সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ২২)

তান্ত্রিক পিসেমশাই ও আমরা দুজন

৩৪
মনে পড়ছে আমার। যখন পিসেমশাইকে বলেছিলাম বাজেনকথা। রতন বললো, বেশি পাকামি করবি না ভূতের ব্যাপারে। মনে কর পুরো ঘটনাটা। আমি বললাম, ফালতু সব কথা। তান্ত্রিক হয়ে আপনি অলৌকিক কিছু করে দেখান দেখি। পিসেমশায় বললেন, বেশ পাঁচমিনিট পরে তুই এখান থেকে উঠতেও পারবি না নড়তে চড়তেও পারবি না।রতন বললো, আমিও দেখবো। দুজনকেই সম্মোহন করুন।পিসেমশায় বললেন, বেশি পাকামি মারতা হ্যায়। শালা বিপদে পরেগা। তারপর পিসেমশায় বসলেন এবং আবার সাধনা করতে শুরু করলেন। পাঁচ মিনিট পরে ঠিক আমাদের বললেন, ওঠ এবার।তারপর তাকালেন আমাদের দিকে । আমি আর রতন চেষ্টা করলাম অনেক চেষ্টা করেও উঠতে পারলাম না। ওঠা তো দূরের কথা। নড়াচড়া করতে পারলাম না। চুপ করে বসে আছি। কথা বলতে পারছি না। পিসেমশায় সত্যিই নড়াচড়া করতে পারছি না আমরা চেষ্টা করছি কিন্তু পারছিনা। কি হবে পিসেমশায়। ক্ষমা করে দাও। এবার মতো ক্ষমা করে দাও। আমাদের ঠিক করে দাও। আমাদের দুজনের আর্তচিৎকারে পিসেমশায় বলল ভয় নেই আমি আছি । তারপর পিসেমশায় আবার পাঁচ মিনিট সময় সাধনা করলেন। চুপচাপ বসে থাকলেন আমাদের দিকে তাকিয়ে। তারপর 5 মিনিট পর আমাদের বললেন এবার ওঠ। রতন আর আমি এবার উঠে পড়লাম উঠে নাড়াচাড়া করে দেখলাম না সব ঠিক আছে।কি সমস্যা বললেন না জেনে কারো সঙ্গে তর্ক করতে নেই। কম জ্ঞান হলো বিপদের লক্ষণ জানবি পড়বি পড়াশোনা করবি, তারপর তর্ক করবি। মানুষকে মারণ, উচাটনের দ্বারা অতিষ্ঠ করে দেওয়া যায়। তাকে এমনকি মেরে ফেলাও যায়। তারপর থেকে আমরা পিসেমশায় সঙ্গে তর্ক করতাম না।কোনো বিষয়ে যা বলতেন আমরা শুনতাম। তার সঙ্গে একটা পোষা ভূত থাকত। পিসেমশাই ভূতের এঁঠো খেতেন।
আমরা তার ভক্ত হয়ে পড়েছিলাম তার পিছনে পিছনে ঘুরতাম যদি কিছু জানা যায় যদি কিছু শেখা যায় । একবার রতন আর আমাকে নিয়ে পিসেমশাই গেছিলেন পাহাড়ি অঞ্চলে। সেখানে একটা বাড়িতে বন্ধুর বাড়িতে তিনি ঢুকেছিলেন এবং বন্ধুটার সঙ্গে তার অনেক দিন পর দেখা। সেই বন্ধুটাও তান্ত্রিক ছিল।পিসেমশায় বললেন, এখানে এসে তোদের পাহাড়টা দেখাবো বলে এই বন্ধুর বাড়ি এলাম এই বন্ধুটা মোটেও আমাকে পছন্দ করে না আমাকে হিংসা করে। তবু বাধ্য হয়ে এলাম। খুব সাবধানে থাকবি।পাহাড়ে ঘুরতে ঘুরতে পিসেমশায় আবার একটা সত্যি ঘটনা বললেন, গর্ভবতীর ঘটনা। পিসেমশাই বললেন, এ জন্মালে অনর্থ হবে। নবজাতকের মৃত্যুর খবর পেয়ে ওই এলাকায় গিয়ে পড়েছেন আর এক বিপদে। লোকজন বলতে শুরু করেছে এরা ওঝার জাত ।এরাই বাচ্চটাকে মেরেছে। পিসেমশাই আমাদের দুজনকে ধরে অদৃশ্য হলেন। তা না হলে সেদিন আমাদের জীবন শেষ হয়ে যেত।
