছেড়ে গলির ভেতরে প্রবেশ করলেন একজন হাবাগোবা গোবচারা টাইপের যুবক। তার চোখে মোটা ফ্রেমের গগজ। দুই হাতে দুইটা বইয়ের বান্ডিল। মনে হয় এইমাত্র বরিশাল থেকে সাপ্লই হয়ে সদরঘাট লঞ্চ টার্মিনাল হয়ে এসেছেন। পুষ্প কলেজে যাওয়ার জন্য বাড়ি থেকে বের হলেন। উল্লেখ্য গলিটা এতটাই সরু যে দুইজন লোক পাশাপাশি হেঁটে যাওয়া মুশকিল। তারপর যুবকের দুই হাতে দুইটা বইয়ের গাট্টি অনেকটা জায়গা দখল করে আছে। পুষ্প হন হনিয়ে হেঁটে যাচ্ছে। কিন্তু বাধল বিপত্তি আর একটু হলেই দুজনে ১৬০ কি.মি. বেগে আসা বাস ট্রাকের সংঘর্ষের মতো অবস্থা হতো। যা হোক সে অবস্থা আর হয়নি। তবে একে অপরকে অতিক্রম করতে গিয়ে আবারও বিপত্তি বাঁধল। যুবকটি হাত থেকে বইয়ের গাট্টি দুটি রেখে বলে যে আমি আসলাম। পুষ্প বিরক্তি জড়ানো কণ্ঠে বলে আপনি আসলেন সেটাতো দেখতেই পাচ্ছি। না মানে মোর, সরি আমার নাম আসলাম। মকবুল সাহেবের বাসা কোনডা কইতে পারেন। পুষ্প আঙ্গুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় ঐ যে ডানের বাড়িটা। আসলাম থ্যাংক ইউ বলে হাটা আরম্ভ করলো। পুষ্প হন হনিয়ে হেঁটে ঝড়ের বেগে চলে গেলো। আসলাম মকবুল সাহেবের বাড়ির সামনে গিয়ে হাজির হলো। দরজার কড়া নাড়তেই ইঁদুরে গোফওয়ালা একজন মোটা সোটা লোক বেড়িয়ে আসলো। আসলাম হাসি হাসি মুখে বলল যে মুই আসলাম বরিশাল গনে আইছি। লোকমান হাত বাড়িয়ে বলে ও আচ্ছা ভাইসাহেব আপনার কতা বলিছে। আসেন ভিতরে আসেন। আমি লোকমান এই বাড়ির এ্যসিসট্যান্ট ল্যান্ডলোর্ড। আসলাম বইয়ের গাট্টি দুটো সামনে রেখে বলল জ্বে বোঝতে পারলাম না, এইডা আবার কি পোস্ট। এ্যসিসট্যান্ট ল্যান্ডলোর্ড বুঝলেননা সহকারী বাড়িওয়ালা। আসলাম হো হো করে হেসে ওঠে। মেয়া ভাইতো অনেক মজার মানুষ। আসলামের হাসি থেমে গেলো। লোকমান দুহাত সামনের দিকে প্রসারিত করে দেয়। আসেন ভাই মোলাকাত করি। লোকমান কোলাকুলি করার সময় আসলামকে বুক দিয়ে জোরে চাপ দেয়। কোলাকুলি শেষ হলে আসলাম হাফ ছেড়ে বাঁচে। লোকমান দম ছেড়ে বলে মেয়া ভাই কি রেগুলার খাসি খান। লোকমান হেসে বলে খুব লাগিছে বুঝি, আপনার বুকের তেজটা একটু মেপে লইলাম আর কি। মকবুল সাহেব ওপর থেকে নেমে আসে। কে এসেছেরে লোকমান। লোকমান বইয়ের একটা গাট্টি হাতে নিয়ে নিয়ে বলে জ্বি মহাশয়, আপনার কুটুম্ব আসলাম।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।