সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে সুদীপ ঘোষাল (পর্ব – ১৩)

তান্ত্রিক পিসেমশাই ও আমরা দুজন

২১
পিসেমশাই বললেন, লম্বা চুল হলে হিন্দু সমাজের একাংশে বিধান রয়েছে, সমস্ত শ্মশানযাত্রীকে মস্তক মুণ্ডন করতে হবে। যুক্তি হিসাবে বলা হয়, চুলের শিকড় পথেই আত্মা প্রবেশ করে শরীরে (হিন্দু ধর্ম মতে)। এদিকে প্রচলিত ধারণা, শ্মশানে ঘুরে বেড়ায় অনেক আত্মাই! তার মধ্যে কোন দুষ্ট আত্মা যদি শরীরে প্রবেশের চেষ্টা করে, তা রোধ করার জন্যই মস্তক মুণ্ডন! এই কুসংস্কার বাদ দিয়ে ব্যাপারটাকে দেখা যায় অন্য ভাবেও। মস্তক মুণ্ডনকে যদি মৃত ব্যক্তির প্রতি শেষ সম্মানজ্ঞাপন বলে ধরা হয়, তাহলেও সমস্যা রয়েছে। কেন না, যে সময় থেকে এই নিয়মের উদ্ভব, তখন নারী সন্ন্যাসিনী না হলে তার মস্তক মুণ্ডনের প্রশ্নই উঠত না। তাই নারীর শ্মশানে যাওয়ার প্রশ্নটি এই যুক্তিতে খারিজ হয়ে যায়!
দুষ্ট আত্মাকে আকর্ষণ: এটা আরেকটা কুসংস্কার! পুরুষ মানুষ হোক বা আত্মা- সবাই না কি নারীকে দেখলেই আকর্ষিত হয়। বিশেষ করে কুমারী মেয়েকে দেখলে! বলা মুশকিল, ঠিক কী কারণে জন্ম নিয়েছিল এমন কুসংস্কার। বেশির ভাগ কুসংস্কার রটানোর ক্ষেত্রেই কিছু মন্দ উদ্দেশ্য থাকে। এক্ষেত্রে উদ্দেশ্যটা বোধহয় নারীকে গৃহবন্দি রাখা! তাকে বাইরের পৃথিবীতে স্বতন্ত্র পরিচিতি তৈরি করতে না দেওয়া! সেই জন্যই নারীর শ্মশানযাত্রার ব্যাপারে একটা দ্বিমত রয়েছে। অনেকে বলেন, বিবাহিতা নারীরা শ্মশানে যেতে পারেন। কিন্তু, কুমারীদের যাওয়া কখনই চলবে না! সঙ্গত কারণেই প্রশ্ন উঠবে- দুষ্ট আত্মা কি কুমারী আর বিবাহিতার তফাত করবে? করুক আর না-ই করুক- দীর্ঘ দিন ধরে এই বিশ্বাস লোকের মনে গেঁথে ছিল। এখনও যে নেই, তেমনটা জোর দিয়ে বলা যায় না।
শেষ যাত্রার শান্তি: সব দেশেই সামাজিক প্রথা বলে, বিদায় দিতে হয় হাসিমুখে! সেটা সম্ভব না হলে নীরব থাকাই শ্রেয়। তা বিদায় নেওয়া ব্যক্তিটি জীবিত হোন বা মৃত! এদিকে ওই যে সামাজিক ধারণা- কোমল হৃদয়ের নারীরা আবেগ সংবরণ করতে পারেন না। বিশেষ করে প্রিয়জনের মৃত্যুতে তাদের চোখের জল বাধা মানে না। অন্য পিঠে লোকবিশ্বাস বলে, শেষযাত্রার সময় কেউ কান্নাকাটি করলে বিচলিত হয় আত্মা। তখন আর তার পৃথিবী ছেড়ে যাওয়া হয়ে ওঠে না। মায়ায় আবদ্ধ হয়ে সে পৃথিবীতেই থেকে যায়। এবং, মুক্তি না পাওয়ার কষ্ট থেকে জীবিতের ক্ষতি করার চেষ্টা করে। এরকমটা যাতে না হয়, সেই জন্য না কি নারীদের শ্মশানে যাওয়া বারণ!