তিনমাস ধরে করোনার আতঙ্ক , এনপিআর-এর ভয়, অন্যদিকে হাজার হাজার বাসিন্দার খাবার ফুরিয়ে আসছে, পানীয় জলের তীব্র সঙ্কট- সব মিলিয়ে ভয়াবহ অবস্থা।মিনা মারা গেল , সে আর তাঁর স্বামী উত্তরপ্রদেশ থেকে এই বস্তিতে আট মাস আগে আসে। থাকতে শুরু করে দশ ফুট বাই দশ ফুট একটি গ্যারেজে। রাতে যখন মেয়েটির দমবন্ধ হয়ে আসতে থাকে , তাঁর স্বামী দুই আত্মীয়কে নিয়ে একটি অটোরিক্শা ভাড়া করে নিউ আয়ুশ নার্সিংহোমে যায়। করোনা ভাইরাস সন্দেহে সেখানকার ডাক্তার মেয়েটিকে ভর্তি নিতে অস্বীকার করে, তখন তাঁরা দৌড়য় সরকারি সর্বোদয় মেটারনিটি হোমে। সোখানকার ডাক্তার বলেন তাঁর চিকিৎসা করার ব্যবস্থা ওই হাসপাতালে নেই। সেখানে প্রত্যাখ্যাত হয়ে এঁরা যখন ৪০ কিলোমিটার দূরে কান্ডিভেলির শতাব্দী হাসপাতালে পৌঁছয়, ততক্ষণে রাত আড়াইটে বেজে গেছে। সেখানে পরীক্ষা করে দেখা যায় মেয়েটির ফুসফুসে জল জমে গেছে, তখন তাঁকে রেফার করা হয় নায়ার হাসপাতালে , যেটা আরও ৩০ কিলোমিটার দূরে। সেখানেই তাঁর গলা থেকে লালারস নিয়ে পরীক্ষা করা হয়। ঘন্টাখানেকের মধ্যে মেয়েটি মারা যায়। পরীক্ষার ফল আসে কোভিড-১৯ পজিটিভ। এই ঘটনার পরে ওই বস্তিতে যখনই তথ্য সংগ্রহের জন্য স্বাস্থ্যকর্মীরা গিয়েছেন, তাঁরা কোনও সাহায্য পাননি। কেউ কোনও বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হননি। তবে এই মৃত্যুর পরে মেয়েটির স্বামী ছাড়াও আশপাশের পাঁচটি পরিবারের ৩২ জনকে স্থানীয় একটি স্কুলে কোয়ারেন্টিন করা হয়েছে। এছাড়া প্রায় সাড়ে ছ হাজার মানুষের ওই বস্তিকে কন্টেইনমেন্ট জোন বলে ঘোষণা করে চারদিকে কড়া পাহারা বসানো হয়েছে, যাতে কেউ যথেচ্ছ ঢুকতে বেরতে না পারে।রাতের কলকাতায় হেনস্থার শিকার এক রুপান্তরকামী। অভিযোগ, একা পেয়ে কেরোসিন ঢেলে দেওয়া হয়েছে তাঁর গায়ে। পুড়িয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন আক্রান্ত। ইতিমধ্যেই ঘটনার তদন্তে নেমে এক অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করেছে ফুলবাগান থানার পুলিশ।কাঁকুড়গাছির সেকেন্ড লেনের বাসিন্দা বছর ২০–এর ওই রুপান্তরকামী শুক্রবার রাতে ওষুধ কেনার জন্য বাড়ি থেকে বের হয়েছিলেন। সেই সময় এলাকাতেই আড্ডা দিচ্ছিল কয়েকজন যুবক। অভিযোগ, রুপান্তরকামীকে দেখতেই কটুক্তি শুরু করে তারা। এরপর আচমকা পিছন দিক থেকে তাঁকে লক্ষ্য করে ওই যুবকেরা কেরোসিন ছুঁড়ে দেয় বলে অভিযোগ। এমনকী সেই সঙ্গে লাগাতার তাঁকে পুড়িয়ে মারার হুমকিও দেয় বলে জানা গিয়েছে। এরপর বাড়ি ফিরে গোটা ঘটনাটি জানানোর পর পরিবারের সঙ্গে ফুলবাগান থানার দ্বারস্থ হন তিনি। কিন্তু শেষ রক্ষা হল না। মেরে দিল রূপান্তরকামিকে নির্মমভাবে পুড়িয়ে।