|| শাম্ভবী সংখ্যা ২০২১ || T3 শারদ সংখ্যায় তৃষ্ণা বসাক

নব্বই সিরিজের চারটি কবিতা
কোনদিন ধর্ম নিয়ে কথা বলিনি
কোনদিন ধর্ম নিয়ে কথা বলিনি আমি,
ভাত বেড়ে যেভাবে তালপাখা নাড়া উচিত ছিল…
বরং রান্নাঘরের জানলাগুলো খুলে দিতে বলেছি,
আর জানলা দিয়ে
রোদ্দুর দেখতে দেখতে,
লংকাগাছ দেখতে দেখতে
উনুনের আঁচ নিবে গেছে,
ওই নিবন্ত আঁচ খুঁচোইনি কখনো!
যেমন কালীপূজোর সময়
আনাচে কানাচে রংমশালের ধোঁয়া দিয়ে
মশা তাড়ানো হয়,
তেমনভাবে আমি আগুনকে বইয়ে দিয়েছি
খাটের তলায়,
বসার ঘরে,
চিলেকোঠায়,
লক্ষ্মীঠাকুরের মুখে!
কোনদিন ধর্মের কথা বলিনি আমি,
বলেছি,
শুধু খিদে পেলেই নয়,
কষ্ট পেলেও আমার কাছে এসো,
দুঃখ পেলে আমার সঙ্গে শুয়ো,
ভালবাসলে আমাকে ছেড়ে চলে যেও,
আমার বাড়া ভাতের থালা পেছনে ফেলে…
কাউকে তোমার সন্দেহ হয়?
ও দিগ্বিজয়?
কখন যাবে বাণিজ্যেতে?
জীবন তেমন প্রশস্ত নয়,
কাউকে তোমার সন্দেহ হয়?
কেউ সরাচ্ছে তলার মাটি
আস্তে আস্তে, হাঁটতে গিয়ে
দেখলে সেদিন পায়ের নিচে
আকাশ পড়ে, হাত পা ছুঁড়ে
মেঘ খেলছে পথের ধুলোয়
ও দিগ্বিজয়,
কাউকে তোমার সন্দেহ হয়?
শেষ প্রহরে ঘাড়ের ওপর
জ্যোৎস্না মেলে ফিরছ যখন,
বকুল গাছটা নড়ে উঠল,
পাঁচ-পাঁচটা গন্ধ পেলে!
ও দিগ্বিজয়, সত্যি বলো
কাউকে তোমার সন্দেহ হয়?
চোখের দিকে তাকিয়ে বলো
কাউকে তোমার সন্দেহ হয়?
ময়ূরপুচ্ছ দোয়াতদানি
আকাশ টাকাশ সত্যি তো নয়
চতুষ্কোণী রঙের ফিনিশ,
চশমা ঢাকে রক্তচক্ষু
এমন কোন লোককে চিনিস?
জানিস, তবে এ মাসটায়
ওসব কথা বলা বারণ,
ধানের দুধ উথলে জ্যোৎস্না
করবে তারা শরীর ধারণ।
দেখতে পেলাম আলতো ভেজা
ধপধপে চাঁদ একটুখানি,
সেদিন থেকেই খুঁজে যাচ্ছি
ময়ূরপুচ্ছ দোয়াতদানি!
আমিও হাঁটছি অন্যরকম
কিছু একটা পেতেই হবে
যা নেবে নাও আগুন বা জল,
তোমার চোখে আমার বুকে
দেখায় কেমন কষ্ট কাজল
তুমি হাঁটছ, হাঁটতে হাঁটতে
ছোট্ট বিষাদ বিন্দু হলে,
আমি তখন একটি জানলা
সামনে মগ্ন সিন্ধু দোলে
আমিও হাঁটছি অন্যরকম
তোমার পথের পুড়িয়ে ঘাস,
বারমেসে আগুন আমার
তোমার যেমন জলেতে শ্বাস।