সাতে পাঁচে কবিতায় দেবানন্দ মুখোপাধ্যায়

এক নির্জন দুপুরের গল্প
সে এক বহু পুরোনো নির্জন দুপুরে
সূর্য যখন মধ্য গগনে
তখন এই গল্পের শুরু।
আসলে দুপুর বললেই যেমন ওয়েবের কল্যাণে এখন অনেকের মনে দুপুর ঠাকুরপোর গল্প মনে এসে যায়,
এটা ঠিক সে রকম নয়।
নির্জন দুপুর কারণ ফেরিওয়ালার হাঁক নেই,
নির্জন দুপুর কারন টি ভির কচকচানি নেই।
আছে শুধু মলাটের মধ্যে কতগুলো ছাপানো অক্ষর পড়ে যাওয়া,
খাওয়া দাওয়ার পর সুগন্ধি পান চিবোতে চিবোতে।
কর্তা গেছে কাজে সেই কোন কালে,
পা এর ওপর পা তুলে আলগোছে হাত পাখা করতে করতে বইয়ের পাতা ওল্টানো এক সুখের দুপুর।
সেই দুপুরে নেই হইচই,
হাঁকডাক, রাস্তায় গাড়িঘোড়ার
কান ফাটানো আওয়াজ,নেই
টেলিভিশনের সামনে বসে থাকার
এক অদ্ভুত নেশা।
শুধু নিস্তব্ধ দুপুরে বইয়ের পাতা
ওল্টানোর খস্ খস্ আওয়াজ
আর বইএর গন্ধে ম ম করা বাতাসে
নিঃশ্বাস ফেলার শব্দ।
অথচ এখন সে দুপুর কই?
সব দিকে কেমন যেন
আলো আঁধারিখেলা।
তবে কি অকাল সন্ধ্যা নেমে এলো
আমাদের পৃথিবীতে?