সাপ্তাহিক ধারাবাহিক উপন্যাসে শক্তিনাথ ভট্টাচার্য্য (পর্ব – ১৩)
হোয়াটস্অ্যাপে পরকীয়া – ১৩
[ দু’দিন ধরে অর্কর মুখে একটা আনন্দহীনতা, দুর্ভার, চাপা রাগের লক্ষ্মণ দৃষ্টি এড়ায়নি মণিদীপার।… কথা বলার স্বতঃস্ফূর্ত ভাবটা বেশ কম, একটু অন্যমনস্ক… মোনালির কথায় ও যে আহত হয়েছে, বেশ বোঝা যাচ্ছে।
ওদের দুজনের মধ্যে লেখালিখি, মেসেজ পড়ার আগ্রহ তেমন না থাকলেও মোনালির সব কথাই অর্কর কাছে শোনা… প্রতিদিনই শুনি। মোনালির প্রেম নিবেদন নিয়ে মজাই লেগেছিল! ফেসবুকে এমন হয় শুনেছি।…
মোনালিকে নিয়ে অবশ্য কোন দুর্ভাবনা নেই… কিছু মনেও হয় নি।… অর্ক তো লেখালিখি করে আনন্দ পায়! এবং ওর জীবনে এটা একান্ত প্রয়োজন, সেটা আর কেউ না জানুক, আমি জানি। কিন্তু, এই দু’দিনের মত বিমর্ষ ওকে আগে দেখিনি… বিশেষতঃ, মোনালির সঙ্গে আলাপের পরে!… ও তো বেশ খুশীই ছিল!!
মোনালির ( অর্ক অবশ্য মোহনা বলে ) লেখাও কিছু কিছু পড়েছি। ভালই লেগেছে। বেশ লেখে তো মেয়েটা! নিজে তো এমন লিখতেই পারি না! মোনালির সঙ্গে আলাপ করিয়ে দেবেও বলেছিল অর্ক! হঠাৎ, কী যে ঘটল! অর্কর কাছে সব জানার পর অবাকই হয়েছি… সে কী কথা!!…]
( প্রায়দিনের মত অর্ক ওর সঙ্গে দেখা করার পর বাড়ি চলে গেলে, মণিদীপা অর্কপ্রভকে মেসেজ করল )…
তুমি থাকাকালীন ইচ্ছে করেই বলিনি, মেসেজ করে জানাবো বলে, যাতে তুমি ঠাণ্ডা মাথায় চিন্তা করতে পারো।
দ্যাখো, তোমার মনমেজাজ যে বেশ খারাপ হয়ে রয়েছে সে তো তুমি ভালই বুঝতে পারছো! অথচ, তোমার খুশী থাকাটা খুব জরুরী… শুধু তোমার জন্যে তো নয়… আরো অনেকের জন্যে। আমি তো জানি, আমরা যারা কাছের লোক, তারা ছাড়াও অনেকে তোমার ওপর নানাকারণে নির্ভর করে থাকে। তুমি ভাল না থাকলে, সবারই অসুবিধে হবে।
মোনালি কী লেখে না লেখে তা’ আমার জানার দরকার নেই।… ওকে তো আমি চিনি না, তাই ও ভাল কি মন্দ, সে নিয়েও আমি কিছু বলতে চাইছি না! কিন্তু, এটা তো ঠিক, ফেসবুকে হাজারো রকমের মানুষের ভীড়… কে কেমন, সে তো চট করে জানা যায় না! কাজেই, তোমার মনমেজাজ খারাপ হয়ে যায় এমন কারো সঙ্গে সম্পর্ক না রাখাই ভাল। কিসেরই বা প্রয়োজন!… তুমি সেটা বিবেচনা করে দেখো।
কোন দুর্ঘটনায় পরিচিতরা হারিয়ে যায়, অপরিচিত আপন হয়ে ওঠে। সেভাবেই বহুবছর আমরা একে অন্যের দুঃখ-আনন্দের সঙ্গী। তাই, নতুন কোন দুর্ঘটনা তোমার আনন্দের বাধা হয়ে উঠুক, এ আমি চাই না…
এর চেয়ে ভাল করে বোঝাবার ক্ষমতা আমার নেই। তুমি যা ভাল বোঝ!!
[ মণিদীপার কথায় কী খুব সুক্ষ্মভাবে অন্য কিছু বলার আভাস ছিল!… অর্কপ্রভ বুঝতে চেষ্টা করল।… হতেও পারে… নারীর প্রতি অন্য নারী আর পুরুষের দৃষ্টিভঙ্গি কি একই হয়! ]
( অর্ক মণিদীপাকে লিখল ) :
বুঝলাম 😊… ঠিকই বলেছ… তবে, চিন্তার কোন কারণ নেই… দেখা যাক, কী হয়!
