আজ সক্কাল সক্কাল ঘুম থেকে উঠেছে টুকটুক। সাদা ধবধবে পোশাক পরে স্কুলে গেছে। আজ যে স্বাধীনতা দিবস। বছর পাঁচেকের টুকটুক চোখ কচলাতে কচলাতে মা-কে অনেকবার প্রশ্ন করেছে —
— মা, স্বাধীনতা মানে কী ? স্বাধীনতা দিবস কাকে বলে ?
কিন্তু মায়ের কোনো উত্তরই তার বোধগম্য হয়নি।
আজ স্কুলের সম্পূর্ণ অন্য রকম পরিবেশ। সকলে স্কুল মাঠে লাইন করে দাঁড়িয়ে একসাথে গেয়েছে জাতীয় সঙগীত। দেখেছে তেরঙা পতাকা খোলা আকাশে কেমন উড়ছে। টুকটুক তার ছোট্ট দুটি হাতে মুঠো করে ফুল দিয়েছে পতাকার নিচে। আকাশের দিকে তাকিয়ে দু’হাত জোড় করে প্রণাম করেছে। আর হাঁ করে শুনেছে প্রিন্সিপাল ম্যামের স্বাধীনতা সম্বন্ধে গুরু-গম্ভীর বক্তৃতা। কিন্তু সত্যিই কতটা বুঝেছে সে !
চেয়ারের ওপর বাবু হয়ে বসে, গালে হাত দিয়ে একমনে এইসবই ভাবছিল টুকটুক। চমকে উঠল মায়ের বকুনিতে।
—- সেই কখন থেকে একই হোমওয়ার্কের পাতা খুলে বসে আছিস টুকটুক। আজ ছুটির দিন। এক্সট্রা হোমওয়ার্কগুলো সব শেষ করতে হবে।
টুকটুক মুখ কালো করে খাতার দিকে তাকিয়ে থাকে। অন্যদিন এই সময় সে স্কুলের বন্ধুদের সাথে হুজ্জুকি করে। নতুন নতুন কত খেলা শেখে। কিন্তু ছুটির দিনগুলো তার বড্ড বাজে কাটে।
দুপুরের দিকে মায়ের চোখে যখন একটু ঘুম লেগে আসল, টুকটুক আর বসে থাকতে পারল না। পা টিপে টিপে সে ছাদের সিঁড়িতে গিয়ে দাঁড়ায়। এবাড়ির তার একমাত্র ছোট্ট বন্ধু কাকাতুয়ার খাঁচার সামনে কিছুক্ষণ বসে গল্প করে তার সাথে। এরপর চিলোকোঠার জানালায় মুখ রেখে আকাশের দিকে তাকায়। দেখে সাদা-কালো পায়রার দল গোটা আকাশটাকে মুখর করে উড়ে বেরাচ্ছে। দেখতে দেখতে আনন্দে নেচে ওঠে টুকটুক। হঠাৎ করেই উল্লাসের সাথে সে পিছনের খাঁচা থেকে তার ছোট্ট বন্ধু কাকাতুয়াকে বের করে আনে। তারপর জানালা দিয়ে উড়িয়ে দেয় খোলা আকাশের দিকে। কাকাতুয়ার পাখা ঝাপটানোর শব্দে টুকটুক লাফিয়ে হাততালি দিয়ে ওঠে। সে আজ সত্যি সত্যি বুঝতে পেরেছে স্বাধীনতা দিবসের মানে।