অনেক ছোটো থেকেই পাহাড় প্রেমিক আমি। তাই যখন দেবতা ডাক পাঠালেন ভূস্বর্গ ভ্রমণের তখন মেতে উঠলাম। আমার অফিসে ছুটি নেওয়া ছিলো ৮ থেকে ২০ জুলাই। কিন্তু কোলকাতা থেকে অমরনাথ যাত্রার তারিখ দেখলাম ১২ তারিখ রাত সাড়ে এগারোটার হিমগিরি তে। বাড়ি ফিরবো ২৬ তারিখ, তারপর দুইদিন রেস্ট নিয়ে ২৯ তারিখ জয়েন করবো ঠিক করলাম। সেইমতো অফিসে জানিয়ে, প্রয়োজনীয় মেল সেরে নিলাম জুন মাসের শেষ সপ্তাহে। এবার দিন গোনা ও জিনিস পত্র কেনা কাটার পালা।
ছোটবেলা থেকেই পাহাড়ে যাই বলে আমার মোটামুটি সব কিছুই ছিলো। উলিকট, পুলোভার অভাব ছিলো না কিছুরই, কিন্তু নির্মলদা বার বার সতর্ক করে দিয়েছিল যে ভালো গ্রিপ আছে এমন জুতো আমি নিয়ে যাই। এক বিকেলে সেটাও সংগ্রহ করলাম। আর বিশেষ কিছু নেওয়ার ছিলো না, খালি একবার ব্যাঙ্ক একাউন্টে চোখ বুলিয়ে নিলাম। কি জানি কি দরকার হয় কখন, যদিও পুরো পেমেন্ট আমার আগেই করা হয়ে গিয়েছিল।
আমার দাদু আমাকে ডেকে একটি বই দিলেন। দেখলাম বিখ্যাত সাহিত্যিক শঙ্কু মহারাজের লেখা অমরতীর্থ অমরনাথ। খুব খুশি হয়ে এক রাত্রে পুরো বই শেষ করে ফেললাম। অনেক তথ্য পেলাম, যদিও ওনারা গিয়েছিলেন পাহালগাঁও থেকে মহাগুনাস পাস ধরে, আর আমরা সময়াভাবে বালতাল দিয়ে যাবো। তবে বইটির মধ্যে ঐ রাস্তায় যাওয়ার ও উল্লেখ ছিলো। আরো একটি জিনিস মনে পড়লো বইটি পড়তে গিয়ে, ওনারা যখন গিয়েছিলেন তখন একটি বাংলা সিনেমা তুষারতীর্থ অমরনাথ এর শুটিং চলছিল, পরবর্তীতে আমি ছোটবেলায় সিনেমা টি দেখেছি। যাবার আগে আরেকবার দেখবো বলে, ইউটিউব, টরেন্ট, পাড়ার ভিডিও লাইব্রেরি কিছুই বাদ দিলাম না, কিন্তু কাকস্য পরিবেদনা, সব জায়গা থেকেই নিরাশা নিয়ে ফিরতে হলো।
জুলাই এলো, আমাদের যাবার দিন যেন ঘোড়ায় চড়ে কাছে আসতে লাগলো। কিন্তু তখনো কি জানি যে দেবতা নিজের কাছে ডাক পাঠিয়ে আমাকে এক বিশাল বড়ো দুর্ঘটনার হাত থেকে রক্ষা করবেন?