গল্পেরা জোনাকি -তে ইলা চক্রবর্তী

সরস্বতী পুজো
সরস্বতী পুজো ভাবতেই মনে এক অজানা আনন্দে পুলকিত হয়ে ওঠে। আজ আমার বয়স হয়েছে চুলে পাক ধরেছে, সময় তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে গেছে কিন্তু আমার মন সেই ছোটো বেলার স্মৃতিতেই আটকে আছে।
তাই আজ সেই ছোট্ট বেলার স্মৃতির আরশিতে নিজের মনটাকে আবার খুঁজে নেবো।
প্রেম বলতে সরস্বতী পুজোর কোথাই মনে পড়ে।
পুজোর দিন ভোর বেলা শীতে কাঁপতে কাঁপতে হলুদ মেখে স্নান করা। মায়ের কাছে কেঁদে কেঁদে,
বেছে বেছে হলুদ রঙের প্রথম শাড়ী পড়া। ওহ্ মনে পড়লেই গায় কেমন কাঁটা দিয়ে ওঠে। তখন আমার বয়স ১৩/১৪ হবে। সবে আমার মন শরীর নিজের খেয়ালে বেড়ে উঠেছে।
শরীরে মনে এক অজানা ভালোলাগার হয়তোবা নতুন প্রেমের ছোঁয়ায় শিহরিত এক অনুভূতি জড়িয়ে থাকার সময় ছিল তখন।
খুব সেজে গুঁজে স্কুলের পুজোর প্যান্ডেলে যেতাম। পুজোর আয়োজন করা, খিচুড়ি রান্না, দারুন ব্যাপার।আমার স্কুল ছিল ছেলে মেয়ে একসাথে।আমার সিনিয়র ক্লাসের একটি ছেলে পড়াশোনায় খুব ভালো ছিল, সে খুব আমার দিকে তাকাতো আর মুচকি হাসতো, আমি কিছুই বুঝতাম না কিন্তু এক অজানা আকর্ষন আমি অনুভব করতাম,সেই সরস্বতী পুজোয় ওকে দেখার প্রবল ইচ্ছা বেশ দেহ মনে রোমাঞ্চ এনে দিত। আমি সেই পুজোর আনন্দের সাথে সাথে অপেক্ষা করতাম অজানা ভালোলাগার আবেশের। আজ বুঝতে পারি সেটা ছিল প্রথম ভালোলাগা কিংবা বয়সের ধর্ম। সে যাই হোক সবটাই প্রথম অনুভূতি তাই ভালোলাগার আবেশে মন পুলকিত হয়েছিল সেদিন। সেদিনের সেই ভালোলাগা প্রথম প্রেমের ছোঁয়ার অনুভূতি আজও শিহরিত করে আমায়।তাই সরস্বতী পুজো এলে এক অনাবিল সুখানুভূতিতে আচ্ছন্ন হয়ে যায় মন। সরস্বতী পুজো মানেই আমার কাছে মনে হয় বিদ্যার সাথে সাথে এক মিষ্টি প্রেমের দিন। আজও দেখি ছোটো বেলার সেই আমারই মত ছোটো ছেলে মেয়েরা এক ঝাঁক প্রজাপতির মত উড়ে বেড়াচ্ছে। দেখি আর নিজেকে ওদের মাঝে খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করি।। আজ এই মধ্যগগনে এসে নিজের আমি টাকে খুঁজে বেড়াই!!!!!.