অনেক দিন পর্যন্ত এই সমস্ত যুক্তিতে ভর দিয়ে চলেছে সমাজ। প্রিয়জনের অন্ত্যেষ্টিতে শ্মশানে যাননি নারীরা। এখন যদিও ছবিটা বদলেছে অনেকটাই। তবে তা শহরাঞ্চলেই! গ্রাম কিন্তু এখনও পুরনো, ক্ষয়ে আসা এই লোকাচার সঙ্গে করে পথ হাঁটছে। ছবিটা কি আদৌ বদলাবে? সেই প্রশ্নের উত্তর জানার জন্য হয়তো অপেক্ষা করতে হবে আরও অনেক বছর। মহাদেব’ নামটি শিবের অত্যন্ত প্রিয় হলেও ‘রুদ্র’, ‘সর্ব’, ‘শর্ব’, ‘উগ্র’ প্রতিটি নামই যেহেতু নারায়ণের দেওয়া; সেহেতু এই নামগুলোও শিবের ভূষণ, শিবের কাছে সম্মানের। এই সমস্ত নামের মাহাত্ম্য শিবের আচরণের সঙ্গে জুড়ে রইলো। রুদ্ররূপে শিব যেন আকাশপাতাল কাঁপানো ভীষণ কান্নার মতোই সংহারের এক মূর্তি। রাজা, মহারাজা, ধনী, দরিদ্র, পাপীতাপি, এমনকি দেবতারাও তাঁর সেই রুদ্ররূপের কোপ থেকে রক্ষা পান না, তাই তিনি এই রূপে পরমেশ্বর। ‘উগ্র’ নামেও তাঁর এই স্বভাবেরই প্রকাশ। আর ‘সর্ব’ ও ‘শর্ব’- নাম দুটির মধ্যে আছে অগ্নির মতো মানুষের সমস্ত কর্মের অহংকার ছাই করে ফেলার ইঙ্গিত। তাই চিতার ছাইয়ের ওপর বসে মহাদেবের এই নামের জপ করেন কেউ, সাধনা করেন কেউ; তাহলে তিনি মহাদেবের প্রিয় হয়ে ওঠেন। আর যেখানে ভক্তের স্থান, সেখানেই ভগবানের বাস। তাই শ্মশানে চিতাভস্মের মাঝে মহাদেবেরও বাস ও বিহার। আসলে, মহাদেবের উদ্দিষ্ট চিতা বা শ্মশান শুধু লৌকিক অর্থেই সীমাবদ্ধ নয়, তা প্রতীকমাত্র। যে মানুষ বা ভক্ত তাঁর অন্তরের সমস্ত কামনা বাসনা, অহং ও আত্মপরবোধ পুড়িয়ে চিতার আগুনের মতো নষ্ট করে দিতে পারেন, তাঁর মধ্যেই মহাদেবের বাস। শিব পুরাণ মহাদেবের শ্মশান বাসের লৌকিক ও আধ্যাত্মিক-এই দুটো দিকই এভাবে ব্যাখ্যা করা হয়েছে। পিসেমশাই বললেন, এসব কথা যেখানে সেখানে বলতে নেই। যে কোন সাধনা গোপনে করতে হয়। সেটা প
২২
পিসেমশাই বলেন এখন যেসব কথা বলব মন দিয়ে শুনবি। জিভ একটা কিন্তু কান দুটো। তাই কথা কম বলবি। শুনবি বেশে। তাহলে জীবনে সফল হবি, বুঝলি। নে চা আর ভুজিয়া লাও.. বিনা পয়সামে জ্ঞান নাহি মিলেগা..
