শীত আর শোককে
আলাদা করতে পারি না এখন।
(“পলাতক প্রিয়জন শোক রেখে গেছে”। )
লুটিয়ে পড়ে আছে পার্বণ।
শীতের বারান্দায়
রাত নামলেই এখন
মা উঠে আসেন সামনের দিঘি থেকে।
ঘন কালো জলে মিশে থাকে
মায়ের চুলের সুগন্ধি আভাস।
চিতাকাঠ ডাকে বড় অসময়ে
গিলে খায় যত খোয়াব আর প্রিয়জনের মায়া।
এমন পৌষের ঘন দুধেলা রাতে
ঘরে ঘরে যেমন চিতই পিঠে
আর খেজুর রসের আঘ্রাণ
তেমনই মায়ের হাতের ভালোবাসা আর নারকেলের গন্ধমাখা কড়াই
কি মায়ায় জড়িয়ে রাখে চরাচর এখনও।
স্মৃতি বিলি কাটে মন জুড়ে।
ঐ দিঘির জলে চাঁদের পিছুপিছু ডুবে গেছে তারা। বিসর্জনের বাজনা আর টুসুগানে মিশে গেছে
পার্বণের লাল শালু।
সংক্রান্তির রাতে বাজনা বাজে কোথায় যেন বিসর্জনের।
মিশে যায় জলে উলুধ্বনি আর অগণিত তারা।
মাকে সেদিন বেশি করে মনে পড়ে।
যে যায় সে সটান চলে যায়।
ফিরে আসে না আর।
আমার বারান্দায় ঝুলে থাকে শীতার্ত রাত,মায়া
আর কিছু আবছায়া।
মাছেরা ঘুমিয়ে পড়ে নি এখনও।
এত রাতে তারা ঘাই মারে জলে।
আর দেখি দিঘির পূর্ব কোণ থেকে উঠে আসছেন মা।
মায়ের সাদা শাড়িতে আজ
আমি ফুটিয়ে তুলব কুসুমরঙা
রেশমসুতোর কাজ,
আর শীতের গায়ে কুয়াশার ফোঁড় দিয়ে
গেঁথে তুলব নক্সীকাঁথা।
শোক ভুলে যাব আজ,
পার্বণ জড়িয়ে নেব বুকে।
পার্বণ – ২
“পলাতক প্রিয়জন শোক রেখে গেছে।”
শীতের বারান্দায় রাত নামলেই
মা উঠে আসে সামনের দিঘি থেকে।
ঘন কালো জলে মিশে থাকে
মিশমিশে কালো চুল।
চিতার কাঠ কি সব মুছে দিতে পারে?
এমন পৌষের ঘন দুধেলা রাতে
রান্নাঘরে মায়ের হাতের চিতই পিঠের সুবাস
আর খেজুর গুড়ের সে কি স্বাদু সহাবস্থান
এখন ঐ দিঘির জলে যেন সব ডুবে গেছে
বিসর্জনের বাজনা আর টুসুগানে মিশে গেছে পার্বণের লাল শালু
সংক্রান্তির রাত শেষ হতে চায় না।
মাকে সেদিন বেশি করে মনে পড়ে।
যে যায় সে ঐ দিঘি পেরিয়ে চলে যায়।
ফিরে আসে না আর।
আমার বারান্দায় ঝুলে থাকে শীতার্ত রাত আর কিছু আবছায়া।
মাছেরা মরে নি।
এত রাতেও ঘাই মারে জলে।
আর দেখি দিঘির পূর্ব কোণ থেকে উঠে আসছে মা।
মায়ের সাদা শাড়িতে আজ
আমি ফুটিয়ে তুলব কুসুমরঙা
রেশমসুতোর কাজ
আর শীতের গায়ে কুয়াশার ফোঁড় দিয়ে গেঁথে তুলব নক্সীকাঁথা
শোক ভুলে যাব আজ
পার্বণ জড়িয়ে নেব বুকে।