এলাকার কয়েকজন যুবকের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ করেন তিনি।সেই অভিযোগের ভিত্তিতে তদন্ত শুরু করে ফুলবাগান থানা। শুক্রবার রাতেই গ্রেপ্তার করা হয় এক যুবককে। যুবক সব দোষ স্বীকার করে তারা হয়তো ভবিষ্যতে ফাসি হবে কিন্তু মিনার কি হলো সংসার ভেসে গেল সে তার গর্ভস্থ সন্তানকে নিয়ে আজ মৃত্যুর কোলে। মিনার অতৃপ্ত আত্মা ঘুরেফিরে বেড়াতে লাগলো। আর সেই রূপান্তরকামী রাস্তায় ঘুরে ফিরে বেড়াতে লাগলো তাদের দেখা হল দুজনের তারা ঠিক করল এদের সর্বনাশ করবে।রূপান্তরকামী বলল আমাকে যে হত্যা করেছে তাদের সংসারের সবকটাকে আমি একা একা মারব আর এই মিনার আত্মা বলল আমাকে যে পুড়িয়ে মেরেছে একজন ধরা পড়েছে কিন্তু আরও পাঁচজন ছিল সবকটাকে আমি মারবো ।তারা কিন্তু কথা রেখেছিলো। পিসেমশায়,মানে তান্ত্রিক বললেন, প্রচলিত বিশ্বাস অনুযায়ী, ভূত হল মৃত ব্যক্তির আত্মা যা জীবিত ব্যক্তিদের সামনে দৃশ্য, আকার গ্রহণ বা অন্য কোনো উপায়ে আত্মপ্রকাশ গল্প প্রায়শই শোনা যায়। রতন বললো, কি করে অদৃশ্য হলেন আমাদের নিয়ে। তান্ত্রিক পিসেমশাই বললেন, সবকিছু শুনে ফেললে আর আমার সঙ্গে থাকতে পারবি না। ভয়ে হার্টফেল করবি। রতন বলল, বলুন না। পিসেমশাই এর চোখ দুটো রক্তজবার মত লালবর্ণের হল। আমি রতনকে বললাম, চুপ…
পিসেমশাই বললেন এবার আমি কয়েকটি মজার গল্প বলব। তখন আমি তোদের মত ছোট ছিলাম।
রতন বলল,বলুন, গাঁজাখুরি হলেও ভালো লাগে শুনতে। আমি ইশারা করে রতনকে চুপ করতে বললাম। রেগে গেলে গল্প হবে না।
পিসেমশাই বললেন, আজ শোনাবো ভূতের নতুন গল্প। ভয় পেও না কিন্তু। প্রথমে আমার দেখা ভূত। ছোটোবেলার ঘটনা। হয়তো বিশ্বাস করবে না। তা হলেও বলছি শোনো।
অমাবস্যা র রাতে অন্ধকার হয় শুনেছি । কিন্তু তার থেকেও ঘন অন্ধকারের মধ্যে দিয়ে হেঁটে চলেছি চারজন ।হঠাৎ সামনে দেখি গলা থেকে মাথা পর্যন্ত কাটা একটা স্কন্ধ কাটা ভূত ।আমার আর অনুপের হাত পা কাঁপতে শুরু করেছে ।
ছোটো থেকেই জয় দা ও রমা দি র সাহস বেশী । আমরা ভয়ে বু বু করছি । এমন সময় দেখলাম অনুপকে কে যেনো ছুঁড়ে পাশের হাই ড্রেনে ফেলে দিলো ।
জয় দা হাঁক দিয়ে বললেন, কে রে ভয় দেখাচ্ছিস । কিন্তু ভূত কোনো সাড়া না দিয়ে থপাস করে বসে পড়লো ।
জয়দা বললেন, কে তুমি, বসে পড়লে কেনো ?
