|| মানচিত্র আর কাঁটাতার, হৃদয় মাঝে একাকার || বিশেষ সংখ্যায় স্বপন পাল

স্বদেশ
বছর তিন বয়স আমার, যখন দ্যাশ ছাড়ছি। মনে তেমন কিছু নাই। গাদা লোকজন সব গরু-বাছুরের মতো খেদা খাইয়া ছুটতেছে। আমার বাবার মাথায় কাপড়ের মস্ত পোঁটলা। মাকে তো তার আগের রাতে কারা তুইল্যা নিয়া গেছে। সকালে খোঁজ করার সময়টুকুও পায় নাই বাবা। গাঁয়ের হিন্দুরা বললো, জানে বাঁচতে চাও তো পালাও। বাবার কোলে চড়বো তার উপায় নাই, কাঁধের ঝোলায় মুড়ি-চিড়া। মনে আছে নৌকায় নদী পার হওয়া। তখন দুপরবেলা। এতো লোকের ভারে মাঝনদীতে নৌকাখানা ডুইব্যা গেল। বাবা কোথায় জানা নাই। খাবি খাইয়া ডুবছি, কে যেন ধরলো আমার চুলের মুঠি, কি ব্যথা। আমার এটুকু মনে আছে কাদার চরে আমারে ফ্যালাইলো।
দেখি মাইয়া মানুষ। আমার মায়ের মতোই হইবো। আমার প্যাট টিপত্যাছে। তারপর আবার দৌড়। তবে এপাড়ে লোকজন কম। খুব তৃষ্ণা পায়, তো দেখি সেই মাইয়ামানুষ একটা পুকুরের নাইম্যা আঁজলা কইরা জল খায়। আমিও খাইলাম। তারপর রাইত নামার আগে পর্যন্ত হাঁটছি। একখানা গ্রাম দেইখ্যা গেলাম সেই পথে, তো দ্যাখলাম আগেই অনেক মানুষ গ্রামের মাঝে গোল হইয়া বইস্যা আছে। কেউ কেউ পুঁটলি খুইল্যা মুড়ি-চিড়া শুখনোই চিবায়। কোথা হতে ওই মাইয়ামানুষ চাড্ডি চিড়া আইন্যা আমার মুখে গুঁইজা দিলো। ততক্ষণে ওরে পিসি ডাকতে লাগছিলাম। আমার নাম ছেল বোঁচা। পিসি আমারে তখন বোঁচাই ডাকতেছিল। ভালনাম আমার নিশ্চয় ছেল কিছু, সে আমার মনে নাই। পদবিও জানিনা। একজনের বাড়িতে ফাইফরমাস খাটতাম, তার পদবি ছেল বারিক। আমিও হইলাম শিশির চন্দ্র বারিক। তবে সে সব আরেক মাইয়ামানুষের কাম। পিসি আমারে লইয়া কোথায় যায় আমি জানিনা। আমার তো চেনা জানা কেউ নাই। যেদিকে হাঁটি, যেখানে বসি বা শুই পিসি আমারে জড়াইয়া ধইরা থাকে। এই রকম কয়দিন পর আমরা একটা পাকা রাস্তায় পড়লাম, তখন আমার ধূমজ্বর। আমারে বেশিটাই কোলে কোলে পিসি নিয়া আসছে। কিন্তু গাছতলায় সকাল হইতে দেখি পিসি নাই। আমার জ্বর ছিলনা আর। ওই যায়গাটা একটা আধাশহর কিন্তু ইন্ডিয়া। একজনের বাড়ির সিঁড়িতে বইস্যা আছি তো বুড়ি একজন বাহির হইয়া চাড্ডি মুড়ি আর একটু গুড় দিলো খাইতে। জল দিলো নারিকেলের মালায়। পরে বলে কি, কাজ করতে পারবি ? বোঝেন আমার তখন তিন বছর বয়স, তবে গাঁয়ের গরীব গেরস্ত ঘরের তো। কিছু কাম আমাদের জন্মশেখা। আর একয়দিনের অভিজ্ঞতায় বুইঝা গেছি খিদা কি জিনিস। কাম করলে খাইতে পাবো, কামে ভুল করলে দুইচার ঘা মার খাইবো এ আর নুতন কথা কি। লাগলাম কামে। ভোর হইলেই মাটির উঠানে গোবরজল দাও, ঝাঁট মারো। কাপড় কাচতে পারতাম না। তবে যা যা পারা সম্ভব সবই করতাম। বুড়ি ছিল বিধবা,
