Cafe কলামে – আত্মজ উপাধ্যায় (পর্ব – ৩৭)

মাতৃত্বতা

‘অকাল বয়ঃসন্ধি’কি? পাঁচ বছর বয়সে কি করে বিশ্বের সর্বকনিষ্ঠ মা হলেন। ডাক্তারি শাস্ত্রে বিস্ময় অনেকেই বলছেন। কিন্তু প্রকৃতিকে ডাক্তারি শাস্ত্র কি জয় করেছে? করেনি। বিজ্ঞান বলতে আমরা যা বুঝি তা কতকগুলি লোকের অভিজ্ঞতা। অনেকে তার বাইরে পরখ করার সুযোগ পাননি। কেননা মানুষের ধূর্তপনামি, গোঁড়ামি, এবং খেয়ালপনামির জয় আমাদের সমাজে এক চলমান বিস্ময়।
পশুপাখীর জগতে, স্ত্রী পশুর যখন প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণের লক্ষণ দেখা দেয় তখনই সে বাচ্চা দিতে পারে। সে মারা যায়না বা কেউ তা ক্ষতি মনে করেনা। চাষারা, যারা গৃহপালিত অনেক গরুবাছুর লালন করেন, যাদের খাটাল আছে পশুর দুধ বিক্রী করে, অসংখ্য গরুমোষ পালন করে, হাঁস-মুর্গী-পায়ড়ার চাষ করে, বা চিড়িয়াখানায় নানা পশুর গবেষণা ও লালন করে তাদের কোন মাথা ব্যথা নেই পশুপাখীরা বয়সকালে বাচ্চা দেবে না যার যখন সময় হবে তখন প্রসব করবে।
মানুষ ধূর্ত ও কৃত্রিম। প্রগতির নামে শয়তানি করে। আর এই শয়তানি শুরু হয়েছে দাসপ্রথার উচ্ছেদের পর। দাসপ্রথায়ও দেখা গেছে একটি মেয়েকে আট/দশ বছরেই বাচ্চা দিতে, কারণ তারা তখন গরুর মত চাষ হত। বাচ্চা দিলেই বেশি আয় হবে। যেমনটি খাটালের গরুমোষের মালিকরা করে।
বিজ্ঞান বলে মানুষ বিবর্তনের শ্রেষ্ঠ জীব, তার মূল সহজাত প্রবৃত্তিগুলি খুব কঠিন ভাবে তার শরীরে দেওয়া আছে যা প্রাকৃতিকভাবে নষ্ট হয়না। যেমন মানুষের মস্তিষ্ক, মানুষের জননতন্ত্র, গ্রামে গঞ্জে বনে জংগলে মানুষের অসুখ বিসুখ, রক্তপাত ইত্যাদি।
বিবর্তনের এই ছবিটা আপনি দেখুন।

এখানে দেখানো হয়েছে বিবর্তনের একটি অংশ যেখান থেকে পশু আর মানুষের পূর্বপুরুষ একটি ধারাতে ছিল। MB হল মা ও শিশুর মধ্যেকার বন্ধন ও শারিরীক অবস্থা, PB হল দুটি পশুর ( স্ত্রী ও পুরুষ)মধ্যেকার বন্ধন, আর H# হল মানুষের মধ্যেকার বিপরীত লিংগের প্রতি রোমান্টীক বন্ধন। ডায়াগ্রামে দেখানো হয়েছে, মানুষের মত বনবো ও শিম্পাঞ্জীর চরিত্রও মানুষের মত। বিজ্ঞানীরা নিশ্চিত করেছেন মানুষ 98.8 percent of DNA বনবো ও শিম্পাঞ্জীর সাথে মিল খুঁজে পেয়েছেন। এর মানে দাঁড়ায় মানুষের নিকটতম আত্মীয় এই বাঁদর প্রজাতি।
বনবো ও শিম্পাঞ্জী মানুষের মত কৃত্রিম প্রাণী নয়। তারা প্রাকৃতিক কালচার বা সংস্কৃতি তাদেরও আছে। তাদের মধ্যে সেক্স প্রাকৃতিক সময়ে ঘটে অর্থাৎ যখন মেয়েদের ডিম্বাণু তৈরি হয় তখনই তারা গর্ভবতী হয়। এবং তাদের কোন ক্ষতি স্বাস্থ্যের হয় বলে বিজ্ঞানীরা সন্ধান পাননি।
মানুষের মধ্যেও ৫ বছরের মেয়ের থেকে ১০ বছরের মেয়ের গর্ভধারণের ইতিহাস আছে। এবং তা কম সংখ্যক নয়। ১৮ শতকের আগে অব্দি, মেয়েদের বিয়ে বা গর্ভধারণ সাধারণ বিষয় ছিল। বিশেষ করে ১২ বছর বয়সে অনেকেরই বিয়ে হয়ে যেত। এবং আমরা তাদেরই সন্তান।
জাতিসংঘের জনসংখ্যা বিভাগ (United Nations Population Fund) বলছে ৪০ শতাংশ মেয়ের বিয়ে ১৮ বছরের আগেই হয়। তার কারণ বলছে দারিদ্রতা। আর লিংগ বৈষম্যতা( Child marriage is the toxic product of poverty and gender inequality.)
আমি জাতিসংঘের বা তাদের শ্রেণীভুক্ত প্রতিষ্ঠানগুলির কাজ কর্ম বিশ্বাস করিনা। এগুলির বেশিরভাগ আমার মনে হয় ধাপ্পার মত কথাবার্তা বলে। এরা না প্রতিষ্ঠান থেকে প্রচুর টাকা পায় আর বিলাসী জীবনে অভ্যস্ত মানুষ ঠান্ডা ঘরে বসে নিজেদের যা মাথায় আসে তাই বলে। অধিকাংশ দেখা যায় প্রতিষ্ঠান বাঁচিয়ে রাখার জন্য ও অফিসের লোকগুলির জীবিকা বাঁচিয়ে রাখার জন্য কিছু গবেষণার মত কথাবার্তা তোইরি করে। তারা উপকারের চেয়ে অপকার বেশি করে।
যেমন ধরুন, শিক্ষা। UNESCO Institute for Statistics, July 2017 বলেছে।

