।। ত্রিতাপহারিণী ২০২০।। T3 শারদ সংখ্যায় অগ্নিমিতা

রক্তক্ষরণ

তুলি ক্যাব থেকে রিয়ার হাত ধরে নেমে জোরে জোরে কলিং বেল বাজালো।
সন্ধ্যা তাড়াতাড়ি দরজাটা খুলে দিতেই তুলি গটগট করে সোজা ওপরে উঠে হাঁকডাক শুরু করে দিল_কি হলো মা, তোমরা কি এখনো ঘুমোচ্ছো? সকাল নটা বাজছে!
সোমনাথ ব্যালকনিতে বসে খবরের কাগজ পড়ছিল আর আরতি রান্নাঘরে টুবাইয়ের জলখাবার বানাচ্ছিল… তড়িঘড়ি করে মেয়ের গলা পেয়ে বেরিয়ে এসে দেখল তুলি ফ্রিজ থেকে বোতল বার করে জল ঢকঢক করে খাচ্ছে। মা বাবা কে দেখে তুলি বলে উঠলো _আজ আর রিয়াকে স্কুলে পাঠালাম না। অফিসে একটু দেরী হবে, আমার প্রেজেন্টেশন আছে… ‍‍‌‍‍ক্রেশ থেকে কে আনতে যাবে। বাপিকে আমার জন্য দৌড়াদৌড়ি করতে হবে না! আরতি তখন মনে মনে ভাবছিল ময়দা মাখা আছে, রিয়া ও টুবায়ের মত লুচি খেতে ভালোবাসে। ভালবাসবে না কেন! মেয়ে তো খালি পিৎজা, বার্গার, হটডগ এসব কেনা খাবার খাওয়ায়।
সোমনাথ বলে উঠল_ফালতু স্কুল কামাই করালি, হরিপদ বৌমাকে ব্যাংকে ড্রপ করে, রিয়াকে পিক আপ করে নিয়ে আসতো। আমি সাথে যেতাম। পাঞ্জাবির আস্তিন গুটিয়ে মাসেল দেখিয়ে মজা করে বলল _এখনো আমি কিন্তু ফিট! রোজ স্যান্ডো করি। বলে নিজের রসিকতায় নিজেই হো হো করে হেসে উঠলো। তুলি কাঁধ শ্রাগ করে মোবাইলে ক্যাব বুক করতে লাগলো। আরতি আঁচলে মুখ মুছতে মুছতে বলল_ রাতে থাকবি তো! তুলি হেসে বলল_ হ্যাঁ এই সপ্তাহটা খুব হেক্টিক যাবে… রাত্রে ফিরতে রোজ দেরি হবে তাই ভাবছি রিয়া কটা দিন তোমাদের কাছে থাক!

কথা বলতে বলতেই ফোনে ক্যাব বুক করছিল। মায়ের দেওয়া জুসটা শেষ করে বললো _দাদা বৌদি কোথায়? অফিস বেরিয়ে গেছে। আরতি বললো _না ওরা রেডি হচ্ছে! কথা শেষ না হতে হতেই তুলি রিয়ার গালে চুমু খেয়ে মা বাবাকে বাই বলে ছুট লাগালো। ব্যালকনি দিয়ে আরতি তুলি কে ক্যাবে উঠে যেতে দেখল।