কী জানো! ভাল হয়তো অনেকেই লেখে… কিন্তু, তাতেই তো কারো সঙ্গে নিয়মিত লেখালিখির সম্পর্ক গড়ে ওঠে না!… সেটার জন্যে দু’তরফেই কিছু ভাললাগার মিল থাকা চাই… সময় পাওয়া চাই… যোগাযোগ হওয়া চাই…!
তাছাড়া, মোহনার মধ্যে একটা এক্সফ্যাক্টর আছে… সেটা ভাল হোক বা মন্দ হোক… অন্য সবার মধ্যে থাকে না।… সেটাকে মেনে না নেওয়া যেতে পারে কিন্তু, উপেক্ষা করা যায় না।… তার মানে এই নয় যে, ওর সব কিছু মেনে নিতে হবে!… মেনে নিইনি তো!… সেটা ও বুঝেছে হয়তো, তাই শুধরে নিতে চাইছে। এরপরে, আমি সাড়া দেব কিনা, সেটা অন্য প্রশ্ন।… দেখা যাক।
তুমি চিন্তা কোর না।
[ মোহনার লেখাগুলি বার বার পড়ল অর্কপ্রভ। উত্তর দেওয়া হয়নি। তবে, আগের চেয়ে রাগটা অনেক কমেছে। কেউ ক্ষমা চাইলে রাগটা কমে গিয়ে একটা নিরাসক্তভাব আসে, কিন্তু, বেদনাটা চট করে যায় না।
“স্নেহ অতি বিষম বস্তু”… প্রেমও। স্নেহ, প্রেম, দয়া, মায়া, মমত্ব প্রভৃতি মানসিক বৃত্তিগুলি কারো প্রতি একবার জাগ্রত হলে চট করে ফিরিয়ে নেওয়া যায় না… নেশার মত… ছাড়তে গেলে বেদনা হয়ে লেগে থাকে।
বিষ তো সবাই জেনেশুনেই পান করে… প্রাণ বিপন্ন হতে পারে জেনেও সবাই প্রাণ সঁপে দেয়।… রবিঠাকুরেরই কথা!…
যারা দিতে পারে না, তারা ভালবাসতে পারে না, প্রেম করা তাদের সাজে না। ]
( মোহনার আত্মবিশ্লেষণ অর্কপ্রভকে কিছুটা বিমূঢ় করেছে… শেষপর্যন্ত অবশ্য মোহনাকে লিখল…) :
লেখাগুলি পড়লাম।
এমন যে হবে, আমি তো ভাবিইনি… তবু যা ঘটে গেল, তাতে আমার মনের বেদনা এখনো কাটেনি… একটা আশঙ্কা থেকেই যাচ্ছে যেখানে নতুন কোন বেদনার সম্ভাবনা ওত পেতে আছে।
( অনেকক্ষণ কেটে গেলেও মোহনার কোন উত্তর আসেনি। এই সময় ও নেটে আসতে পারে না। তবে, উত্তর এল, অনেক পরে একটি ভিডিওর মাধ্যমে ) ঃ-
একটি ভিডিও পাঠালাম… তাতে কিছু বক্তব্য রাখলাম :
<<< বেদনাকে ভয় পাচ্ছেন? সেই কবে দাড়িবুড়ো বলে গেছেন, “ঝড় যে তোমার জয়ধ্বজা, তাই কে জানে “…
বেদনা আসলে অন্তঃকরণকে শুদ্ধ করে… তাতে ভয় কি?… এলই না হয়!!…
কত কিছু বলার ছিল…
একটা শব্দ লেখার সময় একরকম, আপনি যখন পড়লেন তখন একরকম, আবার আমি যখন বললাম, তখন আপনার মনেহবে, আরেঃ, এমন তো ভাবিনি!… তেমন আর কি!!… ভাববেন না, কৈফিয়ত দিচ্ছি… নিজের ভাব ব্যক্ত করছি মাত্র!… কেনকি, আমার ভারি কষ্ট হচ্ছে… সত্যি।… না তো কিছু ভাল করে করতে পারছি, আর না-ই আমার ভাল লাগছে।
… ভালবাসি।… আমার কষ্ট হচ্ছে না!?… তার মধ্যে তো সব করতে হয়েছে!… আজ মেয়ের আঁকার ক্লাস ছিল, দুটো টিউশন ছিল… সব নিতে হয়েছে… কিচ্ছু ভাল লাগছিল না… কিচ্ছু না… আর কষ্ট দেব না… কথা দিলাম। >>>
মেয়েকে খাইয়ে পরে আসছি।
[ ছায়াবার্তাটি কয়েকবার দেখল অর্কপ্রভ।
মণিকে এটাই বলেছিলাম যে, মোহনা যেটা পারে, সেটা অন্যেরা করতে পারবে না।… অন্যেরা এইভাবে হয়তো ছায়াবার্তা পাঠাতো না!