রতন আজকে চা আর মাটন চপ নিয়ে এলো। পিসেমশাই এর সব চলে। তান্ত্রিকের কোনো বাধা নেই। শবদেহ আর ভূত নিয়ে কারবার। আমি বললাম, মানে বলছিলাম লাল সরবত চলে পিসেমশাই।
পিসেমশাই বললেন, জায়গা বিশেষে চলে। প্রয়োজনে চলে, তা না হলে নয়।
আমার ভক্তি বেড়ে গেল পিসেমশাই এর কথায়। পিসেমশাই খাওয়ার পরে হাত ধুয়ে বললেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে ভূতের অস্তিত্ব বিশ্বাস করা হয়। আবার কিছু ধর্মে করা হয় না, যেমন ইসলাম বা ইহুদী ধর্মে। এসব ধর্মাবলম্বীদের মতে মানুষের মৃত্যুর পর তার আত্মা চিরস্থায়ীভাবে পরলোকগমন করে আর ইহলোকে ফিরে আসে না।
একবার একদল খুনি একটা বাড়ি ভাড়া করে বাসায় এল মালপত্তর নিয়ে। তারা বড়লোকের ছেলে। ফুর্তি করে আর ধর্ষণ করে মারে মেয়েদের।রতন বললো, এইসব পাপিদের নরকবাস হবে। পিসেমশায় বলছেন গল্পটা।তারা নাকি পুরনো বাড়ি কিনে নতুন করে বাস করছেন,অথবা নতুন ফ্ল্যাট তৈরি করেছেন। যাইহোক , আসল কথা, নতুন বাসস্থানটিতে এসে স্বস্তি পাচ্ছেন না কিছুতেই। কেন জানা নেই, বার বার মনে হচ্ছে কোথাও একটা ছায়া রয়েছে। তালে মিলছে না সব কিছু।এলোমেলো আ্যাবনর্মাল লাগছে সবকিছু। ভূত বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ব্যাপারটা মোটেই অবহেলা করার মতো নয়। আপনার ভবনে ‘তেনা’দের আনাগোনা থাকতেই পারে।ভূতে বিশ্বাস করুন বা না-করুন, এমন কিছু অস্বস্তি রয়েছে, যার সর্বদা চটজলদি ব্যাখ্যা হয় না। তেমন কিছু বিষয় নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করেছেন এক্সপার্ট ভূত গবেষকের মতো খ্যাতনামা পারলৌকিক বিশেষজ্ঞের দল । তারা জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিশেষ দিকে নজর রাখাটা জরুরি এমন ক্ষেত্রে। তাদের বক্তব্য থেকে পাঁচটি বিষয় তুলে দেওয়া হল—হঠাৎই আপনার মনে হল, পিছন থেকে কেউ আপনার পিঠ ধরে টান দিয়ে মজা করল। ফিরে দেখলেন, কেউ নেই। তন্ত্রমতে, এমন ক্ষেত্রে সাবধান। স্পর্শকারী রক্তমাংসের জীব না হতেও পারেন। যদি মনে হয় ঘরের টেবিল চেয়ার নিজে থেকেই স্থান পরিবর্তন করছে, তা হলে ফালতু ভয় পাবেন না। তিনি জানাচ্ছেন, এমন ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভৌতিক না-ও হতে পারে। নিজেই হয়তো সরিয়েছেন টেবিলটা। তার পরে ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু যদি তক্তা বা শোবার বিছানাটা নাইনটি ডিগ্রী ঘুরে যায় অথবা চেয়ার বিপরীতে বিরাজ করে, তবে ভাবার মত সমস্যা রয়েছে।আবার নতুন বাড়িতে ঢুকে যদি শোনো সেখানে কেউ আগে মারা গিয়েছেন অথবা যে জমিতে বাড়ি করেছে কেউ সেটি আগে কবরখানা ছিল বা তার মালিক অপঘাতে মরেছে তা হলে ভয় আছে। পুত্রহারা গৌতমীকে তথাগত বা ভগবান বুদ্ধদেব বলেছিলেন এমন কোনও বাড়ি থেকে একমুঠো সরষে নিয়ে আসতে, যেখানে মৃত্যু,দুর্ঘটনা বা অশান্তি প্রবেশ করেনি। তার বক্তব্যও একই প্রকারের। মৃত্যু বা সাংসারিক বিপদ একটা সাধারণ বিষয়। তা কোথাও ঘটে থাকলেই যে ভূত, প্রেত ঘুরবে বা ক্ষতি করবে, এমন কোনও কথা নেই। পিসেমশাই বললেন, আজ এই পর্যন্ত থাকুক। বাকি বাত বাদমে বোলেগা। একসাথমে হজম নেহি হোগা। পিলাও চায়ে… পিসেমশাই বলেন এখন যেসব কথা বলব মন দিয়ে শুনবি। জিভ একটা কিন্তু কান দুটো। তাই কথা কম বলবি। শুনবি বেশে। তাহলে জীবনে সফল হবি, বুঝলি। নে চা আর ভুজিয়া লাও.. বিনা পয়সামে জ্ঞান নাহি মিলেগা..
