সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে হরিৎ বন্দ্যোপাধ্যায় (পর্ব – ৮১)

সোনা ধানের সিঁড়ি
১১৮
লোকটা মাঝরাতে চৌকাঠ পেরিয়ে উঠোনে এসে নামল। দেখল চোখের সামনে ধূ ধূ মাঠ। অনেকটা বড় জায়গার মধ্যে সে নিজেকে সামলে উঠতে পারল না। অথচ কাছাকাছি সে কোনো রাস্তাও খুঁজে পেল না। ইচ্ছা করছিল খুব অনেকের মধ্যে মিশে গিয়ে নিজেকে বেশ কিছুটা ছড়িয়ে দিতে। কিন্তু এসব করার জন্যে যে মানসিক জোরের দরকার পোড়োবাড়িতে একা থাকতে থাকতে সে অনেকটাই হারিয়ে ফেলেছে।
সে ফিরে গেল তার যৌবনে। সেখানেও সে বিশেষ প্রবেশের ছাড়পত্র পেল না। অনেকগুলো প্রত্যাখ্যান আর ভীষণ অভাবের মধ্যে দাঁড়িয়ে তার দম আটকে আসছিল। নির্ভরশীলতা তার রক্তে বিষাক্ত পোকার মতো কিলবিল করছিল। কেন জানি না তার মনে হচ্ছিল তার জন্মপরিচয় সঠিক নয়। কোনোদিন তার দু’হাতে কোনো আঙুল খেলা করে নি।
নিচু হতে হতে লোকটা উঠোনে শুয়ে পড়ল। আর ঠিক তখনই তার এমন এক উজ্জ্বল নক্ষত্রের চোখে চোখ পড়ল যে তার মুহূর্তে মনে পড়ে গেল এক উৎসবের রাতের কথা। হৈ হট্টগোল আর রাতের বিপরীত দিকে সে পথ হাঁটছিল। আর আলোর বৃত্তের বাইরে দু’হাত বাড়িয়ে দাঁড়িয়েছিল তার বাবা।
ঠেলা খেতে খেতে লোকটা অন্ধকারের অনেকটা কাছে চলে এসেছিল। সে ঠিক করল বাকি রাতটা বাবার হাত ধরেই ঘুরবে।