আমার তোমার সাথে প্রথম দেখা বারান্দার টবে। মা’র হাত ছেড়ে যখন হাটঁতে শিখছি এক দু’পা। ছোট্ট হাতটি ধরে ঝাঁকিয়ে দিয়েছিলে। পরম মমতায়। জল দিয়ে, মাটি গুঁজে দিয়ে তোমাকে বাড়তে দেখেছি । তুমি আর আমি দু’জনেই বড় হয়েছি পাশাপাশি । কবে দু’জনে দু’জনার বন্ধু হয়ে উঠেছি, টেরও পাইনি। মায়ের মতো করে তোমার যত্ন নিতে শিখেছি । এখন আমি বেশ বুঝি তুমি আমার কত ভালো আর ভরসার বন্ধু । তোমার মানে, তোমাদের ছাড়া অক্সিজেন নিয়ে আমরা বেঁচে থাকি। তোমরা ছায়া দাও, ফল দাও; না জানি আরো কত কিছু দাও! মায়ের মুখে শুনি তোমাদের ছাড়া পরিবেশ, বাস্তুতন্ত্র এসব নাকি অচল । এককথায় গোটা পৃথিবী রক্ষায় তোমরাই মূল কারিগর। আজ যখন ভাইরাসের আক্রমণে বিশ্বের মানুষ শ্বাসকষ্টে আক্রান্ত হয় ও কৃত্রিম উপায়ে শ্বাস চালাতে হয়, তখন বুঝি কি অকাতরে তোমরা সবাইকে অক্সিজেন সরবরাহ করে চলো । মায়ের মুখে শুনে কষ্ট হয় যে আমরা কিভাবে তোমাদের ধ্বংস করি। আমাদের অযত্নে ও দোষে আমাজনেও এত বিস্তীর্ন বন পুড়ে যায় । সাময়িক লোভে কেটে ফেলি তোমাদের। আমাদের মাফ কোর বন্ধু । আমরা তোমাদের অপরাধী । আমি সবাইকে বোঝাব, বলব তোমাদের যত্ন নিতে । তোমরা থাকলেই আমরা বাঁচব, জগৎ রক্ষা পাবে ।
তোমরা সবাই ভালো থেকো,বন্ধু ।
আমরা হাতে হাত রেখে এ পৃথিবীতে প্রাণের আলো জ্বালিয়ে রাখব।