দিব্যি কাব্যিতে সুদীপ্তা রায়চৌধুরী মুখার্জী

প্রথমে ওরা আগুন জ্বেলেছিল উত্তর -পূর্ব কোণে,
আমি ফিরে তাকাইনি।
আমরা তোলপাড় তুলিনি সোস্যাল মিডিয়া জুড়ে,
কারণ আমরা মঙ্গোলিয়ানদের নাগরিকই ভাবিনি…
তারপর ওরা আঘাত হেনেছিল ভূস্বর্গের বুকে,
আমি খবরে রাখিনি,
আমরা গড়ে তুলিনি কোনো প্রতিবাদ,
কারণ আমরা তো ফেজ পরিহিতদের নাগরিকই ভাবিনি…
এরপর ওরা টুকরো করল অনার্যদের,
আমি সামিল হইনি কোনো ঝান্ডা বিহীন মিছিলে,
আমরা তুলিনি কোনো তুফান সিসিডির মাগে,
কারণ আমরা রক্ষণ কমিশনের জীবদের তো নাগরিক ভাবিইনি…
ওরা ব্রাহ্মণ-ক্ষত্রিয়-বৈশ্য-শুদ্রের বিভেদের করিডরে তাস খেলেছিল,
আমি অবিচলিত ছিলাম,
আমরা রক্তনদীর তীরে বসে নমামি গঙ্গের খতিয়ান শুনেছিলাম,
ওরা বর্ণাশ্রম কে হাতিয়ার করছে বুঝেও বালির বুকে মুখ গুঁজে বেছে নিয়েছিলাম নিরাপদ আশ্রয়,
আমাদের খুব শীত করছিল,
আমাদের কান্নার সাক্ষী ছিল কিছু চিল-শকুনের দল,
কিন্তু ততক্ষণে আমাদের পাসপোর্টে লেখা হয়ে গেছে
বাসিন্দা ঃ মৃত্যু উপত্যকা
(ফ্রেডরিক মার্টিন নিমোলারের ছায়া অবলম্বনে)