রতন আজকে চা আর মাটন চপ নিয়ে এলো। পিসেমশাই এর সব চলে। তান্ত্রিকের কোনো বাধা নেই। শবদেহ আর ভূত নিয়ে কারবার। আমি বললাম, মানে বলছিলাম লাল সরবত চলে পিসেমশাই।
পিসেমশাই বললেন, জায়গা বিশেষে চলে। প্রয়োজনে চলে, তা না হলে নয়।
আমার ভক্তি বেড়ে গেল পিসেমশাই এর কথায়। পিসেমশাই খাওয়ার পরে হাত ধুয়ে বললেন, বিভিন্ন ধর্ম ও সংস্কৃতিতে ভূতের অস্তিত্ব বিশ্বাস করা হয়। আবার কিছু ধর্মে করা হয় না, যেমন ইসলাম বা ইহুদী ধর্মে। এসব ধর্মাবলম্বীদের মতে মানুষের মৃত্যুর পর তার আত্মা চিরস্থায়ীভাবে পরলোকগমন করে আর ইহলোকে ফিরে আসে না।
একবার একদল খুনি একটা বাড়ি ভাড়া করে বাসায় এল মালপত্তর নিয়ে। তারা বড়লোকের ছেলে। ফুর্তি করে আর ধর্ষণ করে মারে মেয়েদের।রতন বললো, এইসব পাপিদের নরকবাস হবে। পিসেমশায় বলছেন গল্পটা।তারা নাকি পুরনো বাড়ি কিনে নতুন করে বাস করছেন,অথবা নতুন ফ্ল্যাট তৈরি করেছেন। যাইহোক , আসল কথা, নতুন বাসস্থানটিতে এসে স্বস্তি পাচ্ছেন না কিছুতেই। কেন জানা নেই, বার বার মনে হচ্ছে কোথাও একটা ছায়া রয়েছে। তালে মিলছে না সব কিছু।এলোমেলো আ্যাবনর্মাল লাগছে সবকিছু। ভূত বিশেষজ্ঞরা জানাচ্ছেন, ব্যাপারটা মোটেই অবহেলা করার মতো নয়। আপনার ভবনে ‘তেনা’দের আনাগোনা থাকতেই পারে।ভূতে বিশ্বাস করুন বা না-করুন, এমন কিছু অস্বস্তি রয়েছে, যার সর্বদা চটজলদি ব্যাখ্যা হয় না। তেমন কিছু বিষয় নিয়ে ভাবতে চেষ্টা করেছেন এক্সপার্ট ভূত গবেষকের মতো খ্যাতনামা পারলৌকিক বিশেষজ্ঞের দল । তারা জানাচ্ছেন, কয়েকটি বিশেষ দিকে নজর রাখাটা জরুরি এমন ক্ষেত্রে। তাদের বক্তব্য থেকে পাঁচটি বিষয় তুলে দেওয়া হল—হঠাৎই আপনার মনে হল, পিছন থেকে কেউ আপনার পিঠ ধরে টান দিয়ে মজা করল। ফিরে দেখলেন, কেউ নেই। তন্ত্রমতে, এমন ক্ষেত্রে সাবধান। স্পর্শকারী রক্তমাংসের জীব না হতেও পারেন। যদি মনে হয় ঘরের টেবিল চেয়ার নিজে থেকেই স্থান পরিবর্তন করছে, তা হলে ফালতু ভয় পাবেন না। তিনি জানাচ্ছেন, এমন ক্ষেত্রে ব্যাপারটা ভৌতিক না-ও হতে পারে। নিজেই হয়তো সরিয়েছেন টেবিলটা। তার পরে ভুলে গিয়েছেন। কিন্তু যদি তক্তা বা শোবার বিছানাটা নাইনটি ডিগ্রী ঘুরে যায় অথবা চেয়ার বিপরীতে বিরাজ করে, তবে ভাবার মত সমস্যা রয়েছে।আবার নতুন বাড়িতে ঢুকে যদি শোনো সেখানে কেউ আগে মারা গিয়েছেন অথবা যে জমিতে বাড়ি করেছে কেউ সেটি আগে কবরখানা ছিল বা তার মালিক অপঘাতে মরেছে তা হলে ভয় আছে। পুত্রহারা গৌতমীকে তথাগত বা ভগবান বুদ্ধদেব বলেছিলেন এমন কোনও বাড়ি থেকে একমুঠো সরষে নিয়ে আসতে, যেখানে মৃত্যু,দুর্ঘটনা বা অশান্তি প্রবেশ করেনি। তার বক্তব্যও একই প্রকারের। মৃত্যু বা সাংসারিক বিপদ একটা সাধারণ বিষয়। তা কোথাও ঘটে থাকলেই যে ভূত, প্রেত ঘুরবে বা ক্ষতি করবে, এমন কোনও কথা নেই। পিসেমশাই বললেন, আজ এই পর্যন্ত থাকুক। বাকি বাত বাদমে বোলেগা। একসাথমে হজম নেহি হোগা। পিলাও চায়ে…

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।