ওর একটা বিয়া না হওয়া মাইয়া আর একটা ব্যাটা। ব্যাটাটার একটা দোকান ছেল। আমারে সেই ছোটমতো গোলদারির দোকানেও নিয়া যাইতো, মাল ওজন করা শিখাইতো, কিন্তু পয়সার হিসাব শিখায় নাই। এই রকম দুইটা বছর ছিলাম। মাইনা কি জিনিস তা তো জানিনা। ওরা মাইনার কথা বলেওনি। তবে পুরানো কিছু জামা কাপড় দিছিলো। বারান্দায় শুইতে হইতো, শীতের সময় কম্বল দিছিলো। গল্প ক্রমশ লম্বা হচ্ছে দেখে আমি উঠবো উঠবো ভাব করছি, ঠিক তখনি একটা প্লেট আর একগ্লাস জল নিয়ে এক বৃদ্ধা ঘরে ঢুকলেন। একমাথা পাকাচুলের ওপর আধখানা ঘোমটা আর সিঁথিতে সিঁদুর যেন এই বাড়িতেও একটু শ্রদ্ধা করার মতো অবস্থান তৈরি হয়ে গেল। প্লেটে চারটে নারকেল নাড়ু আর কিছু কুচো নিমকি। কোন ভনিতা না করেই বললেন, খাও বাবা, আমি চা আনছি। এখন তো অনেক বকবক শুনবে। ঝাঁপি খুললে আর বন্ধ হয়না। বলেই ভিতরে চলে গেলেন। কথায় ওঁর ওপার বাংলার টান দেখলাম না। বুড়ো কিন্তু লুঙ্গিটা টেনেটুনে বসে আবার খেই ধরে ফেলেছে। খাইতে থাকেন। সবই আমার ইস্তিরির হাতের তৈয়ারি। রান্নার হাতখানি খুব ভালো জানেন। আমার তখন সাতাশ আঠাশ, মিনতির সাথে পরিচয় বাজারে। আমি সব্জি বেচি। হেন কাম নাই আমি করি নাই। বারো বৎসর পর্যন্ত এখানে সেখানে, কখনো দোকানে, কখনো কারো বাড়িতে কাম করছি। কিন্তু এইবার এক মাছের আড়তদার বরফ ভাঙ্গার কাম দিলো। বড় ঠাণ্ডা, আর খাটুনিও খুব। জ্বর হইয়া পইড়া ছিলাম আড়তে। এক সব্জিওয়ালা তুইল্যা আইন্যা তার ঘরের কামে লাগায়। এর মাঝে আমি এক আধটু পড়তে শিখছি, টাকা পয়সার হিসাব শিখছি। তবে লিখাপড়া একবাবু কইছিল শিখাবে। আমি তার ধারে কাছে ঘেঁষতাম না। সব্জিওয়ালা সহদেবকাকার বাড়িতে আমার অনেকগুলা বৎসর কাটছে। সহদেবকাকার বৌ পলাইয়া গেছিলো, সন্তানাদি ছেল না। একা মানুষ আর আমি। তবে কাকা মাঝে মাঝেই রাইতেরবেলা ঘরে থাকতোনা। আমারে কইতো খাইয়া যেন দরোজায় খিল দিয়া শুইয়া পড়ি। পরে জানতে পারি একটু দূরে একবাড়িতে অন্য এক মাইয়ামানুষের কাছে যায় সহদেব কাকা। তা যাক। আমারে বেশ ভালবাসতো কাকা। মেলাখেলা হলে পয়সা