সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সায়ন (পর্ব – ৩)

অমৃতায়ণ

কেমন লাগছে তোমাকে আমি আজ বললাম না, বরং ভিতরে রেখে দিলাম। আমার একটা গোপন বাক্স আছে, যেখানে ভবিষ্যৎ রাখা থাকে চাদর মুড়ে । সেটা কোথায় থাকে তা অবশ্য আমি নিজেই ভুলে যাই। যখন কিছু রাখতে হয় তখন সে নিজেই আমার কাছে চলে আসে।
এই তো এসে গেছে…..
নাহ,আপনি দেখতে পাবেন না।
অমৃতা কে দেখতে দেখতে ঘড়িত এখন ৩টে বেজে গেছে। কুয়াশার দল মাথা উল্টে কাছে এগিয়ে আসছে।
– “এই চলো গো! তোমাকে ছাড়া একা একা ঘর দেখবো নাকি! ” , অমৃতা টান দিল হাতটা ধরে।
– এতক্ষণ তুমি দেখো নি ঘরটা !
– না! ও, আমি বুঝি একা একা তোমাকে ছাড়া কিছু করি, তাও আবার যা একান্ত দুজনের।
অমৃতা রাগ দেখালে মুখটা মিষ্টি আপেলের মতো গোল হয়ে যায়। তবে আজ গোল কোমল গালগুলোর পাশ দিয়ে চোখের মধ্যে লেখা হয়ে আছে এমন কিছু ‘দেখা’ যা অমৃতার নিজের আবিষ্কার।
অভিনিবেশ মানে জানেন আপনি? অন্য কোনও মানুষের দেখার চোখ হাত পা মাথার মধ্যে দিয়ে একটা ভাষা গলতে থাকে, সেই ভাষার কথা আমরা জানি না বলেই ইতিহাস অন্য পথে হাঁটে। অনেকটা জীবনের না জানার মধ্যেই বেঁচে থাকে একটা অন্য বাঁচা।
বাড়ির গেটটা দিয়ে ঢুকতে যাবো, খুব ছোট গেট, মাথা নিচু করলাম, উপর দিয়ে সিঁড়ি গেছে। একটা পাতার টুকরো উপুর হয়ে আছে। ……যোগাযোগের দুটো স্বাধীন রাস্তা আছে, একটা কাটা, একটা শূণ্য – দুটো রাস্তাই একান্তভাবে সম্ভবপর। অমৃতার মুখ থেকে দ্বিতীয় রাস্তার অন্ধকার বাঁক।
– কিইইই গো, এসো।
আমি তাকিয়ে আছি এক দৃষ্টিতে । এ কোথায় এসে পড়লাম আমরা! আসুন দেখি তো আর কি আছে লেখা ….
পথ হল আলো আর আলোহীনের মুখোমুখি হওয়া। রাস্তা এমন এক প্রস্তুতি যা আমাদের প্রতিদিনের জীবনে ঘটে চলেছে বা চলা কিংবা ঘটবে যেখানে একজন অন্য আরেকজনকে দেখার আয়না হয়ে ওঠে। যেখানে দেখতে থাকি ছায়া আর আমাদের ছায়াবাস্তব।
একবার আয়না দেখুন?
– “এই তো আমি!” কন্ঠ আর চোখ একদম বিপরীত দিকে।
সে আর একজনের কাজের মধ্যে দিয়ে ঘর থেকে কলতলা, কলতলা থেকে আবার ঘরে পৌঁছে যাচ্ছে এবং সেইসঙ্গে একে অন্যকে সাহায্য করাও তার জীবনের নিয়ম শুধু, তাকে শ্রদ্ধা করাটাও গুরুত্বপূর্ণ কর্তব্য। কে উনি ?
যেকোনো ক্ষেত্রেই অজানা একটা ফলাফল জরুরি হয়ে দাঁড়ায়। যদিও সমস্ত ফলই অজানা। গাছ কি জানে তার তার ফলের ভিতর কটা বীজ আছে?
– শিশুর ভিতরে আত্মার খবর আমরা কি জানি গো?
– হ্যাঁ ! কি আত্মা! চুপ, কি সব বলছো!
– এই ঘরের একটা আত্মা আছো জানো….
মুখে হাতটা চেপে ধরলো অমৃতা ।
একজন আর একজনকে তার নিজস্ব মনোগতির রেখাগুলো নাই জানাতে পারে, আর সেটা কোনো বিশ্বাসযোগ্যতার অভাব বা প্রত্যাখ্যান থেকে আসে তেমন নয়, তবে এই কাগজে সব …..
– তুমি যখন বাইরে ছিলে তখন আমি গ্রিলের সামনে দাঁড়িয়ে এই পাশের বাড়িটা দেখছিলাম। দেখতে দেখতে একদম স্তব্ধ হয়ে যাই। একটা কল পাম্পের আওয়াজ, আর একজন মহিলার তাকিয়ে থাকা আমার দিকে। আমি এমন তাকানো দেখি নি জানো তো। সাদা নির্মেদ , চুলের মধ্যে যেন বিষন্ন বিরল বাদামি ঢেউ, আর সেই তাকানো ….
– “কেমন ?” আস্তে আস্তে আমার চোখ তীক্ষ্ণ হয়ে ওঠে
– যেন মনে হচ্ছে কল পাম্প করতে করতে উঠছে নামছে- সে নয়, সে যেন শুধু তাকিয়ে আছে নিজের দিকেই। আমি শুধুই এক আয়না মাত্র । হ্যাঁ গো..
– তোমার চোখের ভিতর আজ একটা কন্ঠস্বর শুনতে পেলাম জানো তখন।
– কি !
– তারপর এইসব, তোমার কথাগুলো, লেখা একটা কাগজ এখানে ছিল – গেটের সামনে মাটিতে পরে… হোঁচট খাই নি গো তখন, যা দেখলাম থামতে বাধ্য হলাম
– কি কাগজ দেখি?
কাগজটা শুরু হচ্ছে
” নারীর চোখ যখন কাঁচের টুকরো হয়ে যায় , তখন জানবেন আপনার আশেপাশে এখন অনেক কিছু আসবে যা জরা মুক্তির মতো জ্ঞান সীমান্তের সীমারেখার চলন গমন।
ওই যে – সেই ছবি দেখবেন আপনার নারীর চোখে, যান, দেখুন, ভয় কিসের “
– এই কাগজের টুকরো কে রাখলো বলো তো গেটের সামনে? জানো তুমি?
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।