তারপর লাইনের পাথর কুড়িয়ে যেই না মারতে যাবেন তখন ভূতটা কথা বললো ।
বললো, আমি ভূত নই । আমি মানুষ ।
তারপর আমরা দেখলাম তার আপাদ মস্তক কালো জামা ও প্যান্ট দিয়ে ঢাকা ।
কালো জামার মাঝে সাদা গোল গোল ছাপ । ফলে অন্ধকারে আমরা সাদা ছাপ দেখতে পাচ্ছি কিন্তু আর কিছু দেখা যাচ্ছে না । শুধু দেহ টা ভেসে যাচ্ছে ।
আমি জিজ্ঞাসা করলাম, তাহলে অনুপকে ছুঁড়ে ফেললো কে ?
রমাদি বললেন, ভয় পেলে মানুষের আপৎকালীন হরমোন বের হয় । ফলে মানুষ বিপদ থেকে বাঁচার জন্য লাফিয়ে পড়ে ।
জয় দা বললেন, আর বসে পড়ে লোক টা পেচ্ছাপ করছিলো ।আর আমরা মনে করেছি ভূত বসে পড়েছে ।
অনুপ ততক্ষণে ড্রেনের কাদা মেখে উঠে আসছে ভূত হয়ে ।
বাড়িতে গিয়ে বলার পরে সবাই হেসে ফেলেছেন ।
কবরের পাশ দিয়ে যাওয়া আসা জীবনের ।যখন স্কুল থেকে মোটর সাইকেলে ফেরে তখন সন্ধ্যা হয়ে যায় । বর্ষার এক অবিশ্রান্ত বৃষ্টির দিনে একলা আসছিলো । বৃষ্টিতে কাকভেজা হয়ে চড়খীর মিষ্টি র দোকানে কিছু খাবার খেলো । তারপর চা পান করে একটু অপেক্ষা করলো বৃষ্টি থামার । কিন্তু মেঘ যেনো ফেঁসে গেছে । কোনো মতে ই বৃষ্টি থামার লক্ষণ নেই । অগত্যা মোটর সাইকেলে স্টার্ট দিলো । জোরে চালানো যাচ্ছে না । ধীরে ধীরে কবরের কাছাকাছি আসতেই সন্ধ্যা নেমে এলো ।
জীবনের খুব ভয় করছে । একবার বলছে আল্লাহ সালাম সালাম, আবার বলছে রাম রাম প্রণাম l
হঠাৎ একটি সাদা জামা পড়া মানুষ সামনে দাঁড়ালো । জীবন জোরে গাড়ি চালালো কিন্তু গাড়ি থমকে গেছে । এবার হাত দুটি পরম মমতায় মাথায় হাত বোলাতে শুরু করলো । জীবনের জীবন শেষ হবার উপক্রম । কিন্তু না মামদো ভূত টি শূন্যস্থানে ভাসতে ভাসতে বললো, তোমার বয়সী আমার ছেলেটা বিদেশে থাকে ।আমার মৃত্যুর খবর সে পায়নি ।
___তোমার ছেলের নাম কি?
___ছেলের নাম রহিম, তুমি তাকে মোবাইলে খবর টা জানাতে পারবে । আমার মৃত্যুর খবর পাড়ার কেউ জানে না । একটা লড়ির ধাক্কায় আমার অপমৃত্যু হয়েছে ।
