সাপ্তাহিক কোয়ার্কো ধারাবাহিক উপন্যাসে সুশোভন কাঞ্জিলাল (পর্ব – ৩৮)

আটত্রিশ

হঠাৎ ফোনের আওয়াজে ঘুমটা ভেঙে গেলো। চোখ কচলে মোবাইল তুলে দেখলাম অচেনা নাম্বার। মনে পড়ল যে আমার নতুন মোবাইলে কারো নাম্বার সেভ করা নেই। প্রথমে গলাটা শুনে বুঝতে পারিনি। মহিলা কণ্ঠ বললো “হ্যালো আমি ললিতা বলছি। কাল তুমি আমাদের বাড়িতে এসেছিলে? “আমি ভাবছি ললিতা আবার কে? আসলে এতক্ষণ ধরে যত ঘটনা ঘটতে দেখলাম তারই ফলস্বরূপ আমার এখনও ঘোর কাটেনি।বুকটাও ঢিপ ঢিপ করছে। তার পর যখন বুঝতে পারলাম এতক্ষন ধরে যা দেখেছি তা আমার মনের দুর্ভাবনার প্রতিফলন তখন মনে একটা পরম স্বস্তি পেলাম। সঙ্গে সঙ্গে বুঝতে পারলাম আরে এতো লুলিয়ার গলা ! কিন্তু ও ললিতা বললো কেন? আমায় তো নিজের নাম লুলিয়াই বলেছিলো আগে। আমি এসব ভাবার জন্য কয়েক সেকেন্ড চুপ করেছিলাম। তাই লুলিয়া অবাক হয়ে বললো “কি হল কোথা বলছো না কেন? “আমি বললাম “হ্যাঁ বলো। “এই প্রথম ওর সাথে ফোনে কথা বলছি তাই ওর ফোনেটিক সাউন্ড এর সাথে আমার পরিচয় ছিল না। প্রথমে তাই ওর গলা চিনতে পারিনি। কথা বলার মাঝে খেয়াল করলাম না যে ও আমাকে তুমি বলে সম্মোধন করল। আর আমিও ওকে অনায়াসেই তুমি বলে সম্মোধন করে
বসলাম। লুলিয়া বললো “তুমি কাল আমার বাড়ি এসেছিলে? লকে তোমার ভিসিটিং কার্ড তা আটকানো অবস্থায় পেয়েছি। “এই ফোনটা আমি ওর থেকে কাল রাতেই আসা করেছিলাম। সেটা না বলে বললাম “হ্যাঁ গিয়েছিলাম। নতুন ফোন এর নাম্বারটা দেবার জন্য। যাইহোক লুলিয়া বললো যে ও কাল লেকমার্কেট গেছিলো ওর মামার বাড়ি। ছেলেকে রেখে আজ সকালে ফিরেছে। ওর মামা নাকি ওকে জোরাজোরি করছে থাকার জন্য। কিন্তু ও ডঃ চোঙদারের বাড়িই থাকতে চায় যদি ওর স্বামী আবার ফিরে আসে সেই আসায়। লুলিয়া আমায় আজ দুপুরে লাঞ্চে ইনভাইট করলো। আমি বললাম, “হ্যাঁ যাব, কারণ আমারো কিছু বলার আছে। সেসব কথা ফোনে হবে না গিয়ে বলবো “। আসলে ওকে ঘটি গরম গল্পটা বলতে চাই। শ্রেয়ানের কিডন্যাপাররা আর ফোনে যোগাযোগ করেছিল কিনা জিজ্ঞাসা করলাম। ও বললো আর কেউ যোগাযোগ করেনি। আমি আবেগের বসে বললাম খেতে আসবো। ফোন রেখে দিলাম।
মনটা ভারী হয়ে আছে। খুব একা লাগছে নিজেকে। স্বপ্নটা বেশ কষ্টদায়ক ছিল। এখন বাজে সকাল আটটা। আজও যোগব্যায়াম হবে না। বেল বাজিয়ে বাল্মীকিকে ডাকলাম। ওকে কাল রাতের স্বপ্নের কথা বললাম। আসলে কথা গুলো কাউকে না বলতে পেরে অস্থির লাগছিলো। ওকে ব্ল্যাককফি দিতে বললাম। মাথার দুপাশের শিরা দপ দপ করছে। না, শরীরকে মনের দাসত্ব থেকে বাঁচাতে হবে। তাই বাল্মীকিকে ব্রেকফাস্ট ও নিয়ে আসতে বললাম। কিছুক্ষণ পর বাল্মীকি ব্রেকফাস্ট ও কফি নিয়ে এলো। ব্রেকফাস্ট ও কফি খেয়ে মনটা হালকা হল। অার্জমাকে ফোনে ধরলাম। ওকে সব কথা বললাম। আর্জমা বললো ও নাকি আমাকে ফোন করার কথা ভাবছিলো। কিন্তু শ্রেয়ান বিপদে আছে তাই বলবে কি বলবে না দোটানায় ছিল। আমি উদগ্রীব হয়ে জিজ্ঞাসা করলাম কি এমন কথা যেটা বলতে ওর এতো দ্বিধা। তবুও ও একটু ইতস্তত করে বললো যে শ্রেয়ানের নাম যাদবপুর থানায় রিপোর্ট লেখানো হয়েছে যে ও নাকি কারুর থেকে পাঁচ লক্ষ টাকা ধার করে ফেরত দেয়নি আর এখন নিখোঁজ। আসলে আর্জমা শ্রেয়ানের নিখোঁজের খবর আমার থেকে পাওয়ার পর আশেপাশের থানায় ওর খোঁজ নেওয়ার অর্ডার দেয় তাতেই এই ফিডব্যাকটা ওর কানে পৌঁছয়। কিন্তু খবরটা আমার একদম বিশ্বাস হচ্ছে না। কারণ শ্রেয়ানের টাকার অভাব হওয়ার কথা না। তাছাড়া ধার লাগলে আমার কাছে চাইতো। টাকা নিয়ে ফেরত ও দিতো। কিন্তু ওতো অপহৃত হয়েছে। অার্জমাকে একথাটাই বোঝানোর চেষ্টা করলাম। ও বললো সেটা ও বুঝেছে। যাই হোক আমাদের কথা শেষ হলে ফোনটা রাখলাম। হঠাৎ বাল্মীকি এসে আমাকে একটা প্রিন্টেড খাম দিয়ে বললো, “দাদা এটা তোমার নাম এসেছে “।

ক্রমশ…

ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।