|| কালির আঁচড় পাতা ভরে কালী মেয়ে এলো ঘরে || T3 বিশেষ সংখ্যায় সঞ্জীব সেন

আমার ভয় লাগছে না

প্রথম দুটো দিন ঠিক ছিল।তৃতীয় দিন থেকে আভাস পেয়েছি ঘরে কেউ আছে।প্রথম দিন চুড়ির আওয়াজ তারপরের দিন একটি মেয়েলি গন্ধ সদ্য সাবান দিয়ে স্নান করে এসেছে কেউ।স্নিগ্ধ নির্মল।তারপর দিন নিশ্বাস এসে পরেছিল কাঁধের কাছে।যে কেউ ভয় পেয়ে যেত।ঘরে কোন দ্বিতীয় অস্তিত্ব আছে।আমি এতবারের জন‌ ভয় পাইনি।সত্যি বলছি একবারের জন্য না।এক টাইম ধরে ঠিক বিকেল পাঁচটা নাগাদ। মামার বাড়ির এই চিলেকোঠার ঘরে একটা সময় অনেক থেকেছি, মাধ্যমিক পরীক্ষার পর এসেও দশদিন থেকেছি।আর আসা হয়নি।অনেকদিন পর আবার এলাম।এখন থেকে এখান থেকেই কাজের চেষ্টা করব।সরকারি কাজ পাওয়ার আশা নেই।তবু একটু ভাল কাজ।না হলে অনিতাকে হারাতে হবে।ওর বাবা অন্য জায়গায় বিয়ে দেবে।স্থায়ী চাকরি না হলে কেউ বিয়ে দিতে চায় না।যদিও এখন একটা প্রকাশনী সংস্থায় কাজ করি।মায়না বেশী না। মা বাবা মারা যাওয়ার পর দাদা বৌদির সংসারে থাকাটা কতটা অসহনীয় বুঝতে পারলাম।ওরা মুখে বলেনি টের পেতাম।দশটা বাজনেই দরজা বন্ধ করে দিত।খাওয়ার ঢাকা দিয়ে রাখত কোনদিন কম কোনদিন বেশী কোনদিন শুধু ডাল আর অর্ধেক বেগুন ভাজা রেখে দিত।খেতে খেতে শুনতাম দাদা বৌদি জেগে আছে গান শুনছে।আমি খেয়ে বাসনটা মেজে শুয়ে পরতাম।তারপর একদিন ঠিক করলাম আর না ।তখন মামার বাড়ির কথা মনে হল।মামার মেয়ে ডলি দির বিয়ে হয়েগেছে।মামার দোতলা ঘরটা ফাঁকাই পরে থাকে।ওখানে থেকে ভাল চাকড়ির চেষ্টা করতে হবে।তাই এখানে চলে এলাম।একটা সময় এই চিলেকোঠার ঘরটায় ঘুব আসতাম ছোটবেলায় এই ঘরটা আমার খুব পছন্দের ছিল।পাশের বাড়ির সুজাতা বলে আমার বয়সী একটা মেয়ে সারাক্ষণ মামার বাড়ি থাকত।আমি আর ও খেলতাম।অনেক রকম খেলা ।তখন দশ বছর বয়স।বছরে দু তিনবার মামা বাড়ি আসতাম।তখন পরিবেশটাও ভাল ছিল।এতটা ঘিঞ্জি ছিল না ।এবার এখানে এই ঘরটায় এসে সুজাতার কথা মনে পরে গেল।কথাগুলো বলে কিছুক্ষণ চুপ করে ছিল। পাশ থেকে নারীকন্ঠ বলল এই ঘরে এমন কি আছে।ভয় নেই ,কাউকে বলব না। আর একটা কথা সত্যি বলছ আমাকে ভয় পাচ্ছ না।নিশ্চয় বুঝতে পেরেছো আমি যে অশরীরী।সুখেন বলল সত্যি বলছি আমার ভয় করছে না। তালে বল কি ঘটেছিল সেদিন বলল নারীকন্ঠতারপর একটু ও বিচলিত না হয়ে বললাম তখন সুজাতা আমি পিঠাপিঠি, সুজাতা খুব সুন্দরী মেয়ে ছিল।খুব তাড়াতাড়ি বেড়ে উঠছিল।আমার মা ওর মা আলোচনা করত মেয়েটা বড় হয়ে গেল।মেয়েরা বড় হবে ছেলেরাও তো বড় হয় তাতে চিন্তার কি! ও বড় হয়েগেছে সেটা বুঝাতাম একটা সময় ও আর আমি খালি গায়ে ব্যাডমিন্টন খেলতাম। ঘেমে গেলে জামা খুলে ফেলতাম ও নিজের টেপজামা খুলে ফেলত ।তবে এখন আর খুলতে পারবে না।ওর মেয়েলি ধাঁচটা ফুটে উঠেছে।আমি সেদিন চিলেকোঠার ঘরটায় লুকিয়ে চটি বই পরছি।একটা রঙিল ছবি ছিল একটা উলঙ্গ মেয়ের ছবি । বইটা বন্ধু দিয়েছিল।মুলত ওই ছবিটাই দেখতাম।তখনই লুকিয়ে এসে পেছনে দাঁড়িয়ে দেখেছিল ।চেয়ারের পেছন থেকে বলেছিল দেখবি, ছবি তে দেখে কি ভাল লাগে ।তখন আমাদের বয়স পনেরোর আশে পাশে ।ওর কথা শুনে নিশ্বাস ফুলে উঠেছিল।মনে হচ্ছিল বন্ধ হয়ে যাবে।চেয়ার ছেরে উঠে পরেছিলাম ।আমার ওটা জেগে উঠেছে।প্যান্ট ফেটে বেড়িয়ে আসতে চাইছে।ও দেখেছিল হেসে উঠেছিল।।তার পর হঠাৎ হাত দিয়ে মুঠোয় নিয়ে হাসতে হাসতে বলেছিল দেখবি ছবিতে যেমন আছে।কথা শেষ করতেই প্যান্ট নিচে নামিয়ে দিয়েছিল, আর ও নিজের ফ্রকটা খুলে ফেলেছিল। ওর বুক দুটো যথেষ্ট বড় ওই বয়সে।দেওয়ালে হেলান দিয়ে ডেকেছিল।আয় না কাছে আয় ভয় নেই কেউ আসবে না।দিদি পড়তে গেছে।আর সবাই টিভি দেখছে।আমাদের দুজনারই ঘন খন দীর্ঘশ্বাস পড়ছিল।বয়ঃসন্ধির সেই ভেজা পাখিটা এভাবেই নিষিদ্ধ আশকারা দেয়।সুজাতা আমি দুজনাই সুতোহীন।সুজাতার গাত্রবর্ণের শরীরে ভড়াট দুটো বুক চেরিফলের মত স্তনবৃন্ত । আমি শরীর নিয়ে এগোতে পারছিলাম না ।পা জড়িয়ে আসছিল।ঠিক সেই সময় নিজ থেকে মা ডেকেছিল আমার অবস্থা খুব খারাপ বুঝে সুজাতাই ওর পোষাকটা পড়ে নিচে চলে গেছিল ।তার কিছু দিন পর আমরা ফিরে আসি ।তার পরের বছর মাধ্যমিক দিয়ে এসেছিলাম।তার পর আর এই ঘরটায় আসা হয়নি।একবছরের মধ্য সুজাতাও অনেক পালটে গেছে।ওই বলল সেদিনের ঘটনটা ভুলে যা।বুঝলি। আমার ভুলতে সময় লেগেছিল।তারপর অনেকদিন যাওয়া হয়নি।তারপর খবর এলো সুজাতার বিয়ে।আমাদের নিমন্ত্রণ ছিল।তিনদিন ছিলাম ।ওখানে গিয়ে জানতে পারলাম পাত্র কারুর পছন্দ ছিল না।বিয়েটি দিতে বাধ্য হয়েছিল।তারপর ফিরে এসেছি ।কিছু দিন পর ডলি দির বিয়ে ,চারদিন থাকলাম ।সুজাতার সঙ্গে দেখা হল।দেখলাম অনেক রোগা হয়ে গেছে।ওর সঙ্গে কেউ সেভাবে কথা বলল না।মৃন্ময় ওর বরকে দেখলাম।একনজরে দেখেই বুঝতে পারলাম মালটি একটা মাতাল।কথা বললাম দু একটা । মনে মনে ভাবলাম সুজাতা কি দেখে পছন্দ করল কে জানে ।মাস দুয়েক পর খবর এলো সুজাতা সুইসাইট করেছে।গেলাম একবার দেখতে ।তখন বিকম পরীক্ষা ছিল।চার বছরের মধ্যে এরকম ঘটনা ঘটে গেল, দেখলাম মুখটা পুড়ে গেছে।গায়ে আগুন দিয়েছিল।ওর শ্বশুরের নাকি ওর উপরে নজর ছিল।গোটা পরিবার আসামী প্রমাণের অভাবে ছাড়া পেয়ে গেল , ।কথা শেষ হতেই নারীকন্ঠ এবার ডুকরে কেঁদে উঠল।সেই সাবানের গন্ধটা ভেসে এল সেদিনে সুজাতার গা দিয়ে পেয়েছিলাম।বুঝতে অসুবিধা হল না এঘরে যে ছিল এই তিন দিন ধরে।দ্বিতীয় অস্তিত্ব।সে আর কেউ না সুজাতাই। ডাকলাম সুজাতা নাম ধরে ।আমি বুঝতে পেরেছি তুই যে সুজাতা

