কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে মুহাম্মদ রফিক ইসলাম

১| বুভুক্ষুর বিলাপ

পেটে পাথর বেঁধে
সময়ের দোলাচালে নাচতে হয়, নাচি।
পুতুলের বংশ রক্ষায়—
নাচতে নাচতেই ভুলে থাকতে হয়
ছাইচাপা আগুনের ব্যথা।
অভুক্ত সন্তানের মুখ
মা-বাবার অষুধের সার্টিফিকেট
পকেটে পুরে—
আমি বাধ্য, অনুগত;
তাবেদারি মিছিলে!
হাতের মুঠোয় ভয়ের শপথ
স্লোগানে ‘মনিবের জয়!’
বড্ড এগিয়ে—
পঙ্গু স্ত্রীয়ের চিরকুট!
বাঁচার সংস্কৃতি যখন
পদলেহনে অপসংস্কৃতি
শ্রমদাসের অসভ্যতাই সভ্যতা আজ
তোমার আঙিনায় !
সর্বকালের স্মরণবেদীতে দাঁড়িয়ে
চাল-নুনের কাছে নতজানু জনতার
স্বাধীনতা ফুঁপিয়ে কাঁদে।
আর্তের ঘরে খুদিতের প্রসবে
আমি বরণ চাই না; বাঁচতে চাই—
নতুন করে…

২| সুখঘটিত অসুখ

পাশবালিশের মুখে
ওর সাবেক প্রেমিকের অর্থনৈতিক ক্যাচাল
মন্দ লাগে না
স্ত্রীয়ের মুখে পর-পুরুষের
‘মানিব্যাগঃ সুস্বাস্থ্য ও স্মার্টন্যাস’-সমাচারে
ঘোরে ঘুরে যাই
আবেগ-বাস্তবতায় দেখি
আমার পকেটবিহীন জামা ধোপানীর ঘরে
সাপলুডু খেলে
বয়সের বিকালে
আমাদের দাম্পত্য জীবনের টেলিফিল্ম
পারাবারিক চ্যানেলে প্রেমনাড়ু বোনে

৩| স্ফিংসের মুখোমুখি

সেকালে বাবা আমারে খুঁজতেন
একালে আমি খুঁজি
পড়শীর কেউ একজন আমারে নিয়া
কাগজের নৌকায় চড়তেন
ভাসতাম
একালে আমি কাঠের নৌকায় চড়ি
হাবুডুবু খাই, নাকে-মুখে জল গড়ায়
সর্দি হয়, জ্বর আসে
বুক চেপে কাশি
সেকালের বাবা
একালের আমি
বাবার প্রজন্মকে খুঁজি
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।