হঠাৎ অদ্ভুত একটা শোঁ শোঁ আওয়াজ ভেসে এলো সুমনার কানে। আর সেই সঙ্গে দুধ নদীতে উঠল প্রবল ঢেউ। বাতাস বইতে শুরু করল আরো জোরে। দুধ নদীতে ঢেউয়ের সঙ্গে ঢেউয়ের লাগলো ঘষা। সৃষ্টি হলো সাদা ফেনা ।ঠিক যেন দুধের ফেনা ।একি, সাদা ফেনার উপরে বসে ভাসছে, ওরা কারা?
ঢেউয়ের উপরে চেপে আছে অনেকগুলো সুন্দরী মেয়ে। কিন্তু কি আশ্চর্য! ওদের উপরের দিকটা মানুষের মতো হলেও পায়ের দিকটা তো মাছের লেজের মতো মনে হচ্ছে। তবে কি এরাই মৎস্যকন্যা?
সুমনা দেখল ,ঝোড়ো হাওয়ার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে আকাশের বুকে কারা যেন ভেসে বেড়াচ্ছে ডানা নেড়ে ।ওরা কারা? একটু পরেই ওরা ডানা নাড়তে নাড়তে নিচে নেমে এসে দাঁড়ালো নদীর পাড়ে ।সুমনা ভাল করে লক্ষ্য করে অবাক হয়ে গেল। আরে, ওরা তো পরী ।ওদের কথাই তো ভাবছিল সুমনা। লাল, নীল, আসমানী, হলুদ সবুজ ,কমলা ,বেগুনি সাত রঙের সাতটা পরী এসেছে। সুমনা গল্পে পরীদের কথা শুনেছে। ওরা দেখতে নাকি খুব সুন্দর। আজ সামনা সামনি দেখে সুমনা বুঝতে পারল, সত্যিই তাই। পরীরা দেখতে ভারী সুন্দর। ওরা ওদের ডানাগুলো নদীর পাড়ে খুলে রেখে হাত ধরাধরি করে নাচতে শুরু করলো। কি সুন্দর সেই নাচ ।দেখলেই মন ভালো হয়ে যায়। ওরা নাচ শেষ করে দুধ নদীতে নামল ।নদীতে তখনো ভাসছিল মৎস্যকন্যারা। ওদের মধ্যে যে মৎসকন্যাকে দেখতে সবচেয়ে সুন্দর, সে হাতজোড় করে নমস্কার করলো সাত পরীদের। সাত পরী দুধের ফেনার ভাসতে ভাসতে চলে গেল মাঝ নদীতে, সেই সুন্দরী মৎস্য কন্যার কাছে ।
সবাই মিলে আদর করলো তাকে। তারপর শুরু হল নদীতে নেমে সাঁতার কাটার পালা। সাত পরী আর সেই সুন্দরী মৎস্যকন্যার সাঁতার কাটার প্রতিযোগিতা শুরু হল যেন। কিন্তু পরীরা কি আর মৎস্য কন্যার সঙ্গে সাঁতার প্রতিযোগিতায় জিততে পারে ?
মৎস্যকন্যা বারবার এগিয়ে যাচ্ছিল সামনে, ,পিছিয়ে পড়ছিল পরীদের দল ।
একসময় সাঁতার কাটা শেষ হলো। সব পরীরা মিলে আবার আদর করলো মৎস্যকন্যা কে ।আর তারপরই মৎস্যকন্যা তার সঙ্গী সাথীদের নিয়ে দুধ নদীতে ডুব দিল।
পরীরা পাড়ে উঠে এলো। আপন আপন ডানা আবার লাগিয়ে নিল পিঠে।তারপর ওরা এল দুধরাজের কাছে ।দুধরাজের মুখে গলায় পিঠে হাত বুলিয়ে আদর করল ওরা। ওদের এখন খুব কাছ থেকে দেখতে পাচ্ছে সুমনা ।সত্যি
খুব খুব খুব সুন্দর দেখতে ওরা! ওদের শরীর থেকে ভেসে আসছিল সুন্দর মিষ্টি গন্ধ ।সুমনা বুক ভরে শ্বাস নিতে নিতে নিতে বলেই ফেলল, সাত পরী, তোমরা কি সুন্দর দেখতে গো ।সুমনার কথা শুনে ওরা খিল খিল করে হেসে উঠল ।মনে হল যেন কোনো মিষ্টি বাজনা বাজছে ।ওরা সবাই মিলে একসঙ্গে বলল, তুমিও খুব ভালো মেয়ে সুমনা ।আমরা তোমাকে উপহার দিতে চাই ।
—-সে তো ভালো ।কিন্তু আমার কাছে তো কিছু নেই ,আমি তোমাদের কি উপহার দেব?.
— এখন নেই তো কি হয়েছে ?শিগগির তুমি অনেক কিছু পাবে, অনেক অনেক জিনিস । তখন দিও আমাদের। –
—কোথায় দেখা পাব তোমাদের?
—– যেকোনো পূর্ণিমা রাতে এই নদীর পাড়ে এলে আমাদের দেখতে পাবে।
—- কিন্তু আমি এখানে একা আসবো কি করে ?—দুধরাজ নিয়ে আসবে তোমাকে ।
—তোমরাও ওকে দুধরাজ বলছো ?
—-বলছি ।কারণ,সত্যি ওর নাম দুধরাজ ।————–তোমরা চেনো ওকে ?
—-খুব চিনি।
— কি করে?
—- সে কথা অন্য একদিন বলব। এখন আমাদের যাবার সময় হয়েছে। তোমাকে উপহার দিয়েই আমরা চলে যাব।
—- কোথায় যাবে ?
—পরীর দেশে।
লালপরী বলল, নাও, হাত পাতো এবারে।
সুমনা হাত পাতে। আর তখন সাত পরী ওদের ডানা থেকে এক এক করে সাত রংয়ের সাতটা পালক তুলে দিল সুমনার হাতে।
লাল পরী বলল, এগুলো যত্ন করে রেখো সুমনা। বিপদে পড়লে কাজে লাগবে।
কথা শেষ করে ওরা উড়তে উড়তে উপরে উঠল। আস্তে আস্তে মিলিয়ে গেল আকাশের বুকে।