ক্যাফে গল্পে শম্পা সাহা

শিক্ষা
বয়স তো কম হলো না!অভিজ্ঞতা তার চেয়েও বেশি!একটা জিনিস খুব লক্ষ্য করেছি,মুখে সবাই বলে ভালোবাসা মানে আত্মসমর্পণ, হ্যানা ত্যানা।প্রাণ দিয়ে যদি সত্যি কাউকে ভালোবাসা যায় তবে ভালোবাসা ফেরত পাওয়া যায়,সম্মান করলে বদলে সম্মান পাওয়া যায়।এইসব ভালো ভালো কথা, আদর্শের কথা শুনেই ছোট থেকে বড় হয়েছি।মজ্জায় মজ্জায় মিশে গেছে।বিশ্বাস করেছি অক্ষরে অক্ষরে ,মানতে চেষ্টা করেছি প্রাণপণ।
কিন্তু বাস্তব দেখি উল্টো রকম একেবারেই।
বাস্তবে দেখি, যাকে সম্মান করি ,সে সেটা আমার দুর্বলতা ভাবে।যাকে ভালোবাসি উজাড় করে সে ভাবে
-এই রে।এতো আমার কেনা গোলাম হয়ে গেছে।চলো এবার ইচ্ছেমত নাচাও!
ব্যস নাচতে লাগলাম, ভালোবাসা টিকিয়ে রাখতে।
বাবা মা শিখিয়েছে, ভালোবাসা মহৎ বস্তু।তার সামনে ক্ষুদ্র সবকিছু।এই ভাবনায় বাঁদর হয়ে নাচতে নাচতে ক্লান্ত।আমার এক মিনিট দেরি
-এতক্ষণ ধরে দাঁড়িয়ে আছি
তার দশ মিনিট দেরি
-হতেই পারে
এক সময় যখন দেয়ালে পিঠ ঠেকে গেলো,বেড়িয়ে এলাম।
এবার ঠিক করলাম যাকে আমি ভালোবাসি তাকে নয় যে আমাকে ভালোবাসে তাকে ভালোবাসবো।ও বাবা! আহা,কি ভালো বাসে! হেঁটে গেলে ,তার এত কষ্ট হয় যে বুকটাও পেতে দেয়।কি আনন্দ!কি আনন্দ!পেয়েছি !পেয়েছি! এই তো আমাকে ভালোবাসে!তাহলে আমিও একেই ভালোবাসবো!
লাও ঠ্যালা!ও বাবা! এ তো দেখি বাচ্চা ছেলেমেয়ের পুতুল চাওয়ার মত।যতক্ষণ না পাচ্ছে ততক্ষণ কেঁদেকেটে হুলুস্থুল ফেলে দিলো
-চাই!চাই!চাই!
ব্যস যেই পাওয়া হয়ে গেল!পুতুলের চুল কেটে ,নাক ভেঙে,চোখে ধ্যাবড়া কাজল পড়িয়ে শেষে স্থান ডাস্টবিন।শেষে আর মনেই রইলো না পুতুলটার কথা।সে না হয় পুতুল, তার নিজস্ব বোধ বা সত্ত্বা নেই।কিন্তু যদি সে মানুষ হয়?
আবার ছাড়লাম।ছাড়তে ছাড়তে প্রান্তে এসে পৌঁছেছি।এই প্রান্তিক জীবনই বেশ ভালো।
আর একটা জিনিস জীবন আমায় শিখিয়েছে যে জীবনের ক্ষেত্রে কোনো নিয়ম নীতি খাটে না ,যেমন খাটে না সম্পর্কের ক্ষেত্রেও।