কর্ণফুলির গল্প বলা সাপ্তাহিক ধারাবাহিকে মনিরুল ইসলাম (পর্ব – ২)
by
·
Published
· Updated
হেরফের
ও বু- আমি কি তা জানি?
তোরা! এই ভাবে রাস্তায় তাড়াতাড়ি করছিস লােকে কি বলবে- কলামের মা বলল ।
লােকজনের গোলযোগ দেখে। গ্রামের মেম্বার কাদের আলি এসে হাজির। জিজ্ঞাসা করল কি হলো, এখানে এত লােক কেন? দু-পা এগিয়ে গিয়ে দেখল নবাব আলির বউ জাহানারা রক্তমুখো হয়ে বসে আছে। আর তাকে ঘিরে এক এক জন এক এক রকম কথা বলছে।
নবাব কি হয়েছে রে?
ভাই অনেক কথা, ওই পাশটা এসো।
বল কি হয়েছে? দু-পা এগিয়ে এসে জিজ্ঞাসা করল মেম্বার কাদের আলি।
আর বােলাে না ভাই, ওই মাঝের পাড়ার সাজানের ছেলে রিন্টু আমার মেয়েকে সবসময় রাস্তাঘাটে বিরক্ত করে। আমি একবার বারণ করেছি। কিন্তু ওই অসভ্য ছেলেটা কোনও মতে আমার মেয়ের পিছন ছাড়ছে না।
–তুই ওর আব্বাকে বলেছিস ?
না।
কেন? একবার বলা উচিত ছিল।
ভুল হয়েছে।
এখন যা লোক জানাজানি করেছিস সে জায়গা তো আর নেই।
তাহলে উপায়?
শােন্ তুই এক কাজ কর, শালিস ডাক। তারপর আমি দেখছি ওকে কিকরে জব্দ করা যায় ।
ঠিক আছে তাই হবে। তা ভাইসাজানকে কে বলবে?
-আমি বলব। তুই মোড়লদের বল, তারপর যা করতে হয় আমি করব ।
বিপক্ষ দলে ভােট দেওয়া সাজানকে অনেকদিন ধরেই টাইট করার পরিকল্পনা করছিল মেম্বার
কাদের আলি। এইবার একটা সুযােগ হাতে এসেছে, এই সুযােগ কোনও মতে হাতছাড়া করতে রাজি
নয় কাদের আলি। মুহুর্তের মধ্যে তার মাথায় প্ল্যান এসে গেল, মােটা টাকা জরিমানা করতে হবে। যেই
কথা সেই কাজ।
কবে বলব ?
দু’টো দিন সময় দে। আজ সােমবার, তাহলে আগামী বুধবার সন্ধ্যা ৭ টায় মােড়ের মাথায় সবাইকে বসতে বল। আর ওপাড়ার কেতাবকে ঢ্যঁঢরা পিটিয়ে সারা গ্রামের মানুষকে জানিয়ে দিতে বল্।
একটা ভালােমতাে বিচার চাই কিন্তু।
-তুই নিশ্চিন্তে থাক। এমন জরিমানা করব বাপ-ছেলের একসঙ্গে ভালােবাসা করার সাধ মিটে
যাবে।
–সাথে অন্যায় স্বীকারও করতে হবে।
সে আর বলর্তে। তুই বৌমাকেনিয়ে বাড়ি যা, তারপর আমি দেখছি কিভাবে কি করা যায়।
নবাব তার বউকে নিয়ে বাড়িতে যায়। তারপর ডাক্তার ডেকে জাহানারার চিকিৎসা করায়।
বিকালে বাড়ি থেকে বার হয়ে গ্রামের সমস্ত মােড়ল-মাতব্বরদের কাছে গিয়ে তাদের শালিসি সভাতে থাকার কথা জানায়। এবং সাথে সাথে অনেক সাধারণ মানুষকেও জানায় শালিসি সভাতে থাকার জন্য।