T3 ক্যাফে হোলি স্পেশাল এ মিঠুন মুখার্জী

বসন্ত উৎসবের আনন্দ

আজকের সকালটা ছিল অন্য সব দিনের থেকে পুরোপুরি আলাদা। আজ বসন্ত উৎসবের দিন। প্রতিদিন আমি ঘুম থেকে উঠে মেয়েকে ডেকে দিই। কিন্তু আজ ও নিজে সকাল সকাল ঘুম থেকে উঠে একতলায় চলে আসে। নিজের দাঁত ব্রাশ করে গতকালকের আনা তিন রঙের আবির একটা থালায় ঢেলে রং খেলতে বেরিয়ে যায়।আজ আমার ঘুম থেকে উঠতে একটু দেরী হয়ে যায়। প্রথম সকালে উঠে মেয়েকে ছাতু ও তালমিশ্রি গুলে এক বোতল খাইয়ে কখন যে আবার ঘুমিয়ে পড়েছিলাম তা নিজেরই মনে নেই।
আমি সকাল সাড়ে ন’টায় ঘুম থেকে উঠে দাঁত ব্রাশ করে, চা ও সকালের টিফিন খেয়ে, স্কুটি নামিয়ে বারান্দায় এসে বসেছি। দেখি আমার মেয়ে বাবা-মা বৌদি-ভাইঝিকে আবির মাখাচ্ছে ও খুব আনন্দ করছে। কিছুক্ষণ পর আমার কাছে এসে কপালে ও পায়ে রং দিয়ে নমস্কার করে। আমি মনে মনে ওকে আশীর্বাদ করি ‘ও যেন অনেক বড় হয়, প্রকৃত মানুষ হয়।’
আজকের দিনটা আমার কাছে খুবই আনন্দের ছিল। অন্য বছর এলার্জির জন্য আমি রঙ খেলি না, কিন্তু এ বছর আবির খেললাম। মার পায়ে আবির দিলাম। পাশের বাড়ির বৌদিরা রং মাখালো। আমিও তাদের গালে আবির দিলাম। ছাত্র-ছাত্রীরা এসেছিল, পায়ে আবির দিয়ে নমস্কার করল। মেয়ের মা আমার পায়ে লজ্জার সহিত আবির দিয়ে একশো টাকা দাবি করলো ।
‌‌ অনেকদিন পর আজ বাজার করতে গিয়েছিলাম। আজ মুরগির মাংস নিলাম। আমার মেয়ে ও দাদার মেয়ে খুব ভালো খায়। মেয়ের জন্য বাজার থেকে চারটি রঙের আবির কিনে আনলাম। আবির পেয়ে মেয়ে খুব আনন্দ পেয়েছিল। রঙগুলো ওর থালায় আমি ঢেলে দিলাম। ও আবার রং খেলতে বেরিয়ে গেল। মেনু-আঁখি-পাখি-ভূমি- স্নেহা-সৃজনী সবার গায়ে ও মুখে আবির ছুড়ে মেরে আনন্দে নাচতে লাগলো।
আমি মেয়ে ও ওর বান্ধবী মেনুকে ডেকে নিয়ে রং খেলার ওপর ভিডিও করলাম। আমার একটা ‘বাস্তব বাংলা’ নামে ইউটিউব চ্যানেল আছে। এরপর একটা নাগাদ মেয়েকে নিয়ে পুকুরে স্নান করতে যাই। সঙ্গে ওর মাও ছিল। রাস্তায় তিয়াসা ও অঙ্কনের সাথে দেখা হয়ে গেল। ওরা পথযাত্রীদের আটকে রং মাখাচ্ছিল ও ‘হ্যাপি হোলি’ বলছিল। আমি ওদেরকে নিয়েও ভিডিও করলাম। এরা দুজনেই আমার ইউটিউব চ্যানেলের অভিনেতা-অভিনেত্রী। খুব ভালো অভিনয় করে তিয়াসা চক্রবর্তী। শেষমেষ দুটো নাগাদ স্নান করে বাড়িতে ফিরলাম। আজ ফেসবুকে অনেক বন্ধুকে বসন্ত উৎসবের শুভেচ্ছা জানিয়েছিলাম। তারাও আমাকে শুভেচ্ছা জানিয়েছে। এবছর আমি অনুভব করলাম—‘এই ক্ষণিকের জীবনে সব উৎসবের আনন্দ উপভোগ করার প্রয়োজন আছে। কাল যদি না থাকি।’

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।