তুলি মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কর্মরতা। কলেজে পড়তেই সায়নের সঙ্গে বন্ধুত্ব, প্রেম চাকরি পাওয়ার পর বিয়ে। আধুনিক মনস্ক প্রগতিশীল ডক্টর সোমনাথ চ্যাটার্জি আর সারদা বিদ্যাপীঠের ইংরেজি শিক্ষিকা আরতি ছেলে মেয়ের বিয়েতে নিজেদের কোন মত চাপিয়ে দেয় নি। বছর দুই হল সায়ন আর তুলির মিউচুয়াল ডিভোর্স হয়ে গেছে।
তখন কিছুদিন তুলি মায়ের কাছে ছিল । শত হলেও মা তো তাই এডিকেটের বাইরে গিয়ে তুলি কে প্রশ্ন করেছিল_সায়ন এত ভাল চাকরি করে ভালো ছেলে, ফ্যামিলি ব্যাকগ্রাউন্ড ভালো! কি এমন হলো। একটু আধটু এডজাস্ট তো সংসারে থাকতে গেলে করতেই হয়। আমি করিনি, তোদের পড়াশোনার কথা ভেবে আমি সরকারি চাকরি ছেড়ে দিয়েছিলাম । তুলি মুখ ঝামটা দিয়ে বলেছিল__বস্তা পচা অ্যাডজাস্টমেন্টের গল্প শুনিও না.. তোমাদের সময় আলাদা ছিল। কিছুই হয়নি, আমাদের মধ্যে ইগো প্রবলেম ছিল। ব্যাস! এখন বরং এক ছাদের তলায় নেই বলে আমরা আবার পুরনো বন্ধুত্ব খুঁজে পেয়েছি। চ্যাটে কথা হয় রিয়া যেদিন বাবার কাছে যায় টুকটাক ফোনেও কথা হয়।বেশ একটা হেলদি সম্পর্ক হয়ে গেছে!
আরতির মুখ দিয়ে বেরিয়ে আসছিল কি স্বার্থপর মেয়ে রে তুই! নিজের হেলদি অ্যাডজাস্টমেন্টের জন্য রিয়ার জীবনটা আনহেলদি করে দিলি। কিন্তু কিছু কিছু কথা ছেলে মেয়েরা বড় হয়ে গেলে আর বলা যায় না।
তুলি পরে অফিসের দেওয়া ফ্ল্যাটে চলে যায়। ওদের কষ্ট হলেও তুলি কে আটকায়নি যাতে ভবিষ্যতে ছেলে মেয়ের মধ্যে সম্পর্ক ভালো থাকে। তাছাড়া তারা নিজের আত্ম অভিমানী মেয়েকে খুব ভালো করেই চেনে।
আরতির ভাবনায় ছেদ পড়লো মধুর কথায়_কি রে , তুই কখন এলি? আরতির মুখ থেকে সব শুনে মধুর মুখ পলকের জন্য ভার… টুবাইয়ের কাল থেকে সেকেন্ড ইউনিট টেস্ট.. পড়াশোনার ব্যাপারে মধু খুব সিরিয়াস। আরতি আর সোমনাথ কি নয়! ছোট থেকে কোলে পিঠে করে টুবাইকে ওরাই তো মানুষ করেছে। এমনকি এখনও ভালো ভালো কোচিং থাকলেও সাইন্স গ্রুপটা সোমনাথের কাছে আর আরতির কাছে আর্টস গ্রুপটা টুবাই দেখবেই… বিশেষ করে বাংলা আর ইংরেজিটা আরতি এখনো খুব যত্ন নিয়ে টুবাইকে দেখায়। পরীক্ষার সময় রিয়ার আসাতে হয়তো একটু ডিস্টার্ব হবে। কিন্তু ঘরের মেয়ে তো আর তিথি নক্ষত্র দেখে ঘরে আসবে না !
টুবাই কে ছোট থেকে মানুষ করলেও রিয়ার প্রতি সোমনাথ আর আরতির একটা সফট কর্নার আছে….. মধু মুখে কাষ্ঠ হাসি ফুটিয়ে রিয়ার চুল ঘেঁটে বলে উঠলো __আজ বিকেলে কি নিয়ে আসবো , সোনার জন্য, ডমিনোস না কে. এফ. সি! দাদার তো এবার এ‍্যগজাম তাই বাইরে নিয়ে যেতে পারবো না। ঘরেই হই হই করে পার্টি করব কেমন!
রনিত রিয়াকে আদর করে মধুমিতা কে নিয়ে বেরিয়ে গেল।

আরতি এবার যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো.. বড়দের কুটকাচালি আর ভালো লাগে না। এবার তারা দুজন টুবাই আর রিয়াকে নিয়ে অনাবিল আনন্দে ভাসবে। টুবাই তো আনন্দে আত্মহারা বোনকে দেখে। বেচারী একা একা থাকে। ওদের শিশু মনে এখনো তো কোন প্যাঁচ ঢোকেনি। আরতি তাড়াতাড়ি মেয়ে আর নাতির জন্য দুটো পদ রান্না করলো। সকালে কৃষ্ণা রান্না করে দিয়ে গেছে। তবুও এখনও দু একটা পদ সে নিজেই রান্না করে।

দুপুরবেলায় খাওয়া দাওয়ার পর সোমনাথ রিয়াকে নিয়ে নিচের ঘরে ক্যারাম নিয়ে বসলো… টুবাই কে নিয়ে আরতি পড়াতে বসল… নীচ থেকে ভেসে আসছে হাসির ফোয়ারা… স্ট্রাইকারের আওয়াজ… আরতির মন পড়ে আছে নীচের তলায়!
টুবাই কে নিচে আসতে বলে আরতি হড়বড় করে নিচে নামতে গিয়ে হলো যত বিপত্তি। সিঁড়ি থেকে পড়ে পা মচকে গেল।