অবিচল থেকে কথাটা বললাম একবার দেখা দিবি না,পরিস্কার উত্তর এল না সম্ভব না।আমি অন্য জগতের বাসিন্দা।শুধু কথাগুলি শুনতে পাবি বললাম বয়ঃসন্ধির সেই ভেজা পাখির ডাকটা তোর মনে আছে,সুজাতা বলল হয়ত ওটা ভুল ছিল না।সেই বয়সের নিরিখে ভুল ছিল।পরে বুঝতে পেরেছি, কথাটার মানে বুঝতে পারলাম না । বললাম মৃন্ময় দাকে কি দেখে ভালবেসে ছিলিস বলবি,বলল জানি না ভুল গুলো বুঝে কেউ করে না,কাঁদতে কাঁদতে বলল আমি যাই আর আসবো না কোনদিন,অনিতা খুব ভাল মেয়ে ওকে বিয়ে কর খুব সুখি হ

আমি যাচ্ছি

পরপরেই দরজাটি সামান্য কেঁপে উঠল,

চোখ খুলতে টের পেলাম কিছু একটি ঘটে গেছে মামা মামি দুজনাই আমার মুখের দিকে তাকিয়ে।মামা বলল কি হয়েছিল দরজাটা শেষ পর্যন্ত ভাঙতে হল ।চেয়ারে মুখ গুজে পরেছিলি, ।গো গো করে শব্দ করছিলি, ভয় পেয়েছিল ।, কি করছিলি ওখানে

বললাম, না আমি ভয় পাই নি একবারের জন্যও নয় ।

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।