,
__ __তাহলে এই পবিত্র কবরে তুমি এলে কি করে ?
____আমি এখন এই গাছে থাকি । রোজ অপেক্ষা করি ছেলের ।
তারপর আমি মোবাইলে রহিমের নাম্বার পাই । হয়তো ভৌতিক কার সা জি ।
ফোনে সবকিছু জানতে পেরে রহিম ভারতে এসে আব্বার ক্রিয়াকর্ম করলে তার আত্মা মুক্তি পায় ।
বুঝলাম ভালো ভূতও অনেক আছে । সব ভূতই ক্ষতি করে না ।তারপর ভয় কেটে গেছে।
ভূতের ব্যাপারে অবহেলা করে কারও সাথে কোনোদিন তর্ক করতে নেই। ট্যাক্সি চালায় টোটন। সেই হিসাবে ট্যাক্সি ইউনিয়নের সদস্য। প্রচুর বন্ধুবান্ধব। ফেসবুকের বন্ধুও অনেক। ভয় বলে শব্দটা ওর ডিকশনারীতে নেই।
একদিন বন্ধুরা সবাই আড্ডা মারছে। এমন সময় অমল বলে উঠলো, জানিস ন্যাশানাল পাড়ার বনের ধারে যে তিনতলা লাল বাড়িটা আছে সেখানে নাকি ভূত দেখা গেছে।
মিহির বললো, তাহলে তোএকদিন সবাই মিলে গিয়ে দেখে আসতে হবে।
টোটোন বলে উঠলো, তোরা খুব আজগুবি কথা বলিস। আরে টোটোন থাকতে ভূতের বাপও বাড়ি ছেড়ে পালাবে। চল তাহলে একদিন দেখাই যাক। আমরা সামনের অমাবস্যায় ওই বাড়িতে যাবো। ফিষ্ট করবো। মাংস আর লাল জল। বুঝলি কিনা। জমবে ভালো।
অমল বললো, শোন আসল কথাটা বলি। আমার মামুদপুরের মেশো একদিন আমাদের বাড়িতে বেড়াতে এসেছিলো। বিকালে ওই বাড়ির দিকে বেড়াতে গেছিলো। একট বাচ্চা ছেলে কাঁদতে কাঁদতে মেশোকে বললো, আমার খিদে পেয়েছে। মামা জিলাপি কিনে ছেলেটাকে বললো, যাও খেয়ে নাও।
ছেলেটি নাছোড়বান্দা। বললো, আমার বাবাকে দেখবে এসো। কতদিন খেতে পায়নি। এসো দেখে যাও।
মেশো সরল লোক। মায়া হলো। ভিতরে গিয়ে দেখলো বাবা নয়। এক ভয়ংকর স্কন্ধকাটা ভূত। বললো, আমার গলা কেটে সবাইকে মেরে আমার সংসার শেষ করেছে তোর মতো একটা পাষন্ড। আমি কাউকে ছড়বো না। কাটা মুন্ডুটা হাতে। সেই মুন্ডুই কথা বলছে।
মেশো ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে। এবার ভবলীলা সাঙ্গ ভাবছে মেশো। এমন সময় ছেলে্টি সামনে এসে বললো, বাবা এই লোকটি ভালো। জিলাপি কিনে দিয়েছে। এই বলে ছেলেটি উড়তে উড়তে জিলাপি খেতে লাগলো। উড়ন্ত অবস্থায় ছেলেটির মা বললো, এঁকে ছেঁড়ে দাঁও। যাঁও যাঁও। জিঁলাপি খাঁও।
তখন সুযোগ বুঝে মেশো পালিয়ে এসে বাঁচে।
টোটোন ভয় লুকিয়ে বাতেলা দিলো অনেক। বললো, ঠিক আছে আমরা কুড়িজন একসাথে যাবো ওই বাড়িতে। দেখা যাবে। কত ধানে কত চাল।
চালাক টোটোন। তাই দল বাড়াচ্ছে। ঠিক হলো কুড়িজন বন্ধু একসাথে যাবে। অনেক ছেলের মাঝে নিশ্চয় ভূত আসবে না।
মাঝের কয়েকদিন যে যার কাজ নিয়ে থাকলো। তারপর এসে গেলো সেই অপেক্ষার অমাবস্যা। দিনের বেলায় সবকিছু কেনাকাটা সেরে সবাই দুরু দুরু বুকে রাতের প্রতিক্ষায়। কিন্তু কেউ ভয় প্রকাশ করছে না। বাড়িতে কেউ বলে নি। সবাই বলেছে, আজ একজন বন্ধুর জন্মদিন। রাতে বাড়ি আসবো না। ওখানেই সব ব্যবস্থা।
রাতের বেলা ন্যাশানাল সিনেমা হলের কাছে সবাই একত্র হলো। সবাই চললো এবার সেই অভিশপ্ত বাড়িতে। টোটন চুপ। কোনো কথা নেই। অমল বললো, কি রে টোটোন, চুপ মেরে গেলি কেন? কথা বল।
টোটোন বললো, এই দেখ আমার অস্ত্র। একটা মস্ত নেপালা বের করে দেখালো। তারপর বললো, ভূতের দফা রফা করবো আজই।
কথায় কথায় বাড়িটা চলে এসেছে কাছে। অমল বললো, চল ভিতরে ঢুকি।
দুজন লোক পাশ দিয়ে যাচ্ছিলো। বললো, মরতে যেচো কেনে ওই বাড়িতে? খবরদার ওই দিকে মাড়িয়ো না। গেলেই মজা টের পাবে।
এখন আর ফেরার কোনো ব্যাপার নেই। হুড়মুড় করে সবাই ঢুকে পড়লো বাড়ির ভিতরে। তারপর মাকড়সার জাল, ধুলো পরিষ্কার করে রান্না শুরু করলো। এখনও অবধি কোনো ভৌতিক কান্ড ঘটে নি। ভয়টা সকলের কমে গেছে।
টেটোন বললো, অমল তোর মেশোর গাঁজার অভ্যাস আছে নাকি?