ফ্যামিলি ফিজিশিয়ান এসে বললেন__ভয়ের কিছু নেই মনে হয় , মনে হয় ফ্র্যাকচার হয়নি… একটা ইনজেকশন আর পেইন কিলার দিয়ে চলে গেলেন.. বললেন কালকে এক্সরে করিয়ে ভালো অর্থপেডিক কে দেখাতে… বলা যায় না এই বয়সে কি থেকে কি হয়ে যায়!
ছেলে মেয়ে বউ খবর পেয়ে কর্মস্থল থেকে পাগলের মত দৌড়ে এসেছে। টুবাইয়ের আর রিয়ার মুখ চুন।
আরতি ঘরে শুয়ে আছে পাশে সোফায় বসে ছেলেমেয়েরা চিন্তিত মুখে। রনি ফোনে ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট নিচ্ছিল। মধু ব্যাগ থেকে আরতির কোমরের ব্যাথার তেলটা বার করে সাইড টেবিলে রাখল।
প্রতি মাসে মনে করে মধু ঠিক ব্যাথার তেলটা আনে। রান্নাঘরে কুটোটি না নেড়ে দুটোটি না করা, বারোমাস হোম ডেলিভারি খাওয়া মেয়ে তুলি সুপ বানিয়ে তাকে খাইয়ে মুখ মুছিয়ে ওষুধ খাইয়ে দিল।

আরতির পায়ের ব্যথা নিয়েও সবার যত্ন পেয়ে মনে মনে তৃপ্তি পাচ্ছিল। ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্ট পাওয়া গেল দুপুর বারোটা! কে যাবে তাই নিয়ে শুরু হলো সমস্যা, তুলি আজ তার প্রেজেন্টেশন মুলতুবি রেখেছিল মায়ের জন্য।কাল যেতেই হবে ইম্পোর্টেন্ট মিটিং আছে। মধুর ব্যাংকে খুব কাজের চাপ।
রনিতের কলেজের পরীক্ষা চলছে। সোমনাথ চুপচাপ সবার কথা শুনছিল এবার সবাইকে চুপ করিয়ে বলল_কাউকে যেতে হবে না আমি নিয়ে যাব। খোকা গাড়িটা কাল নিয়ে যাস না। সবাই যেন হাঁফ ছেড়ে বাঁচলো।
কাজের জায়গায় এরা প্রত্যেকেই খুব পারফেকশনিস্ট। তাই সোমনাথের ব্যবস্থাটা সবাইকার খুব মনঃপুত হল। আরতির ঘুম ঘুম পাচ্ছিল… ওষুধে বোধহয় ঘুমের কিছু আছে চোখ বন্ধ করেই শুনতে পেল, তুলি আর মধুর কথোপকথন। সোমনাথ আর রনি ঘরে নেই। তুলি ব্যাগ থেকে মধুর পছন্দের পারফিউম এনেছে সেটা আবার করে তাকে দিল। মধু ও বলল তুলির জন্য তার পছন্দের ব্র্যান্ডের ব্যাগ কিনেছে, ঘরে রাখা আছে। কোন ব্র্যান্ডের সেল দিচ্ছে,উইকেন্ডে দুজনে শপিংয়ে গিয়ে খাওয়া-দাওয়া করলে কেমন হয়! এবার পূজোতে সবাই মিলে কোথাও ঘুরতে যাওয়া।মা ঠিক হয়ে গেলে তুলি ডিনারের ট্রিট দেবে, নতুন ফ্যাশন ট্রেন্ড,অফিস গসিপ।এমন ভাবে দুজনে গল্প করছিল কে বলবে দুজন দুজনের প্রতি মনে মনে চাপা হিংসা রয়েছে।

আরতি ভাবল সত্যিই বাইরের দুনিয়ায় কাজ করতে করতে এরা দারুন ডিপ্লোমেটিক হয়ে গেছে। মধু পরের মেয়ে,তাকে সে বেশি চেনে না কিন্তু যে টুকু জানে তাতে সে জানে মধু সবসময় মুখের উপরে কোন কথা বলে না ,মনের কথা মনে রাখে। নিজের কাজ গুছিয়ে নেয় কারোর কাছে অপ্রিয় না হয়ে.. কিন্তু তুলি ছোট থেকেই খুব ঠোঁটকাটা স্পষ্টবাদী। এখন সেও মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির দৌলতে কাজ হাসিল করতে শিখে গেছে। এই যে আরতির প্রতি এত সেবা এত কেয়ার এগুলো দেখানো নয় তো! ছি ছি!! কি সব ভাবছে নিজের ছেলে মেয়েদের সম্বন্ধে! তিল তিল করে যাদের নিজের ভাবনা শিক্ষা দিয়ে বড় করেছে তাদের বিষয়ে এসব ভাবনা! নিজের ভাবনায় আরতি নিজেই লজ্জা পেল।

