সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে রাজশ্রী বন্দ্যোপাধ্যায় (পর্ব – ১২)

পিরিচ পেয়ালা ও একটি সন্ধ্যা
পিরিচ পেয়ালার ঠুংঠাং- এ ভরে ওঠে সন্ধ্যা, সাথে ভীমসেন মেজাজী আড্ডা৷ কাশ্মীর থেকে কন্যাকুমারী কচ্ছ থেকে কোহিমা গোটা ভারতটা ঘুরে ফেলি কিংবা বলা কি যায় গোটা পৃথিবীটাই হয়ত ঘুরে ফেলি আমরা আড্ডা দিতে দিতে৷ আর বিষয়? সম্পর্ক থেকে রসায়ন, রাজনীতি থেকে সংস্কৃতি কোন বিষয়ে আলোচনা হয় না বলুন তো এই আড্ডায়! যেন বিশ্বব্রহ্মাণ্ড বারেবারে ধরা পড়ে পিরিচ পেয়ালার এই সন্ধ্যার আড্ডায়৷
তেমনই এক সন্ধ্যায় “চরিত্র” নিয়ে বাঁধল গোল৷ কোনটা ভুল আর কোনটা অন্যায় তাই নিয়ে চলল বিস্তর তর্ক৷
একেবারে চুলচেরা বিচার৷ নিত্তি মেপে এগানো৷ সমানুপাত ব্যস্তানুপাত কিছু কি বাকি থাকল? আমার আবার হিসেব কষাকষির এমন বহর দেখলে কেশব চন্দ্র নাগের কথা ভারি মনে হয়৷ আর ঐ বাঁদরটার কথা
তেল মাখা ডান্ডায় কিছুটা উঠছে আবার স্লিপ করে ততটাই নেমে আসছে৷
খোলা হাওয়ায় জাহাজের মুখ অনুকূলে ভাসতে থাকে । তবু চোরাগোপ্তা মাইন লকলকে জিহ্বা নিয়ে ধ্বংসের স্বপ্ন দেখে । মানুষের কর্কশ অভিসন্ধি জাল পাতে নিরবিচ্ছিন্নভাবে । যে হৃদয় আলোকে অনুভব করেনি , সৃষ্টির আলো কুড়িয়ে নিয়ে – ঐশ্বরিক কোলাজে আবদ্ধ হয়নি ,তার চরিত্রের আঁধার কলুষিত করে সম্পর্কের সমীকরণ ৷ বিশ্বাসের কন্ঠ চেপে ধরে , চুইয়ে পরা রক্ত রাতকে শ্মশানচারী করে ৷
স্বভাবের গোপন রেখাগুলো কুৎসিত অন্ধকারে অগোচরে থেকে যায় ৷ অতিরেক আত্মবিশ্বাসে টগবগ করে ফোটে ৷ বাঁশের বনে ফেরারি বাতাস পরিহাস করে শিশ দেয় ৷ উড়ন্ত পিপীলিকার সারি নিয়তির হাতের পুতুল ৷ তোমার কবর খোঁড়ার প্রস্তুতি শুরু হয়ে গেছে ৷ অন্তরালে রাখা সমস্ত অস্ত্রগুলো শানিয়ে নিয়ে , একে একে উৎক্ষিপ্ত হবে বৃত্তের হৃতপিন্ডে ৷
মিথ্যেরা নগ্ন হেয়েছে বারবার, বাঘ এখন রাখালের সামনে চরম মাংসাশী ৷ তোমার জমানো পাপেরা উত্তরের জানালা দিয়ে পালিয়ে যেতে চায় ৷ ও জানালায় একটা আয়না রেখে দেব , নিজের প্রতিচ্ছবি দেখে আঁতকে উঠলে বুঝব, এখনও বিবেকটা ফসিল হয়ে যায় নি ৷ প্রজাপতি, ফুলের গল্প শুনেছ এতদিন, তাই বোধহয় অশনির আশঙ্কা করনি ৷ এবার সমস্ত সৃষ্টি গর্জে উঠবে ৷ বাঁচাও তোমার মিথ্যে খেলা ঘর ৷
মহাভারত, রামায়ণ, শিব কেন হন নটরাজ, একান্ন পিঠ – ভুলে যাওয়ার তো কথা নয় !!! বেড়াল সন্ন্যাসী তবে আজ দেখে নেওয়া যাক সামান্য পিঁপড়ে পাহার খুঁড়ে, মাটি কেমন আলগা করতে পারে …..
আসছে সপ্তাহে আমাদের সন্ধ্যার আড্ডায় আবার কী নিয়ে দক্ষযজ্ঞ বাঁধে দেখি! চিন্তা করবেন না, একেবার সেই বিষয়টা নিয়েই চলে আসব আগামী সপ্তাহে ” পেয়ালা পিরিচ ও একটি সন্ধ্যা”-র পরের পর্বে৷ ভালো থাকুক সকলে৷
*বিঃদ্রঃ পেয়ালা পিরিচ সহযোগে সন্ধ্যায় আপনিও জমিয়ে আড্ডা মারুন।