“এই শ্রাবণে আষাঢ়ে গপ্পো” বিশেষ সংখ্যায় শ্রীপর্ণা বন্দ্যোপাধ্যায়

ভিখিরি

স্কুল যাওয়া আসার পথে রোজ দেখে বুড়িটাকে মোড়ের মাথায় অর্জুন গাছটার নীচে গুটিসুটি মেরে বসে ভিক্ষা পাত্র হাতে। পথ চলতি ব্যস্ত মানুষ বিশেষ ভিক্ষা দেয় না। স্কুলের টিফিন ফেরত নিয়ে গেলে মা বকাবকি করেন বলে টোটন উদ্বৃত্ত খাবার আস্তাকুঁড়ে ফেলে দেওয়ার বদলে বুড়ির পাত্রে খালাস করে দেয় বাড়ি ফেরার পথে। খাবার না থাকলে নিয়ম রক্ষার্থে দু-এক টাকার কয়েন অলুমিয়ামের পাত্রটিতে ছুঁড়ে দেয়। এই নিয়ে বন্ধুদের কাছে দয়ার সাগর বিদ্যাসাগর বলে মাঝেমাঝেই একটু আওয়াজও খায়।
ইউনিট টেস্টের আগে জ্বরে পড়ে সাত দিন কামাই হল। কুড়ি নম্বরের এই পরীক্ষা চলার সময় রুটিন অনুযায়ী ক্লাস চলে, বন্ধ থাকে না। ডাক্তার আরও দিন সাতেক বিশ্রাম নিতে বলেছেন। নিয়মমতো আবেদন করে প্রধান শিক্ষকের কাছে অসুস্থতার সৌজন্যে শুধু পরীক্ষা দিয়ে বাড়ি যাওয়ার অনুমতি মিলল।
ইদানিং সকালে যখন সব বন্ধুরা মিলে স্কুল যায়, তখন বুড়িটাকে বসতে দেখা যাচ্ছে না। মায়ের ব্যাকুলতায় পরীক্ষা দিয়েই যেহেতু বাড়ির দিকে রওনা হতে হয় টোটনকে, তাই একাই ফিরতে হচ্ছে কিছুদিন। স্কুল থেকে ফেরার পথে এই বেলার দিকটায় দেখা যায় ভিখিরি মহিলাটি পরিচিত ভঙ্গিতে আগের মতোই বসে। ভালোই হয়েছে। বিদ্যাসাগর টিটকিরি ছাড়াই টোটন ভিক্ষা দিতে পারে।
বিশ্রামের দিন শেষ। আবার সবাই মিলে হৈ হৈ করে স্কুল থেকে বাড়ি ফেরার পালা। বিকেলের দিকে আজ আর ভিখিরিটাকে দেখা গেল না।
“বুড়িটার কি শরীর খারাপ না অন্য কোথাও বিজনেস করছে? আজকাল এখানে সকালে তো দেখি না, দুপুরের একটু আগে বসে, আর বিকেল হতে না হতেই হাওয়া?”
“আজকাল মানে কবেকার কথা বলছিস? ও তো তুই যেদিন থেকে জ্বরে পড়লি তার পরের দিন সকালেই ঐ গাছতলাতেই মরে পড়েছিল। আমরাই তো মিউনিসিপ্যালিটিতে খবর দিয়ে দাহ করালাম।”
ফেসবুক দিয়ে আপনার মন্তব্য করুন
Spread the love

You may also like...

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

কপি করার অনুমতি নেই।