সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে ইন্দ্রাণী ঘোষ (পর্ব – ৭)

আরশি কথা

ছুটতে ছুটতে বাগানের শেষে একটা টিলার উপরে উঠে পড়ে দুজনে. দুজনেই ঘাসের উপর বসে হাঁপায়. হঠাৎ ঠোঁটে আঙ্গুল ঠেকিয়ে ঝোরাকে চুপ করতে বলে স্বচ্ছতোয়া. দৃষ্টি ফেরায় ঝোরা বাঁ দিকে. কি সর্বনাশ. কে বসে আছে ওখানে? স্বচ্ছতোয়াকে কোলে তুলে নেয় ঝোরা তড়িঘরি. ঝোরার কানের কাছে মুখ নিয়ে স্বচ্ছতোয়া বলে ‘ভয় পেও না,ব্ল্যাক প্রিন্স আমার বন্ধু’. বলে কি মেয়ে. ওই বিশাল ব্ল্যাকপ্যান্থার ওইটুকুনি মেয়ের বন্ধু. ঝোরার তো ভাটার মত চোখ আর বিশাল কালো চেহারা দেখেই ভয় হচ্ছে. একেবারে আত্মারাম খাঁচাছাড়া. স্বচ্ছতোয়াকে বুকে জড়িয়ে ধরে ঝোরা. স্বচ্ছতোয়া ঝটাপটি করে কোল থেকে নেমে যায়. ঝোরা বলে ‘করছ কি? ওর কাছে যেতে হবে না. চল আমরা বাগানে ফিরি’. ‘না না ব্ল্যাক প্রিন্স খুব ভালো, তোমারো বন্ধু হবে, কোন ভয় নেই.’ হাত ধরে ঝোরাকে টানতে থাকে স্বচ্ছতোয়া. ঝোরা কাঠ হয়.
কি সাংঘাতিক, স্বচ্ছতোয়া ওইটুকুনি মেয়ে একটুও ভয় পায় না, পায়ে পায়ে এগিয়ে যায় ব্ল্যাক প্রিন্সের কাছে. ওর পিঠে হাত রাখে মেয়ে, ঝোরাকে আবার ডাকে স্বচ্ছতোয়া. টিলার উপর থেকে দেখা যায় সবুজ বনানী, একটু দূরে দেখা যায় নীল বরণী নদীর কায়া. বাগানের সাদা চোখো টুনটুনি আর কুবো পাখীটাও এসে গেছে. হুক, হুক করে গম্ভীর গলায় আশ্বাস দেয় কুবো, ‘কিছু হবে না যাও কাছে’, সাদা চোখোরা কিচির মিচির করে বলে, ‘ভয় নেই, ভয় নেই’. বহু কষ্টে পা দুটোকে টেনে নিয়ে চলে ঝোরা, হাত রাখে ব্ল্যাক প্রিন্সের পিঠে. নরম ভেলভেটের মত গা ওর, আর তার নীচে মাসল, ঠিক এথলিটদের যেমন থাকে।

(চলবে)

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।