যে কথা লেখনী দিয়ে বোঝানো যায় না, সে কথাই দূরভাষ বা ছায়াবার্তার মাধ্যমে সহজেই অন্তরে প্রবেশ করতে পারে। কারণ, ধ্বনি বা চিত্র ইন্দ্রিয় দ্বারা গৃহীত হয়, তাতে ভাবের প্রত্যক্ষ উপস্থিতি থাকে… তাই তাতে বাস্তবের ছোঁয়া আসে… কিন্তু, লেখনী কোন ইন্দ্রিয়তে বাসা বাঁধে না… চোখের মাধ্যমে সে সোজা অন্তঃপুরে চালান হয়… সেখানে তার ভাবের উন্মোচনে অন্তর্জগতে আলোড়ন উঠলেও ইন্দ্রিয়গত বাস্তবতা তার নেই। ]
( অর্কপ্রভ মেসেজ করল) :
তবে কী জানো, দুটি শব্দের মধ্যে সন্ধি হতে গেলে, শুধুই ব্যঞ্জনবর্ণ হলে হবে না। স্বরবর্ণের প্রভাব থাকতেই হবে। তবেই একটি নতুন শব্দ নতুন সত্ত্বা নিয়ে হাজির হয়। জীবনের সব ক্ষেত্রেই এটা ঘটে।… বন্ধুত্ব, প্রেম, ভালবাসা সন্ধির মাধ্যমে নতুন অর্থ বয়ে আনে এভাবেই। কিন্তু, আমরা সবাই শুধুই ব্যঞ্জনবর্ণের নিজস্বতায় প্রকাশিত হতে চাই… আন্তরিকতা, নমনীয়তা, সহনিয়তা প্রভৃতি স্বরবর্ণের অভাবে সন্ধিস্থাপন তাই আর হয়ে ওঠে না!!
যাক গে।… এখন অবশ্য লেখার চেয়ে তোমার ছায়াবার্তা ক্ষতিগ্রস্ত মনে খানিকটা বেশী শান্তির বার্তা দিতে পারছে।… কিন্তু, এখনও পুড়ে যাচ্ছি।
মোঃ : sorry… আর কক্ষনো না বিবেচনা করে কিচ্ছু বলবো না… কথা দিলাম !
sorry গো… আমি এখনো বেজায় অবুঝ… বুঝের বোঝা বইতেই শিখিনি বুঝি ঠিক করে… তবে ওই স্নেহের পরশটুকু আমার মাথায় থাকুক আজীবন… ব্যস.. আর কিচ্ছু চাইবো না 🙂
প্রিয় কাউকে কষ্ট দেওয়ার কষ্ট যে বহুগুণ হয়ে নিজের বুকেই বেঁধে… সে কি আপনি জানেন…!?
সে প্রায়শ্চিত্ত করছি যে… আর কি করতে হবে বলবেন… 🙂
অঃ : বেশ।… গোপন জবানবন্দী বিবেচনা করে অপরাধের শাস্তিটা ‘ফাঁসি’ থেকে ‘যাবজ্জীবন কারাদণ্ড’ করা যেতে পারে। কিন্তু জামিন দেওয়া যাবে না। তার Point to point ব্যাখ্যা সময়মত দেওয়া হবে।
মোঃ : যাবজ্জীবন কারাদণ্ড বুকের ভিতর তো..!? 😊😊😊
অঃ : বুকে রাখব কি জেলখানায় তা,এখনো ভাবা হয়ে ওঠে নি।
মোঃ : 🙂…. আচ্ছা!
জেলখানাই সই… তবে মাঝে মাঝে তার সাক্ষাতের অবকাশ যেন থাকে তাতে… অন্ধ কুঠুরির ঘুলঘুলি দিয়ে আসা আলোর মতো… নইলে বাঁচবো কি করে…!?