দিতো যাবার জইন্য। আমার তখন পঁচিশ বৎসর হইবো, সহদেবকাকা এক গ্রীষ্মের দুপুরে সানস্ট্রোক হইয়া মারা গেলো। মাল আমিই আনতাম, বিক্রিবাটা আমিই করতাম আর দিনের শ্যাষে টাকা পয়সার হিসাব দিতাম সহদেব কাকাকে। ততদিনে কাকা বুড়া হইছে, মাঝে মধ্যে বসতো সব্জির গদিতে। কিন্তু আমি ছিলাম ওর ব্যাটার মতো। হাসপাতাল নিয়া যাইবার সময় দেয় নাই। কাকার দাহ কাজ আমিই করছি। ঘরে তখন আমি একা, বদ-সঙ্গে পড়লাম। দুই তিনজন আসে গল্প করার নামে মদের ঠেক হইলো গিয়া ঘরখানি। এই রকম একদিনে বাজারে মিনতি আসে। আমি তো ভাবলাম খরিদ্দার। তা সে কইলো কি জানেন, কইলো অ্যাই বোঁচা আমারে বিয়া করবা ? দুপরবেলা, কিনাকাটার লোকজন নাই, সব্বাইমাল গুটাইতেছে, এমন সময় সোমত্থ জুয়ান মাইয়া হঠাৎ যদি কয়, আমারে বিয়া করবা, মাথাটা ঘুইরা যায় কিনা কন। আমারও সেই হাল হইলো। আমার মুখ দেইখ্যা তার বোধহয় মায়া হইলো, কইলো, সব কাম সারো, পরে কথা কই। বাজার থেইক্যা ঘর পৌঁছাতে পৌঁছাতে মিনতির অনেক কিছুই জানলাম। ওরাও রিফুজি। আমাদের মতোই পলাইয়া আসছে। তবে ওর বাবা ফিইরা দ্যাশে যায়, আর ফিরে নাই। মিনতি ওর মায়ের সাথে এক দূর সম্পর্কের মামার বাড়িতে ছেল। মাকে আজন্মকাল ঝিয়ের কাজ করতে দ্যাখছে মিনতি। একটু বড় হতেই মিনতিও মায়ের সঙ্গে ঝি খাটতো। তবে মাইয়া মানুষ হইলে কি হয়, খুব সাহস মিনতির। ডাগর হইতেই পাড়ার লোকের নজর পড়ে মিনতির ওপর। এক পাইকারের কথায় তার সাথেই বিয়া হইয়া যায় মিনতির। পরে জানা যায় মিনতির মামারে পাইকার কুড়িটা টাকা দিছিলো মিনতির লগে। পাইকারের ঘরে অন্য বউ ছেল। কমবয়সী মিনতির কাজ সেই ঝি খাটা। আগের বউয়ের কোনো সন্তান হয় নাই, হয়তো মিনতিকে বিয়া সেই কারণে। বছর দুই পর আগের বউটা সাপের কামড়ে মারা যায়। পাইকার অনেক দূর দূর গরু ছাগল কিনা-ব্যাচা করতে যায়। অনেক রাইতেই ঘরে থাকে না। রাইতে ঘরের দরজায় জানালায় ঢিল পড়ে। কড়া নাড়ে। তার মধ্যেই এক সকালে পুলিশ আসলো। চোরাচালানকারী বইল্যা পাইকারেরে নিয়া গেলো ফাঁড়িতে। তারপর শহরের আদালতে তুললো। সেখান হইতে জেলখানা। একবার শহর যাওয়া আসার খরচ, উকিল মোক্তার খরচ সব দেইখ্যা মিনতি আর খোঁজ নেয় নাই। নিয়াই বা করবে কি। মাথাগোঁজার ঠাঁইটাও ব্যাচতে হইতো। আবার পরের বাড়িতে কাজ, কারো বাড়ি রান্না করা, এই করে চলছেল। আমারে কয়দিন ধইরা বাজারে দেখছে মিনতি, তারপরই তার