কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে আবুল খায়ের নূর

মোলাকাত
(কবি সৈয়দ নুরুল হুদা রনো’র জন্মদিন স্মরণে )
পথ ভোলা আমি এক নির্মোহ পথিক
প্রত্যাশার ছিটেফোটাও স্থান পায়নি আজ অবধি
চিলেকোঠা এই ক্ষুদ্র মন কুহরে;
শেষ বিকেলে এসে সাহিত্যের ভূত চেপে বসে
অনুর্বর মস্তিষ্কের নীল বলয়ে।
দলা পাঁকানো সাহিত্য জ্ঞান, কথামালার ফুলঝুরি
কারুকাজের শব্দের ঝাঁপি,ছন্দের ঝরনা,মাত্রাবৃত্ত
এ সবের বিন্দুমাত্র জানা নেই।
তবুও কবি হতে চাই; এটাই একান্ত বাসনা
এ যেন মামার বাড়ির মোয়া ; হাত বাড়ালেই
ভরবে মুঠি!
ঝিঁঝিঁ ডাকা নির্ঘুম নিশুতি রাত্রির
চাঁদনি জ্যোৎস্নালোক
এঁদো কুঠিরের খিড়কির ফাঁকে
এসে পড়লো ফুলহীন শয্যায়
মুহূর্তে যেন ঝড়ে পড়লো অজস্র পুষ্পদাম
পুলকে কেঁপে উঠলো রসহীন হ্নদয় আঙিনা
দোলা দেয় কবি হওয়ার প্রবল আকাঙ্খা
সে থেকেই পথ চলা,
খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে চলেছি বিরামহীন এক প্রান্তরে
গোগ্রাসে গিলেছি অন্যের লেখাগুলোও
উঠছি তো পড়ছি,এমনি চরাই উৎরাইয়ে
আজও মসৃনতা খুঁজে পাইনি কবিতার।
মরুর চোরাবালির মরীচিকায়
হয়েছি দিক ভ্রম
তবুও হাল ছাড়িনি;
হুতুম পেঁচার মত আলোক এড়িয়ে
একাকিত্বের আবছায়ায় কবিতাঙ্গনে
নিত্য করেছি অবগাহন।
সাহিত্য জগতের এই নক্ষত্রালোকে এক ধ্রুব
তারকার সন্ধান পেলাম, হয়ে গেল মোলাকাত;
উদার মনোভাব,নিবেদিত প্রাণ নিগুঢ় অনুপ্রেরণায়
উৎসাহ যোগানো প্রবল রেখাপাতের প্রতিচ্ছবি
যেন কবি হওয়ার এক পরশ পাথর।
আজ এই মাহেন্দ্র ক্ষণে
সাহিত্যের অতুল রণাঙ্গনে
হে সাহিত্যের মণি সাহিত্যের খনি
তোমাকে জানাই বিনম্র শ্রদ্ধা
প্রভাতের শুভ্র শিশির কণায় করি সিক্ত।