পুরুষ দাঁড়কাক বলল,
আমরা বিদেশ থেকে এসেছি ।
টিকটিকি পুলকিত হয়ে জিজ্ঞেস করল –
বিদেশ বলতে কোথায় !
ইংল্যান্ড ।
অ্যাঁ । চমকে উঠল টিকটিকি ।
সে তার পিতামহের কাছ থেকে শৈশবে ব্রিটিশ রাজত্বের কথা শুনেছে । তখন এখানকার মানুষ পরাধীন ছিল । বিপ্লবীরা গান গাইতে গাইতে ফাঁসির মঞ্চে উঠেছে । কতো টিকটিকি তাঁদের সঙ্গে সহমরণেও গেছিল অথচ পুলিশের চরদেরও ‘টিকটিকি’ বলা হতো । ঘৃণ্য পেশা । পিতামহ বা প্রপিতামহের প্রতিবাদ জানানোর উপায় ছিল না কারণ তাঁদের ভাষা মানুষ বুঝত না ।
মহিলা দাঁড়কাক এবার বলল,
পলাশিপাড়াটা আমাদের ভালো লেগেছে । এখানেই আমরা থাকতে চাই ।
টিকটিকি হাসল ।
মানুষের মতো আমাদের তো কোন কাঁটাতার নেই । তাই পাসপোর্ট লাগবে না । দু-রাত তো থাকা হয়ে গেছে ।
এবার কোকিল-দম্পতির দিকে তাকিয়ে টিকটিকি বলল,
গণনা পত্রে এদের সংযুক্ত করতে হবে ।
কোকিলদ্বয় সমস্বরে বলল,
যে আজ্ঞে মহাত্মন ।
টিকিটিকি বলল,
তোমাদের কাজে আমি প্রীত হয়েছি । আরো একটি দায়িত্ব তোমাদের নিতে হবে !
পুরুষ কোকিল বলল,
কী ?
তোমাকেই করতে হবে । নির্বাচনী সংগীত রচনা করে সুরও দিতে হবে ।