সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে রঞ্জন চক্রবর্তী (অন্তিম পর্ব)

উপন্যাসের বহুমাত্রিক রূপ

বহির্জীবনকে ছেড়ে লেখকের অভিমুখ যত অন্তর্জীবনের দিকে গেছে ততই তাঁর বাস্তবচিন্তাও বদলেছে। মানুষের হৃদয়ের অনুভূতিই হল সেই বাস্তবতা যাকে প্রকাশ করার জন্য ঔপন্যাসিককে চরিত্রের গভীরে ডুব দিয়ে সত্য খুঁজতে হয়। এর ফলে চরিত্রগুলির মনস্তাত্ত্বিক বিশ্লেষণ ভীষণ জরুরী হয়ে পড়ে। মানবমনের গতিপ্রকৃতি অনুধাবন করতে হলে বা রচনায় তার পরিচয় দিতে হলে ঔপন্যাসিককে চেতনাপ্রবাহ রীতি (stream of consciousness) অবলম্বন করতে হয়। অতএব স্বাভাবিকভাবেই আধুনিক উপন্যাসের রচনারীতি এই পদ্ধতি অবলম্বন করেছে, যার অন্যতম নিদর্শন হল আইরিশ লেখক James Joyce-এর অমর সৃষ্টি ‘Ulysses’।
যে রীতিই অনুসৃত হোক না কেন, উপন্যাসের মধ্যে প্রাণসঞ্চার করতে হলে বা তাকে বাস্তবোচিত করতে গেলে দরকার স্থান ও কালের যথাযথ প্রয়োগ। এছাড়া উপযুক্ত পরিবেশ ও পটভূমি ব্যবহার করলে লেখকের বর্ণনার গুণে চরিত্রগুলির মানসিক উথ্থান-পতনের ছবি ফুটিয়ে তোলা যায়। যেহেতু ঔপন্যাসিকের কাছে তাঁর নিজের মূল্যবোধই প্রধান তাই পরিমিতিবোধ সম্পর্কে সচেতন থাকলে সময়ের নির্দিষ্টতা সম্পর্কে তিনি অবহিত থাকতে পারেন। সময়ের বিস্তৃতি ও কালের বর্ণনা দেওয়ার ক্ষেত্রে সাধারণভাবে প্রচলিত কৌশল হল অতীতচারিতা বা flash-back। এর পাশাপাশি ভবিষ্যৎচারিতাও আধুনিককালে আর একটি প্রচলিত পদ্ধতি। তাছাড়া সময়ের অতিপাত বা passage of time-এর বিন্যাসক্রমের দ্বারাও উপন্যাসের শিল্পমাধুর্য অনেকটা বাড়ে। প্রকৃতপক্ষে বহিরঙ্গ ও অন্তরঙ্গ উভয়প্রকার গ্রন্থনরীতির সুষ্ঠু সমন্বয়ে উপন্যাসের শিল্পশৈলী বা আঙ্গিক সার্থকতা পায়। পরিশেষে ‘The Book of Laughter and Forgetting’-এ আধুনিককালের লেখক Milan Kundera যা বলেছেন সেটি মনে রাখার মত – “The wisdom of the novel comes from having a question for everything….. The novelist teaches the reader to comprehend the world as a question. There is wisdom and tolerance in that attitude. In a world built on sacrosanct certainties the novel is dead.”

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।