কবিতা সিরিজে অঞ্জলি দে নন্দী, মম

১| মনে পড়ে আজ

আমি তখন গ্রামে।
পিতৃদেবের ধামে।
শ্রীমতী লাগেনি আমার নামে।
বাঁধানো ছবিতে ছিলাম না স্বামীর বামে।
তখন আমি বসিয়েছিলুম শ্বেত চন্দনের গাছ।
রোজ জল দিতুম ওকে,
আর বলতুম, ” ভালোবাসায় বাঁচ! ”
অপলক চোখে
ওর দিকে তাকিয়ে গুরুমন্ত্র জপতুম, একমনে।
কারণ? – প্রার্থণা, ও যেন দেবের পদে লাগে!
ও যেন ধর্ম কর্মে সফল হয়, আপন অঙ্গ-ধনে!
ওর সুবাসে যেন ভক্তের অন্তরে ভক্তিভাব জাগে!
সত্যই সফল হল আমার আশা।
বাস্তবে সার্থক হল স্বপ্ন, ভালবাসা।
ও হল দেবতার অঞ্জলি।
আজ সে পুণ্য স্মৃতির কথা কবিতায় বলি।

২| আজ তাই

যত অত্যাচার করেছিলে আমার পরে
আজ তা তোমার অশ্রু হয়ে ঝরে পড়ে।
আমি তা নীরবে সহ্য করেছিলাম।
আপনারে অশ্রুতে ভরেছিলাম।
করিনি প্রতিরোধ।
নিইনি প্রতিশোধ।
আমার যে জাগ্রত মনুষ্যত্বের বোধ।
এখন তুমি আর প্রতিহত করতে পার না
তোমার কৃত কর্মের ফল ভোগ করাকে।
তবুও তো তুমি আমারে প্রতিঘাত করতে আজও ছাড় না।
অনুরোধ, এবার তুমি দাও আনন্দ-যোগ ধরাকে!

৩| খেলাখেলি

জীবন রে তুই!
বাঘবন্দী খেলাখেলি করছিস।
আমি বারবার হার মেনে
তোর কাছে মাথা নুই।
তুই না হয় জয়ের গরবে নিজেরে ভড়ছিস।
আর আমি খুশি তা জেনে।
তোর খেলাখেলি হয় না সাঙ্গ, তা জানি, মানি।
তাই তো আমি আপনারে আপনিই বানাই অনন্ত দানী।
যেদিন ক্ষান্ত হবে তোর এ খেলাখেলিখানি,
সেদিন আমার জীবন যবনিকা টানবে।
সেদিন তোর এ খেলাখেলি জানবে,
আমি ছিলাম তোর কে!
সেদিন তোর খেলাখেলির চাল যাবে হরকে।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।