কাব্যক্রমে উদয়ন চক্রবর্তী

বৃদ্ধ ইজিচেয়ার

দেওয়ালের পলেস্তরা খসে পড়ছে
সেখানে আঁকা হচ্ছে টিকটিকির রমনের
ছায়া চিত্র এক বাধ্য ধারাবাহিকতায়
আমার চিলে কোঠা থেকে উড়ে যাচ্ছে পথহারা চিলের কান্না ধূসর রঙ মেখে
আমি কী খুঁজছি না জেনেই ছিপ ফেলছি
বারবার যদি ধরা দেয় সুখ-
বৃদ্ধ ইজিচেয়ার বসে থাকে শূন্যতায় চোখ
রেখে নতুন কেউ এসে বসার অপেক্ষায়।

অসুখেও সুখ ভোগ

সন্ধ্যা নামলেই কিছু জীবন
সারা শরীরে সুগন্ধি মেখে নেয় প্রাত্যহিক
বাধ্যবাধকতায় কর্কট অসুখের ভ্রমণে
পথ হারিয়ে চৌরাস্তার মোড়ে দিক খোঁজে
যেদিকে জীবন মায়ের আঁচলের ছায়া পেতে
একটা বৃত্ত সম্পূর্ণ করতে চাইছে
পথ হারিয়ে ভ্রষ্ট ভ্রমণে কানা গলিতে পথ হারায়।
সুগন্ধিরও একটা সীমা আছে জানা দরকার।
শরীর গলে গলে নদীর সাথে ভেসে যায়
সুখের রাতচরা পাখি বিষাদ নিয়ে উড়ে যায়
না চাইলেই অসুখ সুখ হয়ে ধরা দেয় কখনও কখনও।

এটাই যাত্রাপথ

আসলে আমরা সবাই
একটা সাঁকো পেরোই,
এ পাড়ে হাত বাড়িয়ে আমি
ও পাড়েও আমারই হাত—
শুধু একটা দুরত্ব যেটা আমি চাইছি
পেরিয়ে যেতে,সমবেত প্রাণতৃষ্ণায়
সেটাই আসলে জীবনের যাত্রাপথ,
আমি তুমি-তুমি আমি সবাই চলেছি
ক্ষ্যাপার মতো পরশ পাথর খুঁজে খুঁজে
ভাগশেষে পরে থাকে ছাই মাখা জ্বলন্ত অংশ আর অংক না মেলা কিছু সংখ্যা
রেখে যাওয়া কিছু স্মৃতি ধূলো
রাস্তা চলে গেছে দিগন্ত রেখায় যেমন নদী মেশে সাগরের মোহনায়
হৃৎস্পন্দন একটা অণু শব্দ কবিতা লিখে
চলে নিরন্তর আলাদা আলাদা।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।