প্রস্তাব। ঘরে আইস্যা খুব ভাবলাম জানেন, সেদিন বৈকালে আর বাজার গ্যালাম না। বন্ধু দুইজন আসলো তো দরজা খুললাম না, বললাম শরীল খারাপ, তোরা যা। পরদিন মিনতি আসলো, চারখানি শাড়ি, সায়া, ব্লাউজ পোঁটলা বাঁইধা আমার ঘরে মানে ওই সহদেবকাকার দেওয়া ঘরে। কইলো চলো আজ সন্ধ্যায় পুবপাড়ার কালীবাড়িতে বিয়া কইরা আসি। আমি একটু দুইমনা ছেলাম। মিনতির তো আগের বিয়া ছাড়ান হয় নাই। মিনতি কইলো উ সব তোমারে ভাবতে হইবো না। আমি চুকাইয়া দিছি গিয়া, অর একখান জিনিস আনি নাই সাথে, ঘরের চাবি দিয়া আসছি পাশের বাড়ির দত্তকাকার হাতে। দত্তকাকাই কইলো তুই যা বিয়া কর। আগের বিয়া তো ছেল সিন্দুর ঘষা, এবারে অন্তত মন্দিরে গিয়া কর। কইলো এই ঘর একবৎসর দেইখ্যা দখল নিবো। রাজনীতি করা মানুষ দত্তকাকা। বিয়া হইয়া গেলো। দত্তকাকা আর আমার তিনবন্ধু বিয়ার সাক্ষী থাকলো। ইতিমধ্যে বিজন ফিরে এসেছে। আসলে মালদহের এক আধাগঞ্জ অঞ্চল এখন একটু একটু করে জনসংখ্যায় ভারী হচ্ছে। একটা হাই-ইস্কুলের এখানে খুব প্রয়োজন। সরকারী সার্ভের দায়িত্ব নিয়ে আমার এখানে আসা। মালদহ সদরে বিজনের বাড়িতে এসে উঠেছি সকালে, আগামীকাল ফিরে যাবো কলকাতা। বিজন তো সব শুনে বললো, হ্যাঁ কাগজে বেরিয়েছিল শিশিরবাবুর নাম। পাঁচ বিঘে জমি দান করেছে হাই-ইস্কুল তৈরী করার জন্য, চলো তোমাকে একবার ঘুরিয়ে আনি। বিজনের গাড়িতে এখানে এসেছি তখনও বিকেল হতে বাকি আছে। আগেই আমরা স্কুলের জন্য দান করা যায়গাটা স্থানীয় পঞ্চায়েৎ অফিসের সাহায্য নিয়ে দেখে এসে শিশির চন্দ্র বারিকের খোঁজ করেছি। বিজন গিয়েছিল ওর একটা কাজ সারতে। এখন ফিরে আসায় আমার তাড়া লাগলো। ফিরতে না রাত হয়ে যায়। ইতিমধ্যে আমাদের সবার জন্য চা দিয়ে গেছেন শিশিরবাবুর স্ত্রী। শিশিরবাবু পুরোন কথার সূত্রধরে বলে চললেন। মিনতির বুদ্ধি খুব। ও আমার নাম দিলো। ওই আজ যে নামে আমারে লোকে চেনে। ও আমার রেশনকার্ড, আধার কার্ড, প্যানকার্ড, ব্যাঙ্কে পাশবই খোলা সব সামলেছে। আর আমিও কি করি নাই। ইঁট-বালি সাপ্লাই দিছি, বনদপ্তরের কনট্রাক্ট নিছি। একটা গ্রিল তৈয়ারির কারখানাও বানাইছি। কত ঘর-বাড়ি উঠবো, ইঁট-বালি-পাথর-গ্রিল সবই লাগবো। ব্যবসায়ী হিসাবে আমার এ অঞ্চলে সুনাম কিছু আছে। আমাদের বিয়ার একবৎসরের ভিতর সুকু আসলো মিনতির কোলে। মিনতি তো তারে লইয়াই খুশি। খুশি আমিও। সেই পোলা বড় হইলো। ছোট