সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে কুণাল রায় (পর্ব – ২০)

শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা
সপ্তম অধ্যায়: ‘জ্ঞান বিজ্ঞান’ যোগ: প্রথম ভাগ:
শ্রী ভগবান অর্জুনকে বললেন যে কি ভাবে তাঁর প্রতি ভক্তি নিবেদন করলে, সকল সংশয় ও দ্বিধার থেকে তিনি মুক্তি পাবেন। ভগবান অর্জুনকে বিজ্ঞান সম্পর্কিত জ্ঞানের কথা বললেন, যা একবার শ্রবণ করলে আর কিছুই জানবার বাকি থাকে না।
ভগবান বললেন কোটি কোটি মানুষের মধ্যে কেবল একজন সিদ্ধিলাভের জন্য যত্নশীল হন।এবং এরই মাধ্যমে তাঁর অনন্ত লীলার সম্পর্কে অবগত হন। ভূমি, জল, বায়ু, অগ্নি, আকাশ, মন , বুদ্ধি ও অহংকার – এই আট প্রকারে উনি ভিন্ন জড়া প্রকৃতি বিভক্ত। তিনি আরো বললেন যে এই নিকৃষ্ট প্রকৃতি ব্যতীত ওনার আরেকটি উৎকৃষ্ট প্রকৃতি বর্তমান। সেই প্রকৃতি চৈতন্য স্বরূপ। এক মহাশক্তির দ্বারা এই জীবকুলের সৃষ্টি। সেই অনন্ত শক্তি এই জগৎ ধারণ করে আছেন। তাই তিনিই একমাত্র সৃষ্টি ও ধ্বংসের মূল কারণ।
ভগবানের হলেন সর্বোত্তম। তিনি শ্রেষ্ঠ। সকল মণি এক সূত্রে গেঁথে যেমন এক মণিমালার সৃষ্টি হয়, তেমনি এই বিশ্বব্রহ্মান্ড তাঁরই মাঝে সযত্নে লালিত পালিত হচ্ছে।
তিনি জলের রস, সূর্যে ও চন্দ্রের আভা, সকল বেদের প্রণব, আকাশের ধ্বনি ও মানুষের পৌরুষ। তিনি এই ধরিত্রীর সুবাস, অনলের তেজ, সর্বভূতের জীবন ও তপস্বীগণের তপ। তিনি বুদ্ধিমানের বুদ্ধি ও তপস্বীগণের তেজ। তিনি বলবানের কাম ও ক্রোধ বিবর্জিত বল। এবং ধর্মের অবিরোধী কামরূপে প্রাণীকুলের মাঝে সদা বিরাজমান।
ভগবান নিজেই সত্ত্ব, রজ ও তম গুণের অধিস্বর। এই সৃষ্টি তাঁদের অধীন। কিন্তু তিনি নন। তাই এই সকল গুণের প্রভাবে প্রভাবিত হওয়ার কারণে এই জীবকুল তাঁকে জানতে ও অনুধাবন করতে অসমর্থ। এই জীবকুল এক মায়ায়ে আছন্ন। এই মায়ার বাঁধন অতিক্রম করা এক অতীব কঠিন পথ। কেবল তাঁর চরণে নিঃস্বার্থ রূপে সকল পার্থিব অপার্থিব সমর্পণ করলে মুক্তির দ্বার উন্মোচিত হয়। অন্যদিকে যাঁরা অবোধ, মূঢ়, নরাধম ও পার্থিব মায়ার দ্বারা আবৃত, তাঁরা তাঁকে জানতে পারেন না। তাঁর করুণা ধারার থেকে বঞ্চিত হয়ে অধগতি প্রাপ্ত হন।
ক্রমশ…