সাপ্তাহিক ধারাবাহিক ঐতিহ্যে “কলকাতার চার্চ (কোম্পানীর যুগ)” (পর্ব – ১৭) – লিখেছেন অরুণিতা চন্দ্র

কলকাতার চার্চ (কোম্পানীর আমল) – পর্ব ১৭

মহানগরীতে কোম্পানীর আমলের একেবারে শেষ পর্বে ফোর্ট উইলিয়ামের অভ্যন্তরেও একটি ক্যাথলিক চার্চ নির্মিত হয়। ১৮৫৭ খ্রিষ্টাব্দে নির্মিত চার্চটির নাম St. Patrick’s Church। খ্রিষ্টীয় চতুর্থ-পঞ্চম শতকের মানুষ সেন্ট প্যাট্রিকের জন্ম হয়েছিল বর্তমান ইংল্যান্ডে কিন্তু ৪০১ খ্রিষ্টাব্দে ১৭ বছর বয়সে আইরিশ জলদস্যুদের হাতে অপহৃত হয়ে আয়ারল্যান্ডে দাস হিসাবে তিনি বিক্রীত হন এবং সেই জীবন থেকে পলায়নে সককসম হয়ে শেষ পর্যন্ত আয়ারল্যান্ডের খ্রিষ্টধর্মের প্রধান প্রচারকে পরিণত হন। তাই আয়ারল্যান্ডবাসীর কাছে তিনি Patron Saint হিসাবেই সম্মানিত হন।

চার্চটির উপাসনা মঞ্চের পশ্চাতের দেওয়ালের অপরদিকে সন্ত প্যাট্রিকের একটি রঙ্গীন চিত্র চার্চটিকে অলংকৃত করছে। যিশু এবং আরো কয়েকজন গুরুত্বপূর্ন খ্রিষ্টীয় সন্তদের চারটি রঙিন চিত্র ও প্রার্থনাকক্ষের দেওয়ালে সজ্জিত রয়েছে। প্রতিকৃতিগুলির মূল বিষয়বস্তু যিশু যোসেফ ও মেরীকে কেন্দ্র করেই আবর্তিত। অন্যান্য রোমান ক্যাথলিক চার্চের মতোই Station of Cross অর্থাৎ বিচার থেকে ক্রুশবিদ্ধ হওয়া পর্যন্ত যিশুর জীবনের ১৪ টি অধ্যায়ের চিত্ররূপ সেন্ট প্যাট্রিক চার্চেও উপস্থিত। রোমান ক্যাথলিকদের যেসুইট ধারার প্রতিষ্ঠাতা ষোড়শ শতকের স্প্যানিশ সেনাপ্রধান থেকে ধর্মপ্রচারকে পরিণত হওয়া Ignatius Lyolla-র একটি চিত্রও দেওয়ালে সজ্জিত। এছাড়াও যুদ্ধে নিহতদের স্মৃতির উদ্দেশ্যে বেশ কিছু মর্ম্মর স্মৃতিফলক ও চার্চে লক্ষিত হয়।

ফোর্ট উইলিয়ামের অন্তর্গত খ্রীষ্ট ধর্মাবলম্বী সেনাদের ধর্মাচরণের জন্য বর্তমানে সেন্ট প্যাট্রিক ই একমাত্র গীর্জা হিসাবে উপস্থিত। প্রতি রবিবার আজো এক যাজক প্রার্থনা পরিচালনা করতে আসেন। মাদার তেরেসার মিশনারিজ অব চ্যারিটির সন্ন্যাসিনীগণ ও সেন্ট প্যাট্রিক চার্চের সাথে যুক্ত আছেন। এভাবেই ফোর্ট উইলিয়ামের ইতিহাসের সাক্ষী হয়ে আছে সেন্ট প্যাট্রিক চার্চটি।
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।