লখনউ এর শীতের রাত । নবাব মহলের সবাই এখন নিন্দ্রাচ্ছন্ন । নবাব এর শোবার ঘরের সামনেই একটা বিশাল বাগান । পাশেই একটা জলাধার । চাঁদের আলো সেই জলাধারে প্রতিফলিত হয়ে ছড়িয়ে পড়ছে নবাব মহলের প্রতিটি কোণে । অন্যসময় হলে এমন সময় ঠিক দুই লাইন লিখতে বসতেন আসফ উদ দউল্লা । গোটা অওয়ধ জানে তার লেখার ক্ষমতা । শব্দ নিয়ে খেলা তার বহুদিনের অভ্যেস । কিন্তু এখন তার সাধের অওয়ধ এর আকাশে দুর্যোগের ঘনঘটা । কিছুতেই মনকে শান্ত রাখতে পারছেন না নবাব । নিজের রাজ্যের মানুষগুলো না খেতে পেয়ে মারা যাচ্ছে অথচ তিনি কিছুই করতে পারছেন না । নানান রকম ভাবনা চিন্তা আসছে মাথায় কিন্তু কিছুই তেমন ফলপ্রসূ হচ্ছে না । হাসান কে ডেকে পাঠিয়েছেন এত রাতে। কিছু একটা করতে হবে । হঠাৎ পায়ের আওয়াজ শুনে তিনি বুঝতে পারলেন যে হাসান এসেছে । হাসান আসফ উদ দউল্লার সবচেয়ে খাস লোক । হাসানের বুদ্ধি ও বিচক্ষণতার তুলনা মেলা ভার ।
“ নবাব হুজুর ! আমার খোঁজ করেছিলেন ! কোন তকলিফ হয়েছে নবাব ? “
“ হ্যাঁ হাসান । তকলিফ তো শুধু আমার নয় । এখন গোটা অওয়ধ তকলিফে আছে । “
হাসান কিছু উত্তর দিল না । চুপ করে রইল । হাসান জানে পরিস্থিতির ভয়াবহতার কথা । অওয়ধ এর রাস্তায় পড়ে রয়েছে না খেতে পাওয়া দেহ । গরীব – বড়লোক , শিক্ষিত – অশিক্ষিত কারোর কাছে অর্থ নেই । নিশ্চিত মৃত্যুর দিকে এগিয়ে যাচ্ছে গোটা অওয়ধ ।
“ আজকে কি খবর আছে হাসান ! “
“ আপনি তো জানেন নবাব চারদিকে কি চলছে । আজ খবর পেলাম প্রদেশের পশ্চিম দিকেও নাকি দুর্ভিক্ষ শুরু হয়েছে । “
আসফ উদ দউল্লার মুখটা আরও গম্ভীর হয়ে গেল ।
“ কি আর করা যাবে হাসান ! সাহেবদের হাতে গোটা অওয়ধটাই একদিন শেষ হয়ে যাবে । সাহেব রা নিজেদের ছাড়া কারোর কথা ভাবে না । রাজস্ব ছাড়া কিছু বোঝে না । “
“ নবাব ! অপরাধ নেবেন না । আমরা তো তবু সাহেবদের সাথে দোস্তি করি । আপনার সাথে লর্ড সাহেবের বন্ধুত্ব তো সর্বজনবিদিত । “
হো হো করে হেসে উঠলেন নবাব ।
“ যা বলেছ হাসান । উপায় কি আর ! আজ নয় কাল পুরো অওয়ধ টাই দখল নিয়ে নেবে ওরা । কূটনীতি দিয়ে সাহেবদের অ্যাটকে রাখতে হবে । কোম্পানির সাথে যুদ্ধে পারা যাবে না হাসান । দেখেছিলে তো আব্বাজানের অবস্থা । শেষমেশ তো ওদের সব দাবিদাওয়া মেনে নিতে হয়েছিল । “
“ তাহলে এখন উপায় কি হুজুর ! ” নীচু স্বরে প্রশ্ন করল হাসান ।
“ খাজানা ব্যবহারের সময় চলে এসেছে হাসান । “
“ হুজুর অপরাধ নেবেন না । কিন্তু এখন রাজকোষের যা অবস্থা তাতে কি প্রজাদের দান করাটা সঠিক।