এই টেবিলের তথ্যে নারী পুরুষের খুব পার্থক্য নেই
যেমন ধরুন রোজগার
International Labour Organization (ILO) is a specialized agency of the United Nations জাতিসংঘের বিশিষ্ট প্রতিনিধি বা বিভাগ। তারা জানাচ্ছে পুরুষ ৭৫ শতাংশ আর মহিলা ৪৯ শতাংশ।( The current global labour force participation rate for women is close to 49%. For men, it’s 75%. That’s a difference of 26 percentage points) এখানেও নারী পুরুষের অস্বাভাবিক পার্থক্য দেখিনা।
একটা তথ্য আপনি জানবেন, মহিলারা ঘর সংসার ছেড়ে বাইরে এসে কাজ করতে চায়না। সম্ভবও নয়। এটা অনেক মহিলার ইচ্ছা। এই নয় যে মহিলা গরীব, অনেক বিত্তশালী ঘরের মহিলারা ১০ টা ৫টা বাঁধা ধরা কাজ করতে অনিচ্ছুক। সুতরাং শ্রমের যে ২৬ শতাংশ পার্থক্য থাকবে তা অস্বাভাবিক নয়।
জাতিসংঘকে আমি পছন্দ করিনা, কারণ তারা মহিলাবাদী সংগ। তারা পুরুষের জন্য কোন কাজ করেনা। জাতিসংঘের যতগুলি বিভাগ আছে। অথচ তাদের কাজ করার টাকা আসে পুরুষের আয় থেকে। এটা তাদের গৎবাঁধা কাজ হয়ে গেছে মহিলা নিয়ে আলোচনা, ও মহিলারা খেতে পাচ্ছেনা, তাদের স্বাস্থ্য ঠিক নেই্‌ তাদের পড়াশুনা নেই ইত্যাদি একচেটিয়া বলে যাচ্ছে। এবং আমার আশংকা ভবিষ্যতে এর পরিণাম ভয়াবহ ক্ষতি । এখনই দেখা যাচ্ছে, মহিলারা মাতৃত্বকে দাসত্ব মনে করে। বেশি বয়সে বিয়ে করলে বিবাহ বিচ্ছেদ বেড়ে চলছে। বিচ্ছেদ বাড়লে তার কারাপ প্রভাব সন্তানের উপর গিয়ে পড়ে। সন্তানেরা অনাথ ভাবতে শুরু করে।
পৃথিবীর ৪০ শতাংশ বিয়ে কম বড় সংখ্যা নয়। অর্থাৎ ১২থেকে ১৮ বছরের মধ্যে মেয়েদের বিয়ে আজও হচ্ছে। এই মানুষগুলি কি মারা যাচ্ছে?
লিনা মেদিনা, পেরুর মেয়ে, ১৯৩৩ সালে জন্ম, ৫বছর ৭ মাসে একটি ছেলে সন্তানের জন্ম দেয়। পুলিশ তার বাবাকে সন্দেহ করে ধরে নিয়ে যায়, পরে কোন প্রমাণ না পেয়ে ছেড়ে দেয়। লিনা মেদিনাকে নিয়ে সেই থেকে নানা বিজ্ঞানী নানা ভাবে গবেষণা করে। লিনা মেদিনা আজও বেঁচে আছে, ৮৭ বছর বয়েস। ১৯৭০ সালে বিয়ে করেন তার বার সন্তান হয়। কিন্তু তার সাথে কে সেক্স করেছিল তা কেউ নির্ণয় করতে পারেনি লিনাও বলতে পারেনি। বিজ্ঞানীরা বলেছে লিনা ৩ বছর থেকেই পিরিয়ড শু্রু করেছিল। তার স্তন ও বেড়ে উঠছিল।
এরকম ঘটনা একটা নয়। অনেক ঘটনা আছে ৬/৭ বছরে মেয়েরা গর্ভবতী হয়েছে সন্তান বড় করেছে তারাও শিক্ষিত হয়েছে। হাতের সামনে বাস্তব প্রমাণ দেখে আমার মনে হয় জাতিসংঘের মত প্রতিষ্ঠানগুলি মানুষকে ভুল বলছে।

 

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।