ইস্কুল থেইক্যে বড় ইস্কুলে যখন গেলো, হোস্টেলে রাখছি অরে। পাশও করলো ভালই। কিন্তু আর পড়লো না। অর মা, আমি কত বুঝাইলাম, কে শুনে কার কথা। কয়, পল্টনে যোগ দিবো, চাকরি করবো। দ্যাশের কাজ হবে, চাকরিও হবে, তোমাদের কষ্ট দূর হবে। আসলে ও তো অর বাপেরে দ্যাখছে, নাওয়া খাওয়ার সময় পাইনাই। তখন ইঁট-বালি-পাথর ট্রাকে নিয়া যাই দূরে দূরে। একদিন সুকু ইল্যা গেল পল্টনে। প্রথমে ট্রেনিং তারপর পোস্টিং, একেবারে বর্ডারে। দুইবার আসছিলো বাড়িতে পোলাটা, কাজে যোগ দিবার পর। ততোদিনে আমি দশবিঘা জমি কিইন্যা ফ্যালাইছি। সস্তা পাইয়া গেছি, ন্যাড়া জমি চাষ হয়না। ঝোপ জঙ্গল সাফা করছি। ওই জমিটার একধারে আমাদের একতলা বাড়িটা তোলা হইলো। সুকু কইলো, এবার আমার চাকরির টাকায় দোতলা তোলো। তুললাম। শেষ যেবার আসলো সুকু কইলো, একটা সাবমার্সিবল পাম্প বসাও, টিউবওয়েলের হাতল টিপতে মায়ের কষ্ট হয়। তাও হইলো, কিন্তু সুকু আর দেখতে আসলো না। আসলো একখান কাঠের কফিন, তেরঙা পতাকা দিয়ে মোড়া। আমি, অর মা কইলাম বাক্স খোলেন, দেখি পোলাটার মুখ। তা সঙ্গে আসা অফিসাররা কি কইলো জানেন, কইলো, কি দেখবেন, ওর মাথাটাই যে নাই, শত্রুপক্ষ মাথা কাইট্যা নিয়া গেছে। এমন কইরা কেউ বাড়ি আসে, কন ? অর মা কান্দে, আমি কান্দি, অরা দাহ করার জইন্য গাড়িতে চাপাইয়া নিয়া চইল্যা গেল। আমারে নিয়া গেছিলো। কিন্তু দ্যাখতে পাই নাই। আমাগো সুকুমার আর আসলো না অর বাড়ি দ্যাখতে। অই দ্যাখেন, দেয়ালে ঝুলত্যাছে।
দেখেছি আগেই, জেনেওছি শিশিরবাবু জমি দান করেছেন শহিদ সুকুমার বারিকের নামে। স্কুলটার প্রস্তাবিত নাম পঞ্চায়েৎ থেকে বলেছে শহিদ সুকুমার বারিক উচ্চ বিদ্যালয়। দেয়ালে ঝুলছে ফ্রেমে আটকানো সৈনিকের পোশাকে সুকুমারের ছবি, কপালের কাছে কাচের ওপর চন্দনের টিপ। বেশ সরল অথচ গর্বিত তরুণ মুখটি। শিশিরবাবু আঙুল দিয়ে চোখের কোণা মুছলেন। বহুবার একঘটনার বিবরণ দিতে দিতে বাপের চোখেও হয়তো জল কমে আসে, কিন্তু মায়ের চোখের জল আমৃত্যু ঝরেই চলে, সে আর ফুরোবার নয়। চলে আসছি, তখন আবার দেখা দিলেন সেই বৃদ্ধা, সুকুমারের মা, শিশিরবাবুর স্ত্রী। ফোলা ফোলা দুই চোখ যথেষ্ট মুছে স্বাভাবিক থাকার চেষ্টা করছেন বোঝা গেল। শিশিরবাবু বললেন, এদিক পানে আসেন যদি, একবার পায়ের ধুলা দিয়া যাইবেন। ভাবলাম, সত্যি পায়ের ধুলো দিতে নয় বোধহয় নিতে যাওয়া উচিত ওই বাড়িতে।