।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় বিশ্বজিৎ আঁকুড়ে
by
TechTouchTalk Admin
·
Published
· Updated
লালনকে লেখা চিঠি
“আছে ভাবের তালা যেই ঘরে /সেই ঘরে সাঁই বাস করে. … ”
আমার কোনও মাটি নেই, ফকির! মাটির কাছাকাছি থাকতে চেয়ে কখন যে হারিয়ে ফেলেছি তাকে, খেয়ালই নেই! অবশ্য এই বেখায়াল আমার মন্দ লাগে না। কোনও হিসেবে নেই। অঙ্ক কষা নেই। বাজারের ব্যাগ ভর্তি করতে দরদাম নেই। কারও প্রতি অভিমান নেই অভিযোগও নেই । নেই ফাঁকি দিয়ে টুগে ওঠার মোহও । শুধু, মাঝে মাঝ নিজেকে মন্দবাসি। গা ভাসানোর পায়ে পা দিতে পারি না। ভূত-ভবিষ্যৎ-এর জন্য কোনও নকশাই আঁকা হয়নি এযাবৎ । কলরব ধুয়ে-মুছে নিজের ভেতর ডুবে যাই সটান। একটা মেঠো স্বভাব জাপটে থাকে। তবুও ঠিকানা লোপাট হয়। ক্ষণে ক্ষণে বদলে যায় নামাল। বদলে যায় খুঁটি, মাচা। খানাখন্দগুলো নিজেই হাজির হয় পায়ের তলায়। ভেসে ভেসে বেরানোর হালচাল কেন যে আমাকে ছুঁয়েছে আছে ! কে জানে ! একটা গ্যালাক্সি খুঁজি। ভিন্ন একটা ঘড়ি, সময়, আহ্নিকগতি। এতকাল নিজেকে গোছাতে পারিনি। নিরিবিলি একটা আশ্রয় খুঁজতে খুঁজতে কালঘাম ছুটে যায়। অথচ দেখো, যার আসার কোনও কথাই ছিল না। সেও আসে, মায়া-ঘোরে ভিজিয়ে রাখে অষ্টাঙ্গ ! আমি তো এক গাঢ় অন্ধকার ! বিষাদ পুরুষ। ঠাঁই গোঁজার মাথাও নেই। চালচুলোহীন কাঙাল! আমার শূন্যতায় শূন্যও থাকে না কোনও ! নিজের গর্ত নিজেই খুঁড়ে ফেলি। ভুল বানানে লেখা থাকে জন্ম-ক্ষত। গিঁট খোলার সঙ্গতি কোথায় ! তবু্ও আমার আঙুলে হত্যা নেই কোনও। নিজেকে খাটো করি, খাটো করি। যতদূর সম্ভব। হয়তো খাটোই। শুধু অহংটুকুই গুটিয়ে রাখি ! বেলাশেষে প্রসব করি এক-একটা গাঢ় বিশ্বাস।সুড়সুড় করে রাত গড়িয়ে পড়ে। ভরসার ডিঙি সাজাই। সম্বল আঁকি। ঘুমহীন স্বপ্নকে বসাই তাতে। যত্ন করি আশপাশ। চোখে ভাসে উতরোল ঝলক! উত্তাল সে অন্ধকারের ঢেউ। ঘাবড়ে উঠি আমিও। তবুও সে সূর্যরেখা তাকেই ছোঁবে। এই আস্থান অন্তঃশীলে গুনগুন করে। ভাসিয়ে দিই। মুক্ত পারাবার। বেলাভূমিতে দাঁড়িয়ে থাকি! চিকচিক করে অতলান্ত। আমি সরে যাই। সরে সরে যাই। শূন্য হই। বিন্দু হই! বিন্দু হতে হতে মিলিয়ে যাই….