অঃ : শাস্তি দেওয়ার আগে আসামী কতটা শাস্তি চায়, তার একটা আবেদন রাখার নিয়ম আছে।
কিন্তু, যাবজ্জীবন বুকে থাকার কথা বলে, পরে শুধরে নিয়ে, মাথায় স্নেহের হাত থাকা চাইলে, সেটাও ভেবে দেখা হবে। খুব বিবেচনা করে কথা বলাই ভাল।
মোঃ : শাস্তির কি আর কম-বেশি হয়…. !? যাই হোক মাথায় করেই মেনে নেবো না হয়…! 🙂
অঃ : লেখা শুরু হোক। আবেদন জমা পড়ুক!… ভেবে দেখা হবে।
আমি বুঝতে পারি না তোমাকে,
কখনো সাগরের ঢেউ নিয়ে আস,
কখনো হারিয়ে যাও নদীর বাঁকে!!!
মোঃ : ডাক্তারবাবু, কেন জানিনা হারিয়ে যেতেই ইচ্ছে করচ্ছে… আর, মনেহচ্ছে, তুমি তো আছ!!
নদীর বাঁকে হারাই যেই
উথাল যতো অলস ঢেউ
(দেখি) বুকের পরে সাগর ধরে
বাড়িয়ে দু’হাত দাঁড়িয়ে কেউ… 🙂।।
তবে, আমার শাস্তির কি হলো… সেটাও তো জানতে হবে…!? 🙂
অঃ : তোমাকে ক্ষমা করা যায় না, যাবজ্জীবন হৃদয়ে বন্দী হয়েই থাকতে হবে।
মোঃ: বেঁচে গেলাম তবে…!? ফাঁসীকাঠে মাথা দিতে হলোনা এ যাত্রায় আর…. 🙂
ক্ষমা না করলে ভালোবাসা যাবে কি করে…!? আদর করা যাবে কি করে… শুনি…!? 🙂
অঃ : যে শাস্তি দেওয়া হল, তার বোঝাও কম নয়। সারাজীবন বন্দী হয়ে থাকতে পারবে তো!?
ভরসা করার জায়গাটাই তো টলিয়ে দিয়েছিলে! বলেছিলাম না, ‘ভরসা’ যেটা ভালবাসার প্রধানতম শর্ত, তারও দায় থাকে, বোঝা বইতে হয় , নইলে টলে যেতে পারে।
মোঃ : আর করবো না তো বলেছি….🙂
শুনুন… যদি কখনো অন্যায় করি… অনেক বকবেন… যা শাস্তি দেবেন মাথা পেতে নেবো…. কিন্তু দূরে ঠেলে সরিয়ে দিয়ে নয়…. please…
তেমন ব্যবহার তো প্রতিবেশীর সাথে চলতে পারে… ভালোবাসার মানুষটির সাথে চলে কি….!?
আর সে যদি খানিক অবুঝ, কিঞ্চিৎ গোলমেলে হয়… আমার মতো….!? তবে তাকে বোঝানোর দায় নেই আপনার….!?? 🙂
অঃ : দায় ততক্ষণই থাকে যতক্ষণ না-বোঝা থাকে… যদি কোনদিন তোমার মনেহয়, বুঝে কোন সিদ্ধান্ত নিয়েছ, সেদিন আর দায় থাকবে না।…
তবে, এই ছায়াবার্তা, এই কথাবার্তা, এগুলি যেন চিরকালের দলিল হয়ে থাকে, আর যেন ‘মজা করছিলাম’ মনে না হয়।
একটা কথা খুব সোজাসুজি বলি,… তোমার যদি পিতৃস্নেহ প্রয়োজন হয়, তাহলে আমি বোধহয় তোমার উপযুক্ত ব্যক্তি নই, কেননা, বয়সের ধার যাতে ধারতে না হয়, তাই মনের কাছে আমি আমার যৌবনকে বন্ধক দিয়ে রেখেছি।…স্নেহ থাকলেও পিতৃত্বের কাছে সে তা ফিরিয়ে দেবে না। 😊
স্নেহের পরশের কথা বলেছিলে….জেনো, ‘ভালবাসা’ মাঝামাঝিতে থেকে সব কিছু বহন করতে পারে। স্নেহ একদিকে, শ্রদ্ধা আরেক দিকে। অন্যান্য আর সবকিছু… মায়া, মমতা, সমীহ, সম্মান, প্রভৃতিরা একপেশে… যে কোন একদিকে থাকে।
মোঃ : স্নেহ কি শুধু বাবা-ই করেন…!? আর কারোর করতে নেই বুঝি… 😊
তবে, হঠাৎ যার এক বুক ভালোবাসার হদিস পেয়ে কেমন বিহ্বল হয়ে সারা রাত ধরে তাকে চেয়েছি… সে তো অবশ্যই সেই মোহ… যাকে পুরুষালি আদর বলে… প্রেম বলে… যাতে ডুবে গিয়ে বাঁচা যায় বারবার… তেমন…
অঃ : এই জন্যেই কাল সাড়া দিইনি, আজ দিলাম… কেন জানো!?… গতকালের যত লেখা, সবই ছিল সেন্টিমেন্টাল ; সেজন্য উত্তর দিতে ইচ্ছে করেনি; আজকের লেখাগুলিতে অনুশোচনা, অনুতাপ এবং সমর্পণ ছিল। তাই avoid করতে পারলাম না।
মোঃ : সমর্পণ তো আছেই… নইলে ভালোয় বাস হয় না যে… 🙂
আচ্ছা!!… উত্তর না দিয়ে চুপ করে যেতে একতিলও কষ্ট হতো না….!?
