কবিতায় পদ্মা-যমুনা তে সৌমেন দেবনাথ (গুচ্ছ কবিতা)

১| মরণ

এত বিজ্ঞ হলাম তবু
মেলে নাকো অংক,
মাটির ঘর হবে বিছানা
হায় সোনার পালঙ্ক!
গদির পরে থাকি আয়েশ
উতরোল খুশি হাসি,
আঁধার ঘরে সোনার দেহে
বাতাস করবে কোন দাসি?
কালকে কোথা হবে যাত্রা
কোথায় পঁচবে দেহ,
কিসের তরে বড়াই মহা
বাঁচবো না তো কেহ।
আল্লাহর যপ ভুলে মোরা
করি নানান হট্ট,
সাধন ছাড়া মরণ হলে
সাজা পাবো বড্ড।

২| দুই পারের কথা

নাও তো ভাবি আরো একবার
এ সংসার হবে সার,
রবে না ঐ চিহ্ন তোমার
বন্ধ হবে হুংকার।
রবে না কারোর ঐ বাহার
ধরা হবে চুরমার,
রবে না শত্রুর অস্ত্রে ধার
ভালো নয় অহংকার।
পাড়ের কড়ি বড় দরকার
সবাই মোরা সবার,
দাওকো খুলে বদ্ধ দুয়ার
করো পরোপকার।
দূর করো মনের সব আঁধার
নিভাও আগুন হিংসার,
কেউ কাউকে করবো না বিকার
আর নয় পাপ অঙ্গিকার।

৩| সন্ধ্যা হলে

ওরে নেরে কাজ গুছিয়ে
যেতে হবে সন্ধ্যা হলে,
সোনালি সকাল তো এখন
তাই তো চলিস গায়ের বলে।
দেখছিস ঘন অমানিশা
আসছে দিতে হানা সামনে,
আছিস বলে সুখ সাগরে
খেলিসনে খেলা আনমনে।
জীবনে তোর আসছে ভাটা
পাল্টে যাবে বেশ আর ভূষা,
যাসনে আর অপকর্মেতে
হোসনে শান্তি সর্বনাশা।
পুণ্য কর্ না, কর্ না পুণ্য
তাতে শান্তি পরকালে,
ওরে নেরে কাজ গুছিয়ে
যেতে হবে সন্ধ্যা হলে।

৪| শেষ বিছানা

মৃত্যুর স্বাদ সবাই পাবে
ভাবলে ভাবি ভয়াল,
এই পৃথিবীর সুখ যে থেকে
কেনো কাড়ো দয়াল?
কাজের মাঝে থাকি যখন
কাজে পাগলপারা,
মৃত্যুর কথা ভাবলে খোদা
হয়ে যাই তো সারা।
গদির পরে আরাম ঘুমাই
খাই গোস্ত পনির ছানা,
প্রাণ পাখিটি উড়ে গেলে
কবর তো শেষ বিছানা।
তোমার এরশাদ পালন করি
তোমার ইবাদতে মাত্,
বহু ভুলের মালিক আমি
কবুল করো মোনাজাত।

৫| স্রষ্টাকে ডাক্

পাপ যে করিস বোকার হাড্ডি
বুঝতে শিখবি কবে?
এত স্বাদের জনম পেয়ে
করলি কি তুই ভবে?
অস্ত্র হাতে কর্কশ হাসি
রক্তের হলিখেলা,
করবি কি তুই বলরে বোকা
ফুরায় গেলে বেলা?
তোর পাপের ভার কে নেবে বল্
বলরে ভণ্ডের রাজা,
অগ্নিগর্ভে ফেলবে তোরে
কেমনে সইবি সাজা?
স্রষ্টার ডাক নিবিষ্ট চিত্তে
কর্ কিছুটা পুণ্য,
কঠিন জ্বালায় জ্বলবি তুই তো
হলে স্রষ্টা ক্ষুণ্ন।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।