সকলের সামনে অমল একটু লজ্জা পেলো। তারপর ভাবলো, বন্ধুরা একটু ইয়ারকি মারে। ওতে ইজ্জত যায় না।
টোটোন এক পিস কষা মাংস নিয়ে লাল জলে মন দিয়েছে। সে এই দলের নেতা। সবাই অলিখিত ভাবে তাকে মেনে নিয়েছে নেতা হিসাবে। নেতা কষা মাংসতে কামড় মারার সঙ্গে সঙ্গে কষ বেয়ে লাল রক্ত। বোতলে রক্ত ভরতি। সবাই দেখতে পাচ্ছে কিন্তু নেতা দেখতে পাচ্ছে না। নেতাকে রক্ত মাংস খাওয়া ভূতের মতো লাগছে।
অমল কায়দা করে তাকে আয়নার সামনে নিয়ে দাঁড় করালো। নেতা নিজের রূপ দেখে ভয়ে বু বু করতে লাগলো। সবার প্রশ্ন এত রক্ত কোথা থেকে এলো?নেতা অজ্ঞান হয়ে গেলো।
তাকে জল দিয়ে জোরে হাতপাখা দিয়ে হাওয়া করতে লাগলো বন্ধুরা। তারপর জ্ঞান ফেরার পরে আবার ভয়ের পালা। রাত তখন দশটা। দরজাগুলো বন্ধ হয়ে গেলো। আর চার দেওয়ালের গা বেয়ে নেমে আসছে রক্তের ধারা। এত রক্ত যে মেঝে দিয়ে গড়িয়ে সকলের পা ভিজে যাচ্ছে। নেতা এবার জোড় হাত করে বলছে, আমাদের ছেড়ে দাও, এই কান মুলছি, নাক মুলছি আর কোনোদিন এই বাড়িতে ঢুকবো না। দয়া করো আমাদের দয়া করো।
তখন আড়াল থেকে কথা শোনা গেলো, তুই তো নেপালা এনেছিস। সবাই দেখলো নেপালা নিজে থেকেই শূণ্যে ভাসছে। তারপর ভূত হাজির। নেপালা একবার ভূতের মাথা কাটছে আর জোড়া লেগে যাচ্ছে। বলছে, আমাকে কাটবি। মাথা কাটবি। তোর মাথা কাটি। নেতা ভয়ে কাঁপতে শুরু করেছে।
তখন অমল বললো, আমরা তোমার সাহায্য করবো। কে তোমাকে মেরেছে বলো। আমরা পুলিশকে জানাবো। সে শাস্তি পেলে নিশ্চয় তোমার আত্মার শান্তি পাবে। কথায় কাজ হলো সঙ্গে সঙ্গে দরজা খুলে গেলো। রক্ত মুছে গেলো। আর একটা ছবি হাওয়ায় উড়ে এলো।
টোটোন ছবি দেখে বললো, একে আমি চিনি। নিশ্চয় একে পুলিশে দেবো। আমরা কুড়িজন সাক্ষী দেবো। তারপরে পুলিশ সব দায়িত্ব পালন করেছিলো। সেই বাড়ি এখন পুলিশ থানা। চাকরি পেয়েছে কুড়িজন সাহসী ছেলে। যাদের চেষ্টায় খুনী ধরা গেছে। আর অতৃপ্ত তিনটি আত্মা মুক্তি পেয়েছে।
আমরা বললাম, গল্প শুনে খুব ভয় পেয়েছি। এবার একটু চা করি পিসেমশাই। তিনি বললেন, জয় হো সাধুবাবা, বানাও আদা চা। আচ্ছাসে বানাও…
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।