অঃ: 😊 হেঁয়ালী ছাড়ো।… পরিষ্কার জেনে রাখো, আমি সন্তানও হতে পারি, পিতার ভূমিকায়ও থাকতে পারি, কিন্তু মূলতঃ পুরুষ এবং প্রেমিক। তোমাকে আমি সেভাবেই পেতে চাইব। হ্যাঁ অবশ্যই, বাস্তবতাকে অস্বীকার না করে।
মোঃ : আমি তো রাজি আছি… ভালোবাসা অবর্ণনীয় এক স্নেহেরও জন্ম দেয়… বুঝি নারীদের ক্ষেত্রে খানিক বেশি… তাই সে ছায়ারও অভাব হবে না… সে ছায়ায় আপনাকে ঢেকে দেবো…
অঃ : এরপরে কি আমার একটু আদর করতে ইচ্ছে করবে না!! একটা চুমু দিতে ইচ্ছে করবে না!!!😊
আপনির সীমানাটা ডিঙোতে কি চাইছ না?
মোঃ : 🙂😊😊
যখন যেমন ইচ্ছে তখন তেমন বলবো না হয়…
আগেকার দিনে কিন্তু আপনি করে বলার রীতি ছিলো… তেমনই না হয়… 😊
সীমানাটা না ডিঙোলে বুকে টেনে নেওয়া যাবে না বুঝি….!? 🙂
অঃ : যে বুকে থাকতে চায়, তাকে কি সরিয়ে দেওয়া যায়?
মোঃ : দিব্যি তো পাকাপাকি ব্যবস্থা করে তাকে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছিলো …. শাসন না করে… সে বেলা…!? 🙂
রাতে কিন্তু বুকে আমি থাকবো… 🙂… বাকি যারা আছে তারা সারাদিনের কর্মব্যস্ততা, কোলাহলে থাকুক… তবে নিভৃত সময়টুকুতে কারোর সাথে ভাগাভাগি মোটেই সহ্য হবে না আমার… মনে থাকে যেন… ! 😊
অঃ : আচ্ছা। তাই হবে।
আকাশে প্রত্যেকের স্থান আলাদা। সকাল থেকে রাত, পুব থেকে পশ্চিম, বিভিন্ন দ্রাঘিমাংশে বিভিন্ন তারা ফুটে না হয় থাকলই!!… তাতে তোমার কি!!?… তোমার মনে ভার থাকবে কেন!?
মোঃ : আর, লাঘব না হলে কি হবে!?
তবে জন্মেছি যখন… মরতে তো হবেই, ফের জন্মাবার জন্য… তাই ভয় পাই না… 🙂
অঃ : আর, তুমি একই সঙ্গে দু’জায়গায় থাকবে কি করে!?
মোঃ : স্থুলভাবে তো থাকতেই হবে এখানে… হাওয়া হয়ে চলে যাওয়া যাবে না… 🙂
তবে মনের গতি তো আলোর চেয়েও বেশি… তাকে আটকায়…. কার সাধ্য…!?
আচ্ছা…. বুকে যদি আরো একরাশ মানুষ থাকতে চায়… তবে কি হবে…!? আমায় তো উদ্বাস্তু হতে হবে তবে … হা হা…
অঃ : অন্যদের সেটা পারা খুব মুস্কিল। আমার সে দায় আর নেই।
মোঃ : কি পারা মুস্কিল…!?
অঃ : স্থুলভাবে কারো আমার বুকে থাকা… সে আর সম্ভব নয়।
মোঃ : মানে!?… কিছু বুঝতে পারছি না তো!!
অঃ : সে উত্তর তুমি পাবে। কাল কোলকাতার বাইরে, দূরে, চেম্বার আছে… দেখি, কাল ট্রেনে যেতে যেতে যদি উত্তর দেওয়া যায়!
মোঃ : বেশ।… উৎকণ্ঠায় রইলাম।
” মহেলো মে পলি, বনকে যোগন চলি… “
….. বুঝলেন….!? 😊