সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে তুলি রায় (পর্ব – ৬)

নামকরণ
পূবের ঝুল-বারান্দায় রাখা আচারের বয়াম, মরশুমি ফুলেরা আজকাল দুপুর পোহায়, রোদ মাখে। ফিসফিস করিয়া বলিতে থাকে বৎসর অতিক্রান্ত হইবার পূর্বেই বুঝি তাহাকে সবার মনে পড়ে! নতুবা কেই বা তাকে মনে রাখিয়াছে! আর কেনই বা মনে রাখিতে যাইবে। আসাযাওয়া না থাকিলে সংযোগ মুছিয়া যায়। তখন তাহাতে ঘষা কাচের মতোন সব অস্বচ্ছ লাগিতে থাকে। আসবাবে ধুলোর পরত মনে রাখিতে পারে না শেষবার সে কবে ব্যবহৃত হইয়াছে, মনে রাখিতে পারেনা শেষবার সে কবে মালিকের মুখ দেখিয়াছে। যাহাকিছু ব্যবহারযোগ্য তার সবটুকু সত্যিই কি ব্যবহৃত হয় জীবনে? আমরা তো কতকিছুই জড়ো করিতে থাকি চারপাশে সযতনে সাজাইবো বলে। তাহার পর একদিন কেমন করিয়া যেন সব আগ্রহ উবিয়া যায়। জড়ো করা সেইসব আকাঙ্খারা তখন জমা হইতে থাকে জড়ের ন্যায়। সামগ্রী সমার্থক হইয়া না উঠিতে পারিলে তাহার যে আর প্রয়োজন নাই! কিন্তু মন তাহা মানিবে এমন দিব্যি কেউ দিয়াছে কি?
পুরাতন স্মৃতির মতোন
না’হয় ক্ষণিক আসিয়া দাঁড়াইলে-
যে নকশি কাঁথা বুনিয়াছি পুরানো সুতা সংগ্রহ করিয়া। তাহাতে কি নাই! আকাশ, জল, নদী, ফুল, গাছপালা। দালান ও আছে একখানা। আর আছে একখানি আসন। তাহাতে ফুলচন্দন লেপিয়া,সম্মুখে প্রদীপ জ্বালিয়া অপেক্ষায় বসিয়া আছি।এইসব অপেক্ষার কোন প্রহর নাই, বিরাম নাই। এ যাত্রাপথ একাকী । তবু না হয় ক্ষণিকের ত্বরে…
ক্রমশ…