সাপ্তাহিক ধারাবাহিক কথা সাগরে পিয়াংকী (পর্ব – ২৪)

স্টেশন থেকে সরাসরি

ইংরেজি ২৯ শে নভেম্বর
বাংলা ১৩ ই অগ্রহায়ণ
সোমবার

স্টেশন থেকে সরাসরি। আমার মুক্তগদ্য সিরিজ।নয় নয় করে তেইশটা পর্ব লিখে ফেললাম। কবে কিভাবে কখন যে এরা এল, পাঠকের সামনে বসল,কথা বলল কবিতা শোনালো কিছুই টের পেলাম না।আসলে সবটাই একটা ধোঁয়াশা।কোথায় যেন নক্ষত্র পতন হচ্ছে আবার অন্য কোনও প্রান্তে সূর্য উঠছে অভ্যাসবশত।বিরতি নেই বিশ্রাম নেই।একটা চাকা।ঘুরেই চলেছে…

আজ হঠাৎ সকাল থেকেই তোমার কথা মনে পড়ছে রাজশ্রীদি।তুমি আমার সহঅক্ষরকর্মী তুমি আমার সম্পাদক তুমি দিদিও। আমি তো প্রতিটিদিনকেই নির্দিষ্ট একেকটা স্টেশন ভেবেছি।তুমিও সেরকমই একটা স্টেশন। বেলা গড়িয়ে গেল,আমি চব্বিশতম পর্ব লিখে উঠতে পারলাম না। তুমি ভয়েস ম্যাসেজ করলে।আমি তখন মনে মনে ভাবছি আত্মিকটান কি একেই বলে?আমি তো তোমার এই গলার শব্দটুকুর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম।অথচ ফিরতি ম্যসেজে বলে উঠতে পারলাম না সেকথা।সবটুকু কি বলা যায়? নাকি বলা উচিত?
এসব ছাইপাঁশ ভাবতে ভাবতেই চোখে ঘুম নেমে আসছে। দেখো,এখন বারোটা বেজে দশ মিনিট। শুনেছি বারোটা বাজলে নাকি মানুষ গোল্লায় চলে যায়।আমি পেন নিলাম।একটা গোল্লা সঠিকভাবে এঁকে উঠতে পারছি না। একটা শিশুও যা পারে আমি তাও পারিনা।তবে কি আমি ব্যকরণ শিখে ফেলেছি বলে শূন্য আর আমার নাগালে আসছে না?
আচ্ছা রাজশ্রীদি তুমি লেখা চাও কেন?তোমার কেন মনে হয় আদ্যোপান্ত সংসারী এই চরিত্রটা পাঠকমানুষকে আকর্ষণ করতে পারবে? আমি শক্তি চাটুজ্জে আর সুনীলবাবুকে কমবেশি পড়েছি।সমর সেন ভাস্কর চক্রবর্তী বিনয় মজুমদারদের পড়ার জন্য টেবিল সাজিয়েছি।এরা সকলেই নিজেদের লিখিতজীবনে সম্পাদকদের ভূমিকা নিয়ে লিখে রেখে গেছে,আমিও তাই তোমায় নিয়ে লিখব,কেউ না চাইলেও লিখব।

আদতে আমি লিখতে চাইনি,আমি কিছু কথা বলতে চেয়েছি,এমন কথা যা কিনা ইঁটকাঠ চাপা পড়া মানুষরা শোনে না।ক’দিন আগেই মামাতো ননদকে বলতে গেলাম একটা কবিতার কথা, সে বলল, “বৌদি, কবিতা পরে শুনব আগে বলো সেদিন নন্দনে গেলে কতজন তোমার দিকে তাকাল?উফফ কীই লাগছিল তোমায়!” আমি থেমে গেলাম।বললাম না কিছু। শুধু বুঝলাম এদের আলাদা কামরা হওয়া উচিত এরা আলাদা গন্তব্যের যাত্রী। অথচ দেখো, কীইই অবলীলায় আমরা যারা একরকম, তারা মন্ত্রমুগ্ধের মত কবিতা শুনি।খিদে পেলে চারটে কবিতা খেয়ে এক গ্লাস জল খেয়ে নিই। এই তো গত বুধবার, অবনীন্দ্র সভাগৃহে তুমি তোমার বেলুন সিরিজের কয়েকটা কবিতা পড়ে শোনালে । আমরা শুনলাম।কবিকে বুঝলাম।এগুলো নিয়ে কি আরেকটা চব্বিশতম পর্ব লেখা যায় না রাজশ্রীদি?

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।