কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে আনোয়ার রশীদ সাগর

বাঁকে বাঁকে ও বিশ্বাসে

প্রখর রৌদ্রমাখা শরীর নিয়ে এসেছিলে একদিন
তারপর কত পাতা ঝরে গেছে, ঝড়মেখেও ছিলে তুমি যন্ত্রণা-কাতরেও ছিলে বিশ্বাসী
ছিলে তুমি মাঠে-ঘাটে-প্রান্তরে,জীবনের অশান্ত কঠিন সময়ে।
কী করে ভাবি বলো, হারাবে তুমি বন্যাকবলিত দেহে;
তা কী ভাবা যায়?- যায় না হয়তো;
অটল বিশ্বাসে আমি জেগে আছি জীবনের বাকিটা সময়,জেগে থাকি সকাল-বিকাল-রাত্রি-দুপুর ;,
শুধু অপেক্ষা তোমার-তোমারই জন্য।
আজীবন ভেবেছি, মুক্তি তোমার হাতেই-বিশ্বাস ছিল একটায়,
সে বিশ্বাস ভেঙে রক্তমাখা শরীরে বিদায় নিলে,
বিদায় নিয়ে-ফেলে গেলে স্বপ্নগুলো-
নদীর জলে রক্ত, মাঠে-ঘাটে রক্ত, রক্তমাখা পতাকা
আর কত বহন করতে হবে?
আর কত অপেক্ষা করতে হবে?
আর কত রক্তে ভিজলে মুক্তি হবে আমার?
রক্তস্নাত আমি রক্তে স্নান করতে করতে রক্তমাখা শরীরই ধারণ করেছি
ধারণ করেছি রক্তঋণের আজন্ম ইতিহাস।
প্রতিশ্রুতিহীন রক্তবন্যা বহন করতে করতে সবুজ বনানীকেও করেছি রক্তজবা শরীর,
জ্যোৎস্নামাখা স্বপ্নকেও করেছি লালপতাকা।
বুকের বুননে এখন বিপ্লবহীন ভোগের চাহিদা
ক্ষয়ে যায় প্রতিদিন-প্রতিনিয়ত জমাট রক্ত,
জমাট-ভরাট স্তন-নাভিমূল
জমাটবদ্ধ ঐশ্বর্যের জীবন।
সমুদ্র-অভিমানেও থাকে রঙিন বিষাক্ত পতাকা,
টানাপড়েন বিশ্বাসে ফাঁটল ধরতে ধরতে যৌবনেও ধরেছে মরিচিকা
এ আমার কষ্ট
এ আমার বেদনা
এ আমার ব্যর্থতা
এ আমার বিস্তীর্ণ শীর্ণ চেতনা।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।