সম্পাদিকা উবাচ

কিছু কিছু দিন স্মৃতি নড়ে উঠলে কবিতারা জেগে ওঠে৷ আজ কবিতার ঘরবাড়ি, কবিতায় বাস৷
আজ কিছু অগোছালো হাওয়া এলোমেলো করে দিয়ে গেল আমায়। বিকেলের জমিয়ে রাখা হলুদ খামেরা বাগানের ঘাসগুলোর ডগায় প্রজাতি হয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছে। গোপন কথাদের ছায়া জিরিয়ে নিতে থাকে, আমার ঠিক পাশটাতে৷ আমি বোগেনভেলিয়ার গাছটার দিকে তাকিয়ে আমার পিঠে, আমার ঘারে তোমার গরম নিঃশ্বাস টের পাচ্ছিলাম৷ তোমার অনুপস্থিতি, গাঢ় হয়ে তোমার উপস্থিতি প্রমাণ করছিল৷ সামনের ছাতিম গাছটাতে পাখি দুটো , নীলাভ আভা ছড়াচ্ছিল৷ ওদের বাসা তখন অমরাবতী৷ প্রতিবেশী চাঁদ তখন চুইয়ে পরার অপেক্ষায়৷
আমি চিরকালই কস্তুরীর খোঁজে হরিণের পেছনে ছুটেছি৷ সাজানো ঘর, আতরের বাড়াবাড়ি দেখে তীব্র অনীহায় পাহাড়ের কাছে ছুটে গেছি, কষ্টের কথা জানাতে৷ অগোছালো জীবন,অগোছালো মানুষের প্রেমে পড়েছি বারবার৷ তোমার একমাথা উস্কোখুস্কো চুল, না-কামান দাড়ি, দেওয়ালে টাঙানো সাঁওতালি মেয়েটার মত আমাকে অসহায় করেছে৷ সম্মোহনের শিকে ছিঁড়বার নয়! সামনের গাছটায় এখন চাঁদ এসে মেহফিল জমিয়েছে৷
রাত যত ভারি হয়, তোমার স্মৃতিগুলো আলো-আঁধারিতে কখনও অরণ্য, কখনও জলপ্রপাত হয়ে ওঠে । নিঝুম বট গাছটার ডালে বাহারি মেজাজে, পেঁচাটা শরীরী ভাষায় ডেকে চলে বিলম্বিত লয়ে । দূর থেকে ভেসে আসা গাভিনের আকূতি রাতকে স্নেহময়ী করে ৷ ঘরের আগল খুলে উঠোনে এসে দাঁড়াই, রাতের শরীরে আঁশটে স্বপ্নরা তোমার ঘ্রাণে মশগুল ৷ ঘাটের কাছটাতে জোয়ারের জলের ছলাৎ ছলাৎ শব্দে তোমার অনুষঙ্গ গাঢ় হয় ক্রমশ ৷ দূরে কোথাও এসরাজের সুরে বেজে ওঠে সমর্পণ ৷ আমি মুহূর্তের উদযাপন করি ৷৷
সকলে লিখতে থাকুন পড়তে থাকুন, সুস্থ থাকুন, সচেতন থাকুন, ভালো থাকুন