আঙুলের ভার সহ্য করতে পারে
এমন হাত কই! দীর্ঘ প্লাবন
নিশুতি পথ, সন্ধ্যার কোলে দেহপট
রেখে ঘুমিয়ে পড়েছে শোক…
বল, তার কি ঋণ ছিল না মধুর ক্ষত চিহ্নের কাছে? প্রহরের পর প্রহর গেছে
সে সব গুছিয়ে রাখতে। তারপরও বলবে
আমি সব ভুলে গেছি!
২| মানুষ
সুতোর ভিতর বুনন ছিল যতটা
ততটাই জোরদার ছিল অস্তিত্ব।
পাঁচ বাড়ি ঘুরে এলাম
দু’হাতে সরিয়ে মাঘ কুয়াশা
মিহি হিম থিতু হল চোখের পাতায়
রোদ্দুর সারাদিন, রাতভর জ্যোৎস্না
প্রিয় ঘুম ডাকে পায়ে পায়ে
নিভু নিভু আগুন জেগে ওঠে রাতের মজলিশে
ভোরের স্বপ্নে রূপকথা খেলে বেড়ায়
চুরাশি লক্ষ জন্ম ধরে…
৩| রেখে গেছো ক্ষমা
যতটা বললে মনে হয় কিছুই নেই বাকি
আমাদের থেমে যাওয়া ঠিক তার
আগের শব্দে বা বর্ণে।
তাদের কোনোটায় মাত্রা ছিল অথবা
মাত্রাহীন সম্মতি।
যাত্রা দীর্ঘ হোক এই কামনা বৃথা
শীতল হোক, ছায়াঘন হোক
এইটুকু প্রাপ্তির ওপর বিরতি চিহ্ন
রেখে এসেছি জনান্তিকে। অপটু রেখায় রঙে
আঁকা হলো যত সাবেকি ভুল, সাদাসিধে
তাদের ইশারায় কম্পমান কাগজের নৌকার
যাত্রীরা, বেলার টানে বাঁধা পালের নির্দেশ।
ঘুম শীতল হয়ে রেখে গেছে সংশয়, অন্ধকার বশ মানেনি জলের শরীরে। এরপরেও যে ক্ষমা রেখে গেলে তা কেবলই নিজ গুনে।
৪| ঘুম
ঘুমের মধ্যে ঘুম ভাঙলে
একহাত লুডো খেলে নিই
অ্যালজলাম ফাইভকে ঘুটি করে
প্রাণপণ চেষ্টা করি ছক্কা ফেলার
অনেকবার চেষ্টা করার পর, যদিবা পড়ল
তিন ছক্কা, মানে পচ!
কতবার বলেছি
মাথার কাছে একটা মোমবাতি জ্বেলে রাখবে, একটা সাদা কাগজ।
দেরি হয়ে যাচ্ছে…
ভুলগুলো লিখে যেতে হবে
সেটা ঘুমের মধ্যে ছাড়া সম্ভব নয়।
৫| ফেরা
দুপুর গড়িয়ে নামে কপালের ওপর
তার সাথে ঘামও
মাথার ভেতর যে চিনচিনে ব্যাথাটা ছিল
সেটা কিন্তু নামেনি
মেয়ের কলেজের ফি, বউ’এর হাঁপের টান
নিজের বুকের ব্যামো
এরা নামে না
কলার ঝুড়ির ভেতর ঘাপটি মেরে বসে থাকে
সিগন্যাল সবুজ, একটু পা চালিয়ে
পরের বগিটায় পৌঁছাতেই হবে