সবাইকার খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে, আরতি কে ঘুম পাড়িয়ে গায়ে ঢাকা দিয়ে সোমনাথ ব্যালকনিতে এসে দাঁড়াল! সোমনাথের কিছু হলে আরতি সব সময় সামাল দেয়, আরতির কিছু হলে সোমনাথের বড় অসহায় লাগে। ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে সোমনাথ আকাশের নিভু নিভু চাঁদের দিকে তাকিয়ে ছিল। ব‍্যলকনিটা আসলে তার বড় প্রিয় জায়গা। সময় অসময়ে সে সেখানে এসে মাঝে মাঝে দাঁড়িয়ে একটু নিঃশ্বাস নেয়। রাত্রিবেলা চারিদিকে চুপচাপ!
হঠাৎ পাশের খোকার ঘর থেকে মধুর গলা পাওয়া গেল__ আমি তো খুব মুশকিলে পড়লাম, টুবাইয়ের কাল থেকে পরীক্ষা, মা পড়ে গেলে তো মুশকিল! টিউটার থাকলেও মা পরীক্ষার সময় একবার রিভাইজ করিয়ে দেয়।
তারপর স্কুল থেকে ফিরে ওর পছন্দ মতো খাবার দেওয়া, কৃষ্ণা মাসি পরশু থেকে ছুটি নেবে, একমাস আগে থেকে বলেছে.. দেশের বাড়িতে ভাইয়ের না কার বিয়ে আছে। তুলি তাকে থামিয়ে দিয়ে বলল_আমি তো রিয়াকে নিয়ে এসেছি যাতে এই সপ্তাহটা এইখান থেকেই বাপীর সাথে স্কুল যেতে পারে। আমার যা হেকটিক শিডিউল আমার পক্ষে সম্ভব নয়। মা কে ছেড়ে বাপি কি করে যাবে, রিয়ার স্কুল কামাই হবে‌।টুবাই বড় হয়ে গেছে ও স্কুল থেকে পরীক্ষা দিয়ে ফিরে নিজেই পড়তে বসবে। রিয়া এত ছোট যে ওকে মা ছাড়া কে সামলাবে।
খাবারটা কোন সমস্যা নয় হোম ডেলিভারি নিয়ে নেওয়া যাবে । মধু তাড়াতাড়ি বলে উঠলো_ এটা কোন ব্যাপার নয়! আমি অফিস থেকে ফিরে যা হোক কিছু ভাতে ভাত করে দেবো। টুবাইয়ের পরীক্ষা চলাকালীন বাইরের খাবার সে বাড়িতে অ‍্যল্যাও করে না। এমনিতে মধু রান্নাঘর পারতপক্ষে এড়িয়ে চলে.. দরকার হয় না, কৃষ্ণা মাসি আছে ,সর্বোপরি মায়ের মত একজন অলরাউন্ডার আছে।
রনি বলল_আমার এই সপ্তাহটা পুরো প্যাকড প্রোগ্রাম। কিছুতেই ম্যানেজ করা যাবে না।আমি যে টুবাইকে দেখব রিয়াকে স্কুল দিয়ে আসব সে উপায় নেই। রনি মধুকে ঘুরে বলে ওঠে_আচ্ছা তোমার মা এসে থাকতে পারবেন না? মধু ঝাঁজালো গলায় উত্তর দেয়_অসম্ভব অসুস্থ বাপিকে ছেড়ে মা এখানে ড্যাং ড্যাং করে চলে আসবে, কি করে বলতে পারলে। অফিস আর সংসার করে আমারই মায়ের কাছে কতদিন যাওয়া হয়নি।তুমিও তো নিয়ে যাওনি।ফোনে খালি ভদ্রতাটুকু সেরেছো।তুমি আমার মা বাবার কথা ভাবো কোনদিন! কি আশ্চর্য! নিজের মায়ের জন্য ছুটি নিতে পারছো না!

চলছে কথার চাপান উতোর।
বিখ্যাত কার্ডিয়োলজিস্ট ডাক্তার সোমনাথের বুকে রক্তক্ষরণ হচ্ছিল তার আত্মজ ও আত্মজার স্বার্থপর রূপ দেখে। মায়ের শরীর খারাপের জন্য তাদের ব্যস্ত শিডিউলের অসুবিধা হবে তাদের ছেলেমেয়েদের ঠিকমত দেখাশোনা হবে না তাই নিয়ে এরা অস্থির হয়ে যাচ্ছে। মায়ের শরীর নিয়ে কেউ একটা কথা উচ্চারণ করছে না। কেউ বলছে না মায়ের এক মাস সম্পূর্ণ বেড রেস্ট দরকার। একটা অজানা ভয় সোমনাথ কে গ্রাস করছিল… যদি তাদের মধ্যে কেউ একজন আগে চলে যায় অপরজনের এদের হাতে কি অবস্থা হবে!!!!!
দূরে একটা রাত জাগা পাখি